জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া আরোপ করা একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে চীন। একইসঙ্গে নিজেদের উন্নয়নমূলক স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে দেশটি। শনিবার রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিল পাসের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতি অনুযায়ী, শুক্রবার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত বিলে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আইনের আওতায় রাশিয়ার ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণ, নতুন শুল্ক আরোপ এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ কার্যকরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাও বহাল রাখা হয়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবগত। চীন সবসময় জাতিসংঘের অনুমোদন ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি ছাড়া একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। তৃতীয় কোনো পক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে অন্য দেশগুলোর ওপর তথাকথিত সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও বিরোধিতা করে চীন।‘
তিনি আরও বলেন, ‘চীন সবসময় সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা পরিচালনা করে আসছে। এ ধরনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।‘
মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর চীন ঘনিষ্ঠ নজর রাখবে। একইসঙ্গে চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নমূলক স্বার্থ এবং দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে বেইজিং।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে একই লক্ষ্যে কাজ করবে এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা নেবে ওয়াশিংটন।
সূত্র: সিএমজি