সাকিব সিকান্দার
ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে বিশ্বজুড়ে চীনা অপেরাকে ছড়িয়ে দিতে পর্দা নামলো ‘সিএমজি অপেরা চিইন সম্মেলন’-এর প্রথম সংস্করণের রেকর্ডিংয়ের। গত শুক্রবার পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশে টানা পাঁচ দিনের শুটিং শেষে এই জমকালো উৎসবের রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়। চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) আয়োজিত এই উৎসবটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে শিল্প ও সংস্কৃতির এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেবে।
টেলিভিশন পর্দার জন্য তৈরি এই মেগা প্রজেক্টের চূড়ান্ত পর্বে চীনা অপেরার শতাধিক বৈচিত্র্যময় শৈলী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা অপেরা শিল্পী ও তারকাদের পাশাপাশি এতে অংশ নিয়েছেন একঝাঁক শিশু ও তরুণ প্রতিভাও। শিগগিরই এটি সিএমজির সিসিটিভি-৩ এবং সিসিটিভি-১১ চ্যানেলে প্রচারিত হবে।
এই উৎসব শুধু চীনের শিল্পীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এতে অংশ নিয়েছেন বহু বিদেশি সাংস্কৃতিক দূত ও শিক্ষার্থী। ক্যামেরুনের চীন-আফ্রিকা বিশেষ সাংস্কৃতিক বিনিময় দূত ফ্রান্সিস চিয়েগু আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, আমি এই চীনা অপেরাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসি। বাইরে থেকে এসে এই কঠিন শিল্পকে বোঝা বা পরিবেশন করা সত্যিই অনেক কষ্টের। এত বড় মঞ্চে এসে বিদেশিদের এই ভালোবাসা তুলে ধরতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের।
একইভাবে ইন্দোনেশিয়া থেকে এসে চীনে পড়াশোনা করা স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নিনা দেবিনা জানান, এই মঞ্চে দাঁড়ানোর জন্য তিনি দিনরাত কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলন করেছেন।
একটা সময় ছিল যখন অপেরাকে ভাবা হতো ‘পুরোনো দিনের’ বিনোদন। কিন্তু সেই ধারণা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। আধুনিক পরিবেশনা শৈলী, সমসাময়িক গল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এটি এখন তরুণদের কাছে দারুন জনপ্রিয়।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে চীনে ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ অপেরা প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন। অবাক করার মতো তথ্য হলো, এর মধ্যে ৩৫ বছরের কম বয়সী তরুণ দর্শকের সংখ্যাই বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
আনহুই প্রদেশের হুইচিং থিয়েটারের বিখ্যাত শিল্পী ওয়াং ইয়ুশু বলেন, চীনা অপেরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির আয়না। এই কনফারেন্সের মূল লক্ষ্যই হলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যার মাধ্যমে আজকের তরুণরা এই ঐতিহ্যকে সহজে বুঝতে পারে এবং একে বুকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।
ছোট ছোট শিশুদের এই শিল্পে যুক্ত করা প্রসঙ্গে অপেরা শিক্ষক চাং শুয়াই বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প শেখার পর শিশুরা চরিত্র ও দক্ষতা দুই দিকেই উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।
আর তরুণ অপেরা শিল্পী ওয়াং চিনসি আশা প্রকাশ করেন, তার গান ও মঞ্চের সুশোভিত অঙ্গভঙ্গি দেখে আরও অনেক শিশু এই শিল্পকে ভালোবাসতে অনুপ্রাণিত হবে।
সূত্র: সিএমজি