চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সামরিকতাবাদের যে কোনো পুনরুত্থান প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া। চীনের তাইওয়ান নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক উসকানিমূলক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার এই মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে তাকাইচিই প্রথম যিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তাইওয়ান পরিস্থিতি জাপানের নিরাপত্তার জন্য ‘বাঁচা–মরার হুমকি’ হতে পারে। এ অবস্থায় জাপান তথাকথিত যৌথ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে তাইওয়ান প্রণালীতে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মাও নিং বলেন, জাতিসংঘ সনদে উল্লিখিত যৌথ আত্মরক্ষার অধিকার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর জন্য তৈরি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানকে এই অধিকার প্রয়োগে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে, ‘আত্মরক্ষা’র অজুহাতে আগ্রাসন চালানো ছিল জাপানি সামরিকতাবাদের পুরনো কৌশল। ১৯৩১ সালে ‘মানচুরিয়া’ দখলের সময় জাপান একই অজুহাত দেখিয়েছিল। পরে গ্রেটার ইস্ট এশিয়া কো–প্রস্পেরিটি স্ফিয়ার রক্ষার নামেও পুরো এশিয়াজুড়ে আগ্রাসন ছড়ায়। পার্ল হারবার আক্রমণকেও তারা নিজেদের বাঁচার প্রশ্ন বলে অভিহিত করেছিল।
মাও বলেন, যুদ্ধ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকীতে আন্তর্জাতিক সমাজকে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং শান্তি ও যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা
Advertisement