Wednesday, June 10, 2026
Live

বোয়িং চুক্তিতে উষ্ণতা ফিরছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
বোয়িং চুক্তিতে উষ্ণতা ফিরছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে

মে ২২, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিমান চলাচল খাতে এ সম্ভাবনা উজ্জ্বল। চীন ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়াতেই এটি হয়েছে বলে জানান বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক এই চুক্তি দুই দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে আংশিক উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানায়, দেশের বিমান পরিবহন উন্নয়নের চাহিদা ও বাণিজ্যিক নীতির ভিত্তিতে বোয়িং থেকে ২০০টি উড়োজাহাজ কেনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিমান চলাচল খাত দীর্ঘদিন ধরে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চীনা বিমান সংস্থাগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করবে বলেও জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ট্রাম্পের চীন সফরের সময় বোয়িং জানায়, তারা চীনা বাজারে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। সফরে বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি অর্টবার্গসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

বোয়িং এক বিবৃতিতে বলে, ‘চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং চীনা বাজারে নতুন অর্ডারের পথ পুনরায় খুলে দেওয়াই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

এর আগে ২০১৭ সালে ট্রাম্পের চীন সফরের সময় চীনা ক্রেতারা ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ৩০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল।

তবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স দুর্ঘটনার পর এবং দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীনা বাজারে বোয়িংয়ের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস চীনে নিজেদের বাজার সম্প্রসারণ করে।

বর্তমানে চীনের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বাজারের প্রায় ৫৫ শতাংশ দখলে রয়েছে এয়ারবাসের। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে চীনা এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে শত শত এ৩২০নিও উড়োজাহাজের অর্ডার পেয়েছে।

চায়না ইনস্টিটিউট অব নিউ ইকোনমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চু খ্যলি বলেন, বিমান চলাচল খাত ঐতিহ্যগতভাবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন এই চুক্তি দুই দেশের বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার দিকেই ইঙ্গিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এয়ারবাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া চীনা এয়ারলাইনগুলোর জন্য বোয়িং উড়োজাহাজ নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে। একই সঙ্গে দেশীয় সি-৯১৯ উড়োজাহাজের উৎপাদন এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় না পৌঁছানোয় এবং এয়ারবাসের দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকার কারণে চীনা বিমান সংস্থাগুলোর নতুন উড়োজাহাজের চাহিদা বেড়েছে।

খ্যলি বলেন, ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ স্বল্পমেয়াদে সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে এবং বড় রুটগুলোতে স্থিতিশীল পরিচালনা নিশ্চিত করবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের বিমান খাতে পূর্ণ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত নয়। কারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেশন ও গভীর শিল্প সহযোগিতার ক্ষেত্রে এখনো বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

বর্তমানে চীনের তৈরি সি-৯১৯ উড়োজাহাজের পশ্চিমা নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে ‘বাণিজ্যিক সহযোগিতা শক্তিশালী হলেও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সতর্কতার সঙ্গে’ এগোবে।

বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ই পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৪৩ সালের মধ্যে চীন বিশ্বের বৃহত্তম বিমান চলাচল বাজারে পরিণত হবে। তখন দেশটির বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বহরের সংখ্যা ৯ হাজার থেকে ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।

ফয়সল/সাকিব

তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি।

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.