Wednesday, June 10, 2026
Live

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দায় একাধিক দেশ, কূটনৈতিক পথে ফেরার আহ্বান

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দায় একাধিক দেশ, কূটনৈতিক পথে ফেরার আহ্বান

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া, স্পেন, ফ্রান্স ও ওমানসহ একাধিক দেশ। এ সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং অনেক পক্ষই সংযম প্রদর্শন ও উত্তেজনা আর বৃদ্ধি না করার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি ‘হতাশ’। তিনি বলেন, “গঠনমূলক ও গুরুতর আলোচনা আবারও নষ্ট করা হলো।” ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলা ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং বিশ্বশান্তি—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর’। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যৌক্তিক আচরণ ও সংযম প্রদর্শনের এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানান। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রোদ্রিগেস বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা ‘ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে’।

এই পদক্ষেপকে তিনি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে উল্লেখ করেন। ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানের ওপর চালানো এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এটি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ওপর একটি আগ্রাসন এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ ‘আগ্রাসনের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।

ইয়েমেন সরকার সতর্ক করে বলেছে, ইয়েমেনের ভূখণ্ডকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলার ক্ষেত্র (প্ল্যাটফর্ম) হিসেবে ব্যবহারের কোনো চেষ্টা করা যাবে না; এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ ইয়েমেন ও ইয়েমেনের জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই বিপজ্জনক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ধ্বংসের সমস্ত দায়ভার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে। জর্ডানের সরকারি মুখপাত্র মুহাম্মদ মুমানি বলেন, জর্ডানের অবস্থান স্পষ্ট: আঞ্চলিক উত্তেজনা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। জর্ডান কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে জড়াবে না।

এই অঞ্চলের সংঘাতে জর্ডান কোনো পক্ষ নয় এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অনুমতি তারা কখনোই দেবে না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, স্পেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গৃহীত একতরফা সামরিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে। এটি উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে বলে তিনি মনে করেন। এ ছাড়া ব্রিটেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের সরকার জানিয়েছে, তারা বর্তমান পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সব পক্ষকে সংযম দেখাতে ও পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করতে আহ্বান জানিয়েছে।

জিনিয়া/তৌহিদ/তুহিনা

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.