জুন ৬: গতকাল (শুক্রবার) চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) চীনা ভাষা গ্লোবাল প্রোগ্রাম সেন্টারের আয়োজনে সিএমজি'র সানইয়া কেন্দ্রে 'টাইড অ্যান্ড ভয়েস' শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিএমজি'র 'দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়ক গবেষণা বিশেষজ্ঞ কমিটি'-র চীনা ও বিদেশি বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ চীন সাগরের শাসনব্যবস্থা, সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ নানা বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনায় অংশ নেন। তাঁরা যৌথভাবে ঐকমত্য গড়ে তোলা, হস্তক্ষেপ দূর করা এবং দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি রক্ষা ও সমৃদ্ধি প্রসারের আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক শাংরি-লা সংলাপে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁর ভাষণে তথাকথিত 'দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায়'-কে ব্যবহার করে চীনকে অভিযুক্ত ও কলঙ্কিত করেছেন এবং দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুটিকে আরও উসকে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি খাই শেং বলেছেন যে, অবৈধ ও অকার্যকর 'দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায়'-কে 'দক্ষিণ চীন সাগরের আচরণবিধি'-র কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার ফিলিপাইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, কিছু রাজনীতিবিদ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং প্রকাশ্যে 'আচরণবিধি' সংক্রান্ত আলোচনাকে অস্বীকার করেছেন। এ ধরনের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য শুধু আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে ঐকমত্যের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করে না, বরং দক্ষিণ চীন সাগরে শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের স্বরূপকেও নিশ্চিত করে।
চাইনিজ একাডেমি অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর 'ইনস্টিটিউট অফ পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট'-এর গবেষক ইয়াং সিয়াও মনে করেন যে, ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী ও রাজনীতিবিদরা শাংরি-লা সংলাপে একটি হাস্যকর প্রহসন মঞ্চস্থ করেছে। আসিয়ানের পালাক্রমিক সভাপতি হিসেবে ফিলিপাইনের উচিত ছিল আচরণবিধির বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং আলোচনা ত্বরান্বিত করার জন্য কাজ করা। কিন্তু তাদের সুবিধাবাদী ও দোদুল্যমান আচরণ শুধু তাদের নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং আঞ্চলিক বিষয়ে আসিয়ানের স্বকীয়তাকেও ক্ষুণ্ণ করেছে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, যদিও দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি সাধারণভাবে স্থিতিশীল, তবুও বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কিছু বহিরাগত শক্তির সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বিপজ্জনক পদক্ষেপ এবং ফিলিপাইনের সাথে তাদের ত্বরান্বিত সামরিক আঁতাত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একটি গুরুতর ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। এর জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে উচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
সিএমজি