ফয়সল আবদুল্লাহ
চীনের চলচ্চিত্র শিল্প এখন শুধু টিকিট বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিচ্ছে এক বিস্তৃত বিনোদন অর্থনীতিতে। সিনেমা হল ঘিরে গড়ে উঠছে পর্যটন, থিম পার্ক, খাবার ও পণ্য বিক্রির নতুন কেন্দ্র। বেইজিং থেকে ছেংতু, কুইচৌ থেকে ছিংতাও—শুটিং লোকেশন ও আধুনিক সিনেমা হলগুলো ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের টানছে ব্যাপকভাবে, তৈরি করছে সংস্কৃতি উপভোগের নতুন অভিজ্ঞতা।
বক্স অফিসের আয়েই এখন থেমে থাকছে না চীনের চলচ্চিত্র শিল্প। ধীরে ধীরে এটি রূপ নিচ্ছে একটি বিস্তৃত বিনোদন অর্থনীতিতে—যেখানে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সাংস্কৃতিক পর্যটন, থিমভিত্তিক ডাইনিং আর নানা ধরনের পণ্য। সিনেমা হলগুলো পরিণত হচ্ছে ভোক্তা ব্যয়ের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে।
২০২৬ সালের নববর্ষ উপলক্ষে বেইজিংয়ে প্রায় ১০০টি সিনেমা হল নববর্ষের রাতে ভোর পর্যন্ত খোলা ছিল। এর মধ্যে ১০টিরও বেশি সিনেমা হল সারারাত চালু রাখে তাদের কার্যক্রম।
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান প্রদেশের ছেংতু শহরে শতবর্ষী একটি সিনেমা হল নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি আর বিশাল বাঁকানো পর্দায় এটি নতুনত্ব দিয়েছে দর্শক অভিজ্ঞতায়। এতে শুধু দর্শকই বাড়েনি, আশপাশের খাবারের বাজারেও বাড়িয়েছে ক্রেতার আনাগোনা ও বিক্রি।
ছেংতু ফিল্ম গ্রুপের সিনেমা অপারেশনস বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক ইয়ু ছেংলি জানান, আমাদের সিনেমা হলটি চিয়ানশে রোডের খাবার ব্যবসা এলাকায়। এতে আশপাশের নানা ডাইনিং ও সাংস্কৃতিক পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে চীনের বিভিন্ন স্থানে চলচ্চিত্রের শুটিং লোকেশনগুলোও ছুটির দিনে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুইচৌ প্রদেশের একটি বড় ফিল্ম স্টুডিওতে নববর্ষের ছুটিতে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য সিনেমাপ্রেমী। তারা যেন ফিরে যাচ্ছিলেন চিন ও হান রাজবংশের সময়কালে—খ্রিষ্টপূর্ব ২২১ থেকে খ্রিষ্টাব্দ ২২০ সালের ঐতিহাসিক আবহে।
শানতোংয়ের ছিংতাও শহরের ওরিয়েন্টাল মুভি মেট্রোপলিসে থাকা জাতীয় প্রতিরক্ষা-থিমভিত্তিক সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা কেন্দ্রটিও ব্যাপক দর্শনার্থী আকর্ষণ করেছে। ২০২৫ সালের জুনে চালু হওয়ার পর থেকে এখানে দর্শনার্থী ছাড়িয়েছে ৫০ হাজার।
একইভাবে শানতোংয়ের লেলিং ফিল্ম স্টুডিও চালু করেছে অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যভিত্তিক একটি থিম পার্ক। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নিজেকে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত করার অভিজ্ঞতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা থিমভিত্তিক পরিবেশনা ও ইন্টার্যাকটিভ কার্যক্রমে দর্শনার্থীরা থাকছেন পুরোপুরি মগ্ন।
চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি ও পর্যটনের এই সমন্বয়ে চীনের সিনেমা শিল্প এখন শুধু পর্দার গল্প বলছে না—বাস্তব জীবনেও তৈরি করছে নতুন অভিজ্ঞতা অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
সূত্র: সিএমজি
বিনোদন থেকে ভোক্তা অর্থনীতির নতুন দিগন্ত খুলছে চীনা সিনেমা
Stay Connected:
Our Editorial Standards
We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.
Fact-Checked
Every claim is verified by our editorial team before publication.
Expert Review
Content reviewed by subject matter experts for accuracy.
Regularly Updated
We update content to reflect the latest developments.
Unbiased Coverage
We present balanced perspectives and multiple viewpoints.