ডিসেম্বর ৩১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের তাইওয়ান অঞ্চল নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক ভুল মন্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত, অন্যথায় দ্রুত পদত্যাগ করা প্রয়োজন—এমন মন্তব্য করেছেন এক জাপানি গবেষক।
চায়না মিডিয়া গ্রুপকে (সিএমজি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিপ্পন স্পোর্ট সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিভাগের অধ্যাপক মাসাহিকো শিমিজু বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে জাপান সরকারের অবস্থান ১৯৭২ সালের চীন–জাপান যৌথ ঘোষণাসহ বিভিন্ন নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
তার মতে, তাকাইচির এসব ভুল মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও জাপানের অভ্যন্তরীণ আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন ভিত্তিহীন, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে জাপান সরকার যে মৌলিক অবস্থান মেনে এসেছে, তার সঙ্গেও গুরুতরভাবে সাংঘর্ষিক।
শিমিজু বলেন, তাকাইচি ১৯৭২ সালের চীন–জাপান যৌথ ঘোষণা অস্বীকার করেছেন, এবং নিজের অজ্ঞতাই প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছেন।
শিমিজুর ভাষ্যে, জাপানের সংসদ ডায়েটে বিরোধী দলগুলো জাপান সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সেস (জেএসডিএফ)-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সরকার একের পর এক বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিদেশে সেনা মোতায়েন নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র রপ্তানির তিন নীতি, তিনটি অ-পরমাণু নীতি, যৌথ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় জিএনপির ১ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নীতি।
শিমিজু বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দাবির আলোকে জাপান যদি জিডিপির সাড়ে তিন শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করা হয়, তবে তা প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছাবে। এই অর্থ যদি সত্যিই থাকত, তবে তা শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণে বিনিয়োগ করা উচিত ছিল।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে পারমাণবিক বোমা হামলার শিকার হওয়ায় জাপানের উচিত পরমাণু ইস্যুতে সবচেয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়া। অথচ বর্তমানে জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরমাণু অস্ত্র অর্জন নিয়ে আলোচনা এবং তিনটি অ-পরমাণু নীতি দুর্বল করার চেষ্টা ইতিহাসের শিক্ষা উপেক্ষা করছে এবং জাপানি সমাজের দীর্ঘদিনের পারমাণবিকবিরোধী ঐকমত্যের পরিপন্থী।
তার ভাষায়, ‘হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক হামলার অভিজ্ঞতার পর জাপান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করবে না—এই নীতির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা গড়ে তোলা হয়েছিল। জাপানের ডায়েটে কোনো আলোচনা ছাড়াই এসব নীতি পরিবর্তনের চেষ্টা জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের নির্বাচিত সংসদের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে।’
ফয়সল/শুভ
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি
তাকাইচিকে ভুল মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে, নতুবা পদত্যাগ করা উচিত: জাপানি গবেষক
Stay Connected:
Our Editorial Standards
We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.
Fact-Checked
Every claim is verified by our editorial team before publication.
Expert Review
Content reviewed by subject matter experts for accuracy.
Regularly Updated
We update content to reflect the latest developments.
Unbiased Coverage
We present balanced perspectives and multiple viewpoints.