যা রয়েছে এবারের পর্বে
১. যেভাবে আবার প্রকৃতিতে ফিরে এলো বিপন্ন ইয়ুননান স্নাব-নোজড বানর
২. হাইনানে দুই জায়ান্ট পান্ডার সাত বছর পূর্তি উদযাপন
নিবিড় সবুজ অরণ্য। পাখির ডানা মেলার শব্দ। নীল আকাশ। দূষণহীন সমুদ্র। আমাদের নীল গ্রহকে আমরা এমনভাবেই দেখতে চাই।পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব সেই নির্মল প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য।
সুপ্রিয় শ্রোতা মানুষ ও প্রকৃতি অনুষ্ঠান থেকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি হোসনে মোবারক সৌরভ। বিশাল দেশ চীনের রয়েছে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় নিরলস প্রচেষ্টার ফলে চীনে জীববৈচিত্র্য যেমন বাড়ছে তেমনি উন্নত হচ্ছে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র। আমাদের অনুষ্ঠানে আমরা চীনসহ পুরো বিশ্বের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বাস্তুতন্ত্র নিয়ে কথা বলবো।
১। যেভাবে আবার প্রকৃতিতে ফিরে এলো বিপন্ন ইয়ুননান স্নাব-নোজড বানর
প্রকৃতিতে আবারও ফিরতে শুরু করেছে চীনের বিপন্ন ইয়ুননান স্নাব-নোজড বানর। বর্তমানে চীনের ইউনলং থিয়ানচি জাতীয় প্রকৃতি সংরক্ষণাগারে ইয়ুননান স্নাব-নোজড বানরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮৮ সালে এই সংরক্ষনাগারে ছিল মাত্র ৫০-৬০টি বানর। যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০টিতে। 'পরিবেশগত করিডোর পুনরুদ্ধার প্রকল্প' এবং শিকার নিষিদ্ধ করার কঠোর নীতির ফলে বর্তমানে এদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউনান স্নাব-নোজড বানরের প্রকৃতিতে ফিরে আসার পুরো গল্পটা চলুন শুনে আসি।
সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত চীনের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের মুকুটে একটি বিশেষ রত্ন হলো ইয়ুননানের স্নাব-নোজড বানর। যার বৈজ্ঞানিক নাম `রাইনোপিথেকাস বিয়েটি’। ছোট নাক, ঘন, লম্বা পশমের বিশেষ গঠনের কারণে এটি শীতল ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার যে কোন পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। এদের গায়ের রং গাঢ় ধূসর। শরীরের লোম কালো আর বুক ও গলার লোম সাদা হওয়ার কারণে এদেরকে 'ব্লাক এন্ড হোয়াইট স্নাব-নোজড বানর' নামেও ডাকা হয়।
স্নাব-নোজড বানররা মূলত তৃণভোজী প্রাণী। তাদের প্রধান খাদ্য হলো লাইকেন। যা তারা স্প্রুস, আরমান্ড পাইন এবং দেবদারু গাছের ছাল বা ডাল থেকে সংগ্রহ করে। তারা অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী এবং বড় দলে বাস করে। তাদের এই দলে সদস্য সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ বা তারও বেশি হতে পারে। এই দলবদ্ধতা মূলত তাদেরকে শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং যে কোন কঠিন আবহাওয়া মোকাবেলা করতে সাহায্য করে। সাধারণত দিনের বেলায় এরা খাদ্যের সন্ধানে বের হয় এবং রাতে শীতলতা এড়াতে ঘন গাছের ডালে আশ্রয় নেয়।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে, বিশেষ করে ইয়ুননানের উত্তর-পশ্চিম এবং তিব্বতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে উঁচু পর্বতমালায় বাস করে থাকে এই স্নাব-নোজড বানর। সাধারণত তাদের বাসস্থান হয়ে থাকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩হাজার থেকে সাড়ে ৪হাজার মিটার উচ্চতায়। এটি পৃথিবীর উঁচু স্থানে বসবাসকারী প্রাইমেটদের মধ্যেও একটি।
একসময় ব্যাপক শিকার ও বন উজাড়ের কারণে বিশ্বব্যাপী এই প্রজাতিটি প্রায় বিপন্ন হয়ে গিয়েছিল। ১৯৮৮ সালের জুন মাসে চীনের ইউনলং থিয়ানচি জাতীয় প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের লংমা পর্বতে ৫০ থেকে ৬০ বানরের সন্ধান পায় বন কর্তৃপক্ষ। তখন থেকেই শুরু হয় এই প্রজাতির সংরক্ষণ প্রচেষ্টা। সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয় বন্য প্রাণী শিকার। বাস্তবায়ন করা হয় ইকো-করিডোর পুনরুদ্ধার প্রকল্প। বিশেষ করে এই সংরক্ষণাগারে এই বন্যপ্রাণীদের রক্ষা ও প্রজননে সহায়তা করার জন্য একটি `পরিবেশগত করিডোর পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন’ করা হয়। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল তাদের উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের আবাসস্থলগুলোকে সংযুক্ত করা। এরপর বানরদের পছন্দের খাদ্য ও আশ্রয়দাতা গাছ, যেমন - স্প্রুস, আরমান্ড পাইন এবং দেবদারু রোপণ করা ।
এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এখানে যেমন বেড়েছে এই বানরের প্রজনন তেমনি দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকার জন্য তৈরি হয়েছে একটি টেকসই ও স্থিতিশীল পরিবেশ ।
অবিচ্ছিন্ন এই প্রচেষ্টার ফলে, বর্তমানে ইউনলং থিয়ানচি প্রকৃটি সংরক্ষণাগারে ইয়ুননান স্নাব-নোজড বানর বানরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫০টিতে। যা চীনের সাম্প্রতিক একটি বাস্তুসংস্থান জরিপে উঠে আসে। গেল নভেম্বরে পরিচালিত এই জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করে বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ।
পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, বানরগুলো বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং অত্যন্ত সক্রিয় । জরিপদল তাদের পাহাড়, নিজস্ব পথ এবং আচরণও নথিভুক্ত করেন। ফলে তাদের এই পর্যবেক্ষণে উঠে আসে বানরদের ক্রমবর্ধমান সুস্থ জীবনধারার প্রমাণ।
ইউনলং থিয়ানচি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের গবেষণা বিভাগের উপ-প্রধান, লি ইউনফাং জানান, `গেল দশকে বানরের সংখ্যা প্রতি বছর প্রায় ২০ জন করে ক্রমাগত বেড়েছে। তাদের আবাসস্থল এলাকা প্রসারিত হয়েছে এবং তাদের শারীরিক গুণমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।’
ইউনলং থিয়ানচি সংরক্ষণাগার চীনের একমাত্র জাতীয় প্রকৃতি সংরক্ষণাগার যেখানে চীনের এই প্রথম শ্রেণীর সুরক্ষিত প্রজাতি ইউনান স্নাব-নোজড বানর পাওয়া যায়। এই সংরক্ষণাগারের এই ধারাবাহিক সফলতা বিশ্বে অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতির সংরক্ষণের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
প্রতিবেদন: হোসনে মোবারক সৌরভ
সম্পাদনা: আল আমিন আজাদ
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি
২। হাইনানে দুই জায়ান্ট পান্ডার সাত বছর পূর্তি উদযাপন
চীনের হাইনান প্রদেশের রাজধানী হাইখৌ-এর হাইনান ট্রপিক্যাল ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক অ্যান্ড বোটানিক্যাল গার্ডেনে দুটি পুরুষ জায়ান্ট পান্ডা— কোং কোং এবং শুন শুন-এর সাত বছর পূর্তি উৎসবের আমেজে উদযাপন করা হয়েছে। পান্ডা দুটি আনন্দের সাথে তাদের ভোজ উপভোগ করে এবং এই আনন্দঘন মুহূর্ত দেখতে পার্কে অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করেন। বিস্তারিত চলুন শুনে আসি।
দক্ষিণ চীনের হাইনান প্রদেশের রাজধানী হাইখৌতে দুই জায়ান্ট পান্ডার সাত বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে উৎসবের আমেজে। গেল সপ্তাহে হাইনান ট্রপিক্যাল ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক অ্যান্ড বোটানিক্যাল গার্ডেনে এই বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
১২ বছর বয়সী দুই পুরুষ পান্ডা কোং কোং এবং শুন শুন-এর জন্মদিনকে স্মরণীয় করে তুলতে পার্কের পরিচর্যাকারীরা সাজিয়েছিলেন পাঁচ পদবিশিষ্ট সেভেন ইয়ার্স থিমের বিশেষ ভোজ। হাইনানের স্থানীয় সংস্কৃতির ছোঁয়ায় সাজানো এই ভোজে পান্ডাদের পুষ্টি ও খাদ্যমানের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।
উৎসবের দিনে কোং কোং ও শুন শুন দারুণ আনন্দে তাদের জন্মদিনের ভোজ উপভোগ করে। সেই আনন্দঘন মুহূর্ত দেখতে পার্কে ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী। অনেকে মুগ্ধ হয়ে পান্ডাদের মিষ্টি আচরণ ক্যামেরায় বন্দি করেন।
প্রতিবেদন: আফরিন নাহার
সম্পাদনা: আল আমিন আজাদ
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি
প্রিয় শ্রোতা, আমাদের প্রিয় এই বিশ্বকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে। আসুন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা সবাই একসাথে এগিয়ে আসি।
এখন হেমন্তকাল—শিশির ভেজা স্নিগ্ধ সকাল, চারপাশে সোনালী ফসলের হাতছানি, আর এক ধরনের শান্ত নীরবতা। মাঠজুড়ে পাকা ধানের ঘ্রাণ আর নতুন ফসলের আগমনী সুর প্রকৃতিতে নিয়ে আসে এক উৎসবের আমেজ। এই সময় প্রকৃতি নবান্নের সাজে সেজে ওঠে, আর আমাদেরও মনে করিয়ে দেয় পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব।
শীতের আগমনী বার্তা হিসেবে এই সময়ে পরিযায়ী পাখিদের আগমন ঘটছে আমাদের চারপাশে। তাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং শিকারীদের থেকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এছাড়াও, আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং গাছের পাতা ও আবর্জনা জমে যেন মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
আমাদের এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই হতে পারে একটি টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি।
আজকের মতো এই আহ্বান জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি আমি হোসনে মোবারক সৌরভ। আগামী সপ্তাহে আবারও কথা হবে, সেপর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।
পরিকল্পনা, গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও অডিও সম্পাদনা: হোসনে মোবারক সৌরভ
সার্বিক সম্পাদনা: ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী
মানুষ ও প্রকৃতি ৭৬
Stay Connected:
Our Editorial Standards
We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.
Fact-Checked
Every claim is verified by our editorial team before publication.
Expert Review
Content reviewed by subject matter experts for accuracy.
Regularly Updated
We update content to reflect the latest developments.
Unbiased Coverage
We present balanced perspectives and multiple viewpoints.