কর্মসংস্থান স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৮ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে চীন। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মতো ঝুঁকি থেকে শ্রমবাজারকে সুরক্ষা দেওয়া এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
‘কর্মসংস্থান স্থিতিশীলকরণ, সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং গুণগত মান উন্নয়নের কর্ম পরিকল্পনা’ নামের পরিকল্পনাটি ৩০ এপ্রিল স্টেট কাউন্সিলের কর্মসংস্থান উন্নয়ন বিষয়ক দল অনুমোদন করে।
কী আছে পরিকল্পনায়
পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ বা বাহ্যিক ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা নতুন করে নিয়োগ বাড়াতে পারে। এজন্য বেকারত্ব বীমা প্রিমিয়াম ফেরত, দক্ষতা প্রশিক্ষণ ভর্তুকি এবং চাকরি সম্প্রসারণ অনুদান দেওয়া হবে।
চীন সরকার চীন আমদানি রপ্তানি মেলাসহ বড় বাণিজ্য মেলাগুলো ব্যবহার করে নতুন বাজার অনুসন্ধান করবে এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ কাঠামোর অধীনে সহযোগিতা বাড়াবে।
পরিকল্পনায় গবেষণা, নকশা ও পরিদর্শন খাতে আন্তঃসীমান্ত সেবা চাকরি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে ডেটা লেবেলার ও এআই প্রশিক্ষণের মতো নতুন পেশার সুযোগ তৈরি করা হবে।
নতুন জ্বালানি, উন্নত উপকরণ ও নিম্ন উচ্চতার অর্থনীতি খাতকে বড় কর্মসংস্থান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুরনো শিল্পের শ্রমিকদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি কমে।
গিগ অর্থনীতির প্রসারের কারণে রাইড-হেইলিং চালকসহ নতুন কর্মীদের জন্য পাইলট পর্যায়ে কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনা বীমা চালু করা হবে।
বয়স্ক ও শিশু পরিচর্যা খাতে সেবা সম্প্রসারণ, ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা উন্নয়ন, বেতন বকেয়া প্রতিরোধ এবং শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
শহর পুনর্নির্মাণ ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকেও নতুন চাকরি তৈরির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ খাতে বিশেষ ঋণ কর্মসূচিও চালু করা হবে।
চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালে নতুন কলেজ স্নাতকের সংখ্যা রেকর্ড ১ কোটি ২৭ লাখ হবে। এই চাপ সামাল দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট আরও বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি শহুরে চাকরি সৃষ্টি করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মপরিকল্পনা শুধু চাকরি সৃষ্টি নয়, বরং প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতিতে শ্রমবাজারকে পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ।
তথ্যসূত্র: সিএমজি