ফেব্রুয়ারি ৫, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক উত্থান চীনের শ্রমবাজারে আনছে পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কেবল চাকরি হারানো বা নতুন চাকরি সৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এআই একদিকে তৈরি করছে সম্পূর্ণ নতুন পেশা, অন্যদিকে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রচলিত বাধাও কমাচ্ছে। আবার কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ করছে, যাতে তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেন।
চীনের আনহুই প্রদেশের রাজধানী হ্যফেইয়ের শুনফেই হেলথকেয়ারের কার্যালয়ে হু পিংপিং এখন প্রতিদিন বিশ্লেষণ করেন—একটি মেডিকেল লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল কীভাবে জটিল রোগ নির্ণয় করছে। আগে তিনি ছিলেন পাকস্থলী ও অন্ত্ররোগ বিশেষজ্ঞ। পাঁচ বছর আগে তিনি এআই ট্রেইনার হিসেবে যুক্ত হন।
এই পরিবর্তন চীনের পেশাগত পরিমণ্ডলের বৃহত্তর রূপান্তরের প্রতিফলন। এআই কনটেন্ট অ্যানোটেটর, এআই প্রোডাক্ট ম্যানেজার কিংবা এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত অ্যানিমেটরের মতো নতুন পদও বাড়ছে দ্রুত।
পিডব্লিউসির ২০২৫ গ্লোবাল এআই জবস ব্যারোমিটার অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় সব এআই-সম্পর্কিত পদের চাহিদা বাড়ছে এবং এআই দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরা গড়ে ৫৬ শতাংশ বেশি বেতন পাচ্ছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।
চীনের অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম চাওপিনের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশটির এআই খাতে চাকরির বিজ্ঞাপন বছরওয়ারি ১৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে অ্যালগরিদম ইঞ্জিনিয়ার, মেশিন ভিশন বিশেষজ্ঞ ও রোবটিক্স অ্যালগরিদম ডেভেলপারদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
উৎপাদন লাইনে কাজ করছে মানবাকৃতি রোবট, কৃষিক্ষেতে ব্যবহৃত হচ্ছে স্মার্ট যন্ত্র, সংবাদকক্ষেও কাজের গতি বাড়াচ্ছে এআই। আবার এসবের মধ্যে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে অনেকের জন্য এক পেশা থেকে অন্য পেশায় যাওয়াটাও কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিকভাবে জ্ঞান ও দক্ষতা নবায়নই গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঢেউ ছুঁয়ে গেছে উহানের ঐতিহাসিক হানচেং স্ট্রিটকেও। ৫০০ বছরের পুরনো এ বাণিজ্যকেন্দ্র সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের পর চীনের প্রথম ক্ষুদ্র পণ্যের বাজার হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখানে আয়োজিত এক এআই প্রশিক্ষণে ৫০ জন স্থানীয় পোশাক ব্যবসায়ী অংশ নেন।
ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে এআই উদ্যোক্তা হওয়া ইয়াং চিয়ান বলেন, এআই এখন একটি ‘সুপার টুল’, যা নকশা, উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত পুরো পোশাকশিল্পকে বদলে দিচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে এআই ব্যবহারে সহায়তা করছেন।
একই সঙ্গে, এআই চীনে এক ব্যক্তি-ভিত্তিক কোম্পানি বা ওয়ান পারসন কোম্পানি (ওপিসি) গড়ে তোলাকে সহজ করছে। কনটেন্ট তৈরি, পরিচালনা ও সেবা প্রদানে এআই টুল ব্যবহার করে একজনই চালিয়ে নিচ্ছেন সম্পূর্ণ টিমের কাজ।
মাইক্রোসফট চীনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ওয়েই ছিং বলেন, ভবিষ্যতে এআই ব্যবহার করে উদ্যোগ শুরু করা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করা একটি মৌলিক দক্ষতায় পরিণত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কল্পনাশক্তি, নান্দনিক বোধ, সমালোচনামূলক চিন্তা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাই মানুষের অনন্য শক্তি। ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চাং চুনপিং বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে একাধিক পেশার সমন্বয়ে গড়া ‘স্ল্যাশ ক্যারিয়ার’ গুরুত্বপূর্ণ হবে।
চীনের জাতীয় ‘এআই প্লাস’ উদ্যোগ এআই দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও পুনঃকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। মানবসম্পদ ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এআইয়ের কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলায় একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
ফয়সল/জেনিফার
তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া
চীনে একক উদ্যোক্তাদের শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন আনছে এআই
Stay Connected:
Our Editorial Standards
We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.
Fact-Checked
Every claim is verified by our editorial team before publication.
Expert Review
Content reviewed by subject matter experts for accuracy.
Regularly Updated
We update content to reflect the latest developments.
Unbiased Coverage
We present balanced perspectives and multiple viewpoints.