জানুয়ারি ২১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: ২০২৫ সালে চীনের জিডিপি ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে গেছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি চীনের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির প্রমাণ। কিন্তু অনেকের প্রশ্ন—এই বিশাল অর্থনীতি চীনা নাগরিক বা বিশ্ববাসীর দৈনন্দিন জীবনে কী অর্থ বহন করে?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে স্থিতিশীলতা, সুযোগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে—চীনের ভেতরে যেমন, তেমনি বিশ্বজুড়েও।
বড় অর্থনীতি মানে শুধু গতি নয়, ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতাও। অর্থনৈতিক ভিত্তি যত বড় হয়, সরকার তত বেশি সামাজিক খাতে ব্যয় ধরে রাখতে পারে। ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১–২০২৫) সময়ে চীনের মোট সরকারি বাজেট ব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি গেছে মানুষের জীবনমান-সংশ্লিষ্ট খাতে।
এর ফল হিসেবে পেনশন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, স্বাস্থ্যবিমা সম্প্রসারিত হয়েছে, উন্নত হয়েছে স্কুল ও সরকারি হাসপাতাল।
প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিফলন কর্মসংস্থানেও দেখা গেছে। চীনের অর্থনীতিবিদদের হিসেবে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বাড়লে প্রায় ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
গত পাঁচ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, মহাকাশ ও উচ্চমানের উৎপাদন খাতে নতুন নতুন পেশার জন্ম হয়েছে চীনে। এআই প্রশিক্ষক থেকে শুরু করে শিল্প রোবট রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলীর মতো পদ তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে ৬০টির বেশি জাতীয় পর্যায়ের উন্নত উৎপাদন ক্লাস্টার গড়ে উঠেছে। এই সময়ে উৎপাদন খাতে সংযোজিত মূল্য বেড়েছে আনুমানিক ৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।
প্রবৃদ্ধি তখনই অর্থবহ, যখন তা পরিবারের কাছে পৌঁছায়। ২০২৫ সালে অর্থনীতি ৫ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি মাথাপিছু প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয়ও প্রায় একই হারে বেড়েছে। এর মানে, সম্প্রসারণ শুধু করপোরেট হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়—মজুরি, কর্মসংস্থান ও ভোগের মাধ্যমে তা মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে।
১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের অর্থনীতির বৈশ্বিক গুরুত্বও কম নয়। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছে চীন থেকে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চীন এখন একটি স্থিতিশীলতার ভরকেন্দ্র। বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদন খাত হিসেবে চীন বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকেও ধরে রেখেছে।
গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয়ও নতুন বার্তা দিচ্ছে। প্রথমবারের মতো চীনের গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ওইসিডি ভুক্ত দেশগুলোর গড়ের চেয়েও বেশি। এটি চীনকে শুধু বড় বাজার নয়, উদ্ভাবন ও শিল্প সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করছে।
১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান কেবল একটি সংখ্যা নয়। বাস্তবে এটি ১৪০ কোটি মানুষের বছরের পর বছর পরিশ্রমের সমষ্টি। সংখ্যাটি শুধু বিশালতার প্রতীকই নয়, বরং ঘরে ঘরে যে অর্থনৈতিক জীবন টিকে আছে, সেখানেও এটি রাখছে পাহাড়সম ভূমিকা। চীনের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতেও তাই এই জিডিপির গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়।
ফয়সল/নাহার
তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন
বিশ্বের হাল ধরে আছে চীনের ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের অর্থনীতি
Stay Connected:
Our Editorial Standards
We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.
Fact-Checked
Every claim is verified by our editorial team before publication.
Expert Review
Content reviewed by subject matter experts for accuracy.
Regularly Updated
We update content to reflect the latest developments.
Unbiased Coverage
We present balanced perspectives and multiple viewpoints.