ইতালি ভিসা আবেদন লিংক, আবেদন ফরম, খরচ, যোগ্যতা, গাইড লাইন নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। ইতালিতে বৈধপথে কর্মী নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২৭ মার্চ ২০২৩ তারিখ সকাল ৯টা থেকে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করা যাচ্ছে। আবেদন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে জমা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৫টি। যেখানে কিনা ৩৩টি দেশ থেকে ৮২ হাজার ৭০৫ জনকে বৈধভাবে ইতালিতে এসে কাজের সুযোগ দেওয়ায় কথা রয়েছে।
কি ধরনের কাজের জন্য লোক নেওয়া হবে ওই গেজেটে সেটির বিস্তারিত রয়েছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ৩৩ দেশের নাগরিকরা ইতালিতে ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৃষি ও অস্থায়ী ক্যাটাগরিতে ৪৪ হাজার এবং স্থায়ী স্পন্সর ক্যাটাগরিতে ৩৮ হাজার ৭০৫ জন শ্রমিক নেয়া হবে। কৃষি, পরিবহণ, পর্যটন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, মেকানিক্স ও উৎপাদনশীল খাতের জন্য স্থায়ী ও মৌসুমি কাজের ভিত্তিতে এই শ্রমিকদের নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, আর্টিস্ট, ব্যবসা শুরু করতে চাওয়া ব্যক্তিরাও ইতালির ভিসা নিতে পারবেন।
গ্রীষ্ম মৌসুমে ইতালিতে কৃষিকাজের জন্য প্রচুর শ্রমিক দরকার হয়। এ ছাড়া, পর্যটন এলাকায় হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য অনেক খাতে শ্রমিক প্রয়োজন হয়। সিজনাল ভিসার শ্রমিকরা সাধারণত এসব খাতে কাজ করেন। একটু বেশি পরিশ্রম করলে এখান থেকে প্রতি মাসে গড়ে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।
এর আগে ২০০১ সালে ৩০ হাজার লোককে ওয়ার্ক পারমিট দেয় ইতালি। ২০২২ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৬৯ হাজার ৭০০ এবং ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮২ হাজার ৭০৫ জন।
ইতালির নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান দেশটির সরকারের বেঁধে দেওয়া শর্ত মেনে প্রবাসী শ্রমিক নেওয়ার আবেদন করতে পারবে।
নিয়োগকারী বা মালিক নির্ধারিত SPID (Public Digital Identity System) ই-মেইল থেকে যাকে তিনি নিয়োগ করতে চান তার নাম, পাসপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ করে ইতালির স্থানীয় Prefettura (স্থানীয় প্রশাসনিক অফিসে) ছাড়পত্রের (Nulla Osta) জন্য আবেদন করতে পারবেন।
নিয়োগদাতার বার্ষিক আয়-ব্যয়, কর, ক্রয় ভাউচার, শ্রমিকের থাকার জায়গাসহ বেশ কিছু বিষয় দেখে ইতালি সরকার। শ্রমিকের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাসপোর্টের ফটোকপি এবং দক্ষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে দক্ষতার সনদ দরকার হয়।
প্রতি জন শ্রমিকের জন্য ১৬ ইউরো খরচ হয়। এর বাইরে কেউ যদি আবেদন ফরম পূরণ করতে হেল্প ডেস্কের সাহায্য নেন, এর জন্য আরও ১০০ থেকে ১৫০ ইউরো খরচ হতে পারে।
বিগত বছরে দেশ প্রতি নির্দিষ্ট কোটা বেঁধে দেওয়া হলেও এ বছর তা করা হয়নি। অর্থাৎ কোন দেশ থেকে কত শ্রমিক ইতালিতে যেতে পারবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি।
তবে, এ বছর আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন একটা শর্ত দেওয়া হয়েছে। সেটি হলো, নিয়োগদাতাকে প্রথমে শ্রমিকের চাহিদা জানিয়ে কর্মসংস্থান দপ্তরে আবেদন করতে হবে। তারা শ্রমিক সরবরাহ করতে অপারগ হলে একটা সনদ দেবে, যার ভিত্তিতে বিদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার আবেদন করা যাবে।
আবেদন গ্রহণযোগ্য হলে জনপ্রশাসন অফিস থেকে নুল্লা ওয়াস্তা বা ভিসার অনুমোদনপত্র দেওয়া হবে। এটি নিজ দেশের ইতালিয় দূতাবাসে জমা দিয়ে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়। অনলাইনে করা আবেদন যাচাই-বাছাই করে ভিসার অনুমোদনপত্র আসতে প্রায় ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রথম ধাপ হল, আপনার জন্য প্রযোজ্য ভিসার ধরন নির্ধারণ করা এবং আপনি এটির জন্য আবেদন করার যোগ্য কিনা তা যাচাই করা।
আপনাকে আপনার আবেদনের সাথে যে ডকুমেন্টগুলি জমা দিতে হবে, আবেদনটি প্রক্রিয়া হতে কতোদিন নিতে পারে এবং আপনাকে কি পরিমাণ ফি দিতে হবে তাও আপনাকে জানতে হবে।
প্রতিটি আবেদন অবশ্যই আপনার ভিসা বিভাগের জন্য প্রযোজ্য নির্দেশিকা মেনে চলবে।
আপনার ডকুমেন্টগুলি ইংরেজিতে না হলে, আবেদন করার আগে আপনাকে অনুবাদগুলি প্রস্তুত করতে হতে পারে।
2. আপনার আবেদন করুন – আপনার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন
আপনি যদি প্রস্তুত হোন তাহলে ফরম ডাউনলোড করুন ্ডি টাইপ (দীর্ঘ মেয়াদী) অথবা সি টাইপ (স্বল্প মেয়াদী) যেটা আপনার জন্য প্রযোজ্য সেটি পূরণ করুন, প্রিন্ট করুন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সহ ভিসা আবেদন কেন্দ্রে এনে জমা করুন।
3. এ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন – ভিসা আবেদন কেন্দ্র নির্বাচন করুন
বর্তমানে জমা করতে কোন এ্যাপয়েন্টমেন্ট এর প্রয়োজন নেই।
4. ফি প্রদান – দেখে নিন আপনাকে ফী হিসেবে কি পরিমাণ টাকা প্রদান করতে হবে
আপনার আবেদন পত্র পূরণ এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট তৈরী হয়ে গেলে দেখুন কি পরিমাণ ফী জমা করতে হবে ভিসা আবেদন ফী
ভিসা আবেদন কেন্দ্রে নগদ টাকায় এবং ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড দিয়ে ফী প্রদান করতে হবে। ব্যাংক কাউন্টারে টাকা প্রদানের পর রশিদ গ্রহন নিশ্চিত করুন।
5. আপনার আবেদন স্থিতি ট্র্যাক করুন – আপনার আবেদন প্রক্রিয়া কতোদুর অগ্রসর হয়েছে সে সম্পর্কে জানুন
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুতাবাস থেকে যখন ভিসা আবেদন কেন্দ্রে পাঠানো হবে, আবেদন কালে আপনার প্রদান করা ফোন নম্বরে আপনাকে ফোন করে জানানো হবে। আপনি যদি আরও নির্দিষ্ট করে খবরটি পেতে চান তাহলে আমাদের এসএমএস পরিষেবাটি ক্রয় করতে পারেন। এই পরিষেবার আওতায় আপনি এসএমএস এর পাশাপাশি ই-মেইল পাবেন। অথবা এখানে ক্লিক করুন।
6. পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন – ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন
ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন অথবা ভিএফএস সিলেট বা চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য কুরিয়ার পরিষেবা গ্রহন করতে পারেন।
আপনি বায়োমেট্রিক ডেটা (আঙুলের ছাপ) এর বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন যদি:
নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে, আমরা আবেদনকারী এবং দর্শকদের ব্যাগ (এলোপাতাড়ি) অনুসন্ধান পরিচালনা করার অধিকার সংরক্ষণ করি।