জানুয়ারি ২৭: জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছুং ২৬ জানুয়ারি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক আইনের শাসন-বিষয়ক প্রকাশ্য বিতর্কে বক্তব্য দেন। তিনি জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা দৃঢ়ভাবে রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের কর্তৃত্ব অটুট রাখার তাগিদ দেন।
ফু ছুং বলেন, জাতিসংঘ সনদ হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নির্দেশিকা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সব দেশের একে অপরের প্রতি সমান আচরণ করা উচিত, একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত, শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নীতি মেনে চলা উচিত, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকির বিরোধিতা করা উচিত এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার এই ‘সোনালী নীতি’ মেনে চলা উচিত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সব দেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এর কোনো ব্যতিক্রম নেই এবং থাকা উচিতও নয়। আমরা কখনই মনে করি না যে কোনো দেশ আন্তর্জাতিক পুলিশের ভূমিকা পালন করতে পারে, অথবা কোনো দেশ নিজেকে আন্তর্জাতিক বিচারক হিসেবে দাবি করতে পারে তা আমরা মানি না। বিশ্বকে আবারো প্রকৃতির নিয়ম ‘জোর যার মুল্লুক তার’-এ ফিরে যাওয়া উচিত নয়। বড় দেশগুলোর উচিত নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করা, দ্বৈত মানদণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং নিজ দেশের ইচ্ছা অন্যের ওপর চাপিয়ে না দেওয়া। বিশ্বের বহুমেরুকরণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্রায়ন একটি অপরিবর্তনীয় যুগ-প্রবণতা। বিশ্বের ভাগ্য সব দেশের সম্মিলিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, আন্তর্জাতিক নিয়ম সব দেশের সম্মিলিতভাবে প্রণয়ন করা উচিত এবং উন্নয়নের সুফল সব দেশের সম্মিলিতভাবে ভোগ করা উচিত।
ফু ছুং উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সবচেয়ে সর্বজনীন, প্রতিনিধিত্বমূলক ও কর্তৃত্বসম্পন্ন আন্তঃসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই জটিল হোক না কেন, জাতিসংঘের কর্তৃত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করা ততই জরুরি। সব পক্ষের উচিত জাতিসংঘের প্রতি ‘উপযোগী হলে ব্যবহার করা, অন্যথায় পরিত্যাগ করা’—এই মনোভাব গ্রহণ না করা, জাতিসংঘকে বাদ দিয়ে নতুন কিছু শুরু করাও উচিত নয়। নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব বহন করে এবং এর অবস্থান ও ভূমিকা অপরিবর্তনীয়।
ফু ছু আরো বলেন, চীন আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের একজন দৃঢ় রক্ষক। চীন অন্যান্য দেশের সাথে একত্রে মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গঠনের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন শক্তিশালীকরণ ও বিশ্বশান্তি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে নতুন অবদান রাখবে।
(স্বর্ণা/হাশিম/লিলি)
আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের কর্তৃত্ব দৃঢ়ভাবে রক্ষার তাগিদ চীনা প্রতিনিধির
Stay Connected:
Our Editorial Standards
We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.
Fact-Checked
Every claim is verified by our editorial team before publication.
Expert Review
Content reviewed by subject matter experts for accuracy.
Regularly Updated
We update content to reflect the latest developments.
Unbiased Coverage
We present balanced perspectives and multiple viewpoints.