Wednesday, June 10, 2026
Live

‘ইয়ুননানের এক সপ্তাহ মনে থাকবে বহুকাল’

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
‘ইয়ুননানের এক সপ্তাহ মনে থাকবে বহুকাল’
আফরিন মিম ডিসেম্বরের শীত শীত সকালে বাংলাদেশের পাঁচ তরুণ ব্লগার যখন চীনের ইয়ুননান প্রদেশে পা রাখেন, তখন তাদের চোখে ছিল কৌতূহল। সেই কৌতূহলই ধীরে ধীরে রূপ নেয় বিস্ময়, উপলব্ধি আর গভীর অভিজ্ঞতায়। ৮ থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ মাত্র এক সপ্তাহের এই সফর তাদের মনে গেঁথে দেয় ইয়ুননানের মানুষ, সংস্কৃতি আর উন্নয়নের বৈচিত্র্যময় গল্প। ইয়ুননান মিডিয়া গ্রুপ (ইয়ুননান রেডিও ও টেলিভিশন স্টেশন)-এর আয়োজনে এই সাংস্কৃতিক বিনিময় সফরে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষার শিক্ষক নিলু আক্তার। ভাষা ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধনে তার ভূমিকা ছিল পুরো সফরজুড়ে পথপ্রদর্শকের মতো। খুনমিংয়ের সবুজ পাহাড়, চিনিংয়ের ইতিহাস আর ছুচিংয়ের আধুনিক উন্নয়ন—প্রতিটি শহরে ছিল স্বতন্ত্র গল্পবলার পালা। ব্লগাররা হেঁটেছেন সেইসব ঐতিহাসিক স্থানে, যেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিখ্যাত নাবিক চং হ্যয়ের নাম। ইতিহাসের পাতায় পড়া চরিত্র যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল তাদের চোখের সামনে। সফরের বড় অংশজুড়ে ছিল আধুনিক ইয়ুননানকে দেখা ও বোঝা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তরুণ শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা, হাসপাতালের স্মার্ট সেবা, প্রযুক্তি অভিজ্ঞতা কেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার—সবই যেন চীনের প্রতি নতুন করে চোখ খুলে দিল ব্লগারদের। বিশেষ করে আধুনিক কৃষি খামারগুলোতে গিয়ে তারা দেখেছেন, কীভাবে প্রযুক্তি আর পরিকল্পনার সমন্বয়ে কৃষক, উদ্যোক্তা ও সরকার মসৃণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে ইয়ুননানের মানুষ। আধুনিক শহরের মাঝেও ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা, লোকজ সংস্কৃতি আর জীবনযাত্রার সরলতা মন ছুঁয়ে দিয়েছে ব্লগারদের। তারা অনুভব করেন, এখানে উন্নয়ন মানে শুধু অট্টালিকা নয়, বরং শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকেই এগিয়ে চলা। সফর শেষে প্রত্যেকেই একমত এই অভিজ্ঞতা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি দিয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য ইয়ুননানের এই দেখা-শোনা, শেখা আর অনুভবের গল্পগুলো বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা। তাইইউয়ান স্কি রিসোর্টে বাড়ছে ভিড়, চাঙা আইস-স্নো অর্থনীতি ফয়সল আবদুল্লাহ তাইইউয়ানের ছাইওয়ে ম্যানর স্কি রিসোর্টে ভিড়ই প্রমাণ করে, চীনের আইস-স্নো অর্থনীতি এখন বেশ ভালো অবস্থায় আছে। শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটারের একটু বেশি দূরে থাকা রিসোর্টটি নভেম্বরের শেষ দিকে খুলেছে। এরপর থেকেই এটি শীতকালে মানুষের প্রিয় ঘোরার জায়গা হয়ে উঠেছে। রিসোর্টটিতে নতুন ও অভিজ্ঞ—সব ধরনের স্কিয়ারদের জন্য সাতটি আলাদা স্লোপ রয়েছে। রাতের বেলাতেও স্কিইং করার সুবিধা আছে। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক ফু ছিওং জানান, নতুন বছর ও বসন্ত উৎসবের ছুটিতে দর্শনার্থী আরও বাড়বে। বিশেষ করে কিশোরদের সংখ্যা বাড়ছে। স্কিইং শুধু বিনোদন নয়, শরীরচর্চারও ভালো উপায়। স্কিয়ার পেং হুই বলেন, ‘এই শীতে আলপাইন স্কিইং করেছি, পুরো অভিজ্ঞতাটা খুব উপভোগ করেছি।’ স্থানীয় বাসিন্দা ছেন চিয়ানশিন বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি একটু ঘোরাঘুরি ও বিশ্রামের জন্য। স্কিইং করলে বাচ্চাদের সাহস ও ধৈর্য বাড়ে।’ এই রিসোর্টের সাফল্য আসলে সারা চীনের চিত্রই দেখায়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২০২৫ মৌসুমে চীনে আইস-স্নো খাতে খরচ হয়েছে ১৮৭.৫ বিলিয়ন ইউয়ান, যা আগের বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশের বেশি। এই সময়ে প্রায় ৫২০ মিলিয়ন মানুষ আইস-স্নো পর্যটনে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি করছে। এখানকার শতাধিক কর্মীর বেশিরভাগই কাছের গ্রামের মানুষ। তারা তুষার তৈরি, নিরাপত্তা ও সেবামূলক কাজে কাজ করছেন। ফু চিওং বলেন, “আমরা ভবিষ্যতে আইস ও স্নো খেলাধুলার মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন আরও এগিয়ে নিতে চাই।” এজন্য রিসোর্টে নতুন আইস অ্যান্ড স্নো সেন্টারসহ আরও উন্নয়ন কাজ চলছে, যাতে এটি সারা বছরই আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.