Wednesday, June 10, 2026
Live

বিশ্বে পানির ইতিহাসে নতুন আলো ফেলল চীনা গবেষণা

ফয়সল আব্দুল্লাহ
Published: Updated:
পৃথিবীতে পানির ইতিহাসে নতুন আলো ফেলল চীনা গবেষণা

বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবী ও চাঁদে অজস্র গ্রহাণুর পতনেই সৃষ্টি হয়েছে পানি। সেইসঙ্গে প্রাণের উপযোগী পরিবেশও। বিশেষ করে কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণুগুলোই পৃথিবীতে তৈরি করেছে জীবনের উপযোগী রাসায়নিক ব্যবস্থা। তবে চীনের চন্দ্রমিশন ছাং’এ-৬-এ পাওয়া নমুনা পরীক্ষার সাম্প্রতিক ফলাফলটি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে প্রচলিত ধারণাটিকে। চাঁদের মাটিতে পাওয়া অতিক্ষুদ্র ধাতব টুকরো পরীক্ষায় চীনা বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন পৃথিবীতে ভূত্বকের নড়াচড়া ও নানা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় প্রাচীন গ্রহাণু আঘাতের বেশিরভাগ চিহ্ন মুছে গেছে। ফলে পৃথিবীতে পাওয়া উল্কাপিণ্ডের নমুনাগুলো সাধারণত গত প্রায় ২০ লাখ বছরের তথ্যই সংরক্ষণ করেছে।

চাঁদের নমুনা পরীক্ষায় চীনা বিজ্ঞানীরা ৪৩০ কোটি থেকে ২৮০ কোটি বছর আগের গ্রহাণুর আঘাতে সৃষ্ট পরিবর্তনগুলো পুনর্গঠন করেছেন।

তাদের গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস-এর ২৭ এপ্রিলের সংখ্যায়।

পৃথিবীতে বেশিদিন আগের তথ্য না থাকলেও চাঁদে ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ কম। সেখানে প্রায় ৪০০ কোটি বছরের গ্রহাণু আঘাতের ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। তাই বিজ্ঞানীরা চাঁদকে সৌরজগতের এক ধরনের ‘প্রাকৃতিক দিনলিপি’ বিবেচনা করছেন।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং চীনা বিজ্ঞান একাডেমির ভূতত্ত্ব ও ভূ-পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক লিউ সিয়াওইং বলেন, কোনো গ্রহাণু চাঁদে আঘাত করলে প্রচণ্ড তাপে সেটি বাষ্পে পরিণত হয় এবং সেখানে লোহা-নিকেলসহ ক্ষুদ্র ধাতব কণা রেখে যায়।

তিনি জানান, এসব ধাতব কণার রাসায়নিক গঠন চাঁদের নিজস্ব শিলার চেয়ে আলাদা। গ্রহাণুর ধরন অনুযায়ী এগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ট্রেস উপাদান থাকে। এটাকে তুলনা করা যায় ‘রাসায়নিক আঙুলের ছাপ’ এর সঙ্গে। এগুলো বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করে কোন ধরনের গ্রহাণু চাঁদে আঘাত করেছিল।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে গবেষক দল ছাং-এ ৬ থেকে সংগৃহীত নমুনার মধ্যে থাকা আঘাতজনিত ধ্বংসাবশেষের ৪০টি কণা বিশ্লেষণ করেন। এর মধ্যে ১৩টি প্রাচীন চন্দ্র উচ্চভূমির শিলায় পাওয়া গেছে, যা প্রায় ৪৩০ কোটি বছর আগের আঘাতের রেকর্ড বহন করে। বাকি ২৭টি অপেক্ষাকৃত নতুন আগ্নেয় শিলার ধ্বংসাবশেষে সংরক্ষিত, যেগুলো প্রায় ২৮০ কোটি বছর আগের আঘাতের তথ্য দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাচীন ১৩টি নমুনার বেশিরভাগই সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পাথুরে গ্রহাণু ও লৌহসমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ড থেকে এসেছে। সেখানে কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণুর ধাতব অংশের হার ছিল ৮ শতাংশেরও কম।

গবেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত করে যে প্রায় ৪৩০ কোটি থেকে ২৮০ কোটি বছর আগে কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণুর আঘাতের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল এবং এই পরিবর্তন ঘটেছিল এমন এক সময়ে, যখন সামগ্রিকভাবে গ্রহাণুর আঘাতের হার কমে আসছিল।

গবেষণার সহ-লেখক এবং চীনা বিজ্ঞান একাডেমির গবেষক লিন ইয়াংটিং বলেন, এই গবেষণা পৃথিবীর পানির উৎপত্তি সম্পর্কে বিদ্যমান তত্ত্বগুলোকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।

সূত্র: সিএমজি

Rate This Article

How would you rate this article?

ফয়সল আব্দুল্লাহ

ফয়সল আব্দুল্লাহ

সিএমজি

তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.