সেপ্টেম্বর ২৬: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তার স্ত্রী ফেং লি ইউয়ান হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে এক চা-চক্রে অংশ নেন।
স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে আয়োজিত এ চা-চক্রে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্তর্নিহিত বিষয় আরও সমৃদ্ধ করার এবং যৌথভাবে ‘সম্মান, ন্যায্যতা ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মত হন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
সি চিন পিং উল্লেখ করেন, এটি ১১ বছর পর ওয়াশিংটনে তার পুনরায় রাষ্ট্রীয় সফর। এবারের সফরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্তর্নিহিত বিষয় আরও সমৃদ্ধ করেছে। একইসঙ্গে দুই পক্ষ ‘সম্মান, ন্যায্যতা ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক’ যৌথভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রেও পারস্পরিক উপকারী ফলাফল অর্জিত হয়েছে, যা দুই দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এবং এটিই ইতিহাসের স্বাভাবিক প্রবণতা। তবে সেই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে যাত্রা সবসময় মসৃণ হবে না। বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ আসবে, যা যেকোনও সম্পর্ক ও বিষয়ের বিকাশের স্বাভাবিক নিয়মেরই অংশ।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইতিহাসের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সাহস নিয়ে চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়নের ইতিহাসে একটি গভীর ও উজ্জ্বল অধ্যায় লিখতে চাই।’
ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের এই রাষ্ট্রীয় সফর ছিল গঠনমূলক ও অত্যন্ত সফল। দুই পক্ষের মাঝে চীন-মার্কিন সম্পর্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে গভীর মতবিনিময় হয়েছে এবং অনেক ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হয়েছে। এসব ফলাফল দুই দেশের জন্যই উপকারী।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে এবং যৌথভাবে চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়নের পথ পরিচালনা করতে আগ্রহী।
চা-চক্রের পর সি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভ পরিদর্শন করেন। তারা আর্কাইভের কেন্দ্রীয় হলে প্রবেশ করে সেখানে প্রদর্শিত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের পরিচিতি শোনেন।
সি চিন পিং বলেন, আর্কাইভে পূর্বপুরুষদের প্রজ্ঞা সংরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতের জন্য সেখান থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। ২৫০ বছর ধরে মার্কিন জনগণ ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ অনুসরণ করে উত্তর আমেরিকা মহাদেশে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ এবং সুন্দর আবাসভূমি গড়ে তুলেছে। চীনা জনগণও পাঁচ হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উত্তরাধিকারসূত্রে ধারণ করে চীনা জাতির মহান পুনরুত্থানের ‘চীনা স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের নতুন যাত্রায় ধারাবাহিকভাবে নতুন অর্জন করছে।
তিনি আরও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের দেশ। দুই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক ব্যবস্থা ও উন্নয়নের পথ ভিন্ন হলেও উভয় দেশের মানুষের সুন্দর জীবনের আকাঙ্ক্ষা অভিন্ন। তাই একে অপরের পার্থক্যকে স্বীকার ও সম্মান করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো এবং পরস্পরের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে, সহযোগিতার তালিকা আরও বড় করতে হবে এবং মতপার্থক্য যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এভাবেই চীন-মার্কিন সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী ও স্থিতিশীল হতে পারে।
(স্বর্ণা/ফয়সল/আনন্দী)
视频丨习近平和彭丽媛同美国总统特朗普夫妇茶叙
当地时间9月25日上午,国家主席习近平和夫人彭丽媛同美国总统特朗普和夫人梅拉尼娅在白宫举行茶叙。