মে ২৬, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পাতার কাজে ব্যবহৃত নৌযানের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড।
কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।”
তিনি জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং এমন কিছু ইরানি নৌযান, যেগুলো সমুদ্রপথে মাইন পাতার চেষ্টা করছিল। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র সংযত অবস্থান বজায় রেখে নিজেদের বাহিনীকে রক্ষা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হামলাগুলো চালানো হয় ইরানের বন্দর নগরী আব্বাস এলাকায়, যেখানে দেশটির প্রধান নৌঘাঁটি অবস্থিত। এতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের দুটি নৌযান ধ্বংস এবং একটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। তবে আহতের মোট সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দুটি ইরানি নৌযানকে মাইন পেতে রাখতে দেখা যায় এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়েছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র আত্মরক্ষামূলক হামলা চালায়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ও শক্তিশালী সামরিক হামলা চালাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হলে তা ধ্বংস করা হবে—হোক তা ইরানের ভেতরে কিংবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য স্থানে।
তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান বিদেশে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠাতে সম্মত হয়নি। ইরান তাদের ভূখণ্ড থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে প্রস্তুত—এমন খবরও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।
একই সময়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক সমঝোতা অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে।
নাহার/হাশিম
তথ্য ও ছবি-সিনহুয়া।