জানুয়ারি ৮, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের পশ্চিমাঞ্চলের শায়ানসি প্রদেশের ছিনলিং পর্বতমালার পাদদেশে কৃষির নতুন এক গল্প লেখা হচ্ছে—খোলা মাঠে নয়, নীরব গবেষণাগারে। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে থাকা ক্ষুদ্র শাখা ও একক কোষই হয়ে উঠছে নতুন দিনের ফলনের শক্তি।
বাওচি শহরের কৃষি বিজ্ঞান একাডেমিতে গবেষকেরা মলিকিউলার ব্রিডিং, জিন সম্পাদনা ও শুট-টিপ ডিটক্সিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করছেন উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী ফসল। আধা মিলিমিটারেরও ছোট একটি মিষ্টি আলুর শাখা কেটে তৈরি হচ্ছে ভাইরাসমুক্ত চারা—যার ফলে ফলন বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।
এই গবেষণার সুফল মিলতে শুরু করেছে মাঠে। ছিশান কাউন্টিতে কৃষক থিয়ে হংখ্যর সয়াবিনের ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত ‘বাওতৌ নম্বর ১০’ জাত শুধু বেশি ফলনই নয়, উচ্চ প্রোটিনের কারণে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের কাছেও জনপ্রিয়। একইভাবে নতুন মিষ্টি আলুর জাত কম শ্রমে, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষের সুযোগ করে দিয়েছে।
একসময় যে জাত উন্নয়নে দশ বছরের বেশি সময় লাগত, এখন চীনের বিজ্ঞান সেই সময় কমিয়ে এনেছে সাত–আট বছরে। আর সেই ধারাবাহিকতায় বাওচির কৃষি উৎপাদন পাঁচ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ বিলিয়ন ইউয়ানে।
ছিনশু নং ৫-সহ বাওচির অনেক জাত এখন শায়ানসি ছাড়িয়ে পশ্চিমের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে পার্শ্ববর্তী হ্যনান ও শানসি প্রদেশে রোপণ করা হয়েছে।
শস্য বিজ্ঞানের অগ্রগতি প্রজনন চক্রকেও ত্বরান্বিত করেছে। বাওচি একাডেমি অফ এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের গম গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ কৃষিবিদ চাং হুইছেং বলেছেন, নতুন জাতগুলোর বিকাশে এক দশকেরও বেশি সময় লেগেছিল৷ এখন, মলিকিউলার সরঞ্জামের সাহায্যে তারা সাত বা আট বছরেই এসেছে। রেপসিড তেল গবেষণায়, একক মাইক্রোস্পোরগুলোকে স্থিতিশীল লাইনে পরিণত করা হচ্ছে মাত্র তিন বছরের মধ্যে।
বাওচির কৃষি উৎপাদন ২০২৪ সালে ৪২ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালে ৩১৭০ কোটি ইউয়ান থেকে বেড়েছে।
চীনের ২০তম কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সাম্প্রতিক চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কৃষি ও গ্রামীণ এলাকার আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত করার এবং গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই অগ্রাধিকারগুলো বাওচির কৌশলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ভারসাম্যমূলক। কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কৃষিতে ‘নতুন মানসম্পন্ন উত্পাদনশীল শক্তি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে, জৈব-প্রজনন থেকে শুরু করে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সরঞ্জামগুলি, বিজ্ঞান যা আধুনিক উত্পাদন গঠনে একটি অগ্রণী ভূমিকা হিসাবে বর্ণনা করেছে।
বাওচির প্রজনন গবেষণায় দেখা গেল এসবেরই প্রতিফলন স্পষ্ট। শহরের বায়োটেকনোলজি ল্যাবরেটরি এখন ছয়টি প্রজনন ইউনিট পরিচালনা করে যা বছরে তিন থেকে চার প্রজন্মের ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম। হলুদ পাতার কার্ল ভাইরাস এবং অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে টমেটোর প্রতিরোধের পরীক্ষায় ইতোমধ্যে পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়েছে।
একাডেমির জার্মপ্লাজম ব্যাংকে এখন ৪৪০০টিরও বেশি নমুনা আছে। ‘এর মধ্যে যেকোনো একটি পরবর্তী যুগান্তকারী বৈচিত্র্য হতে পারে,’ বলে জানান এক সিনিয়র ম্যানেজার।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ছিনলিং পাহাড়ঘেরা এই অঞ্চলে আজ গবেষণাগার আর খেতের মেলবন্ধনে গড়ে উঠছে চীনের আধুনিক কৃষির এক জীবন্ত উদাহরণ।
ফয়সল/জেনিফার
তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি
শায়ানসিতে বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে কৃষির ভবিষ্যৎ
Stay Connected:
Our Editorial Standards
We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.
Fact-Checked
Every claim is verified by our editorial team before publication.
Expert Review
Content reviewed by subject matter experts for accuracy.
Regularly Updated
We update content to reflect the latest developments.
Unbiased Coverage
We present balanced perspectives and multiple viewpoints.