চীন ও ক্রোয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করা এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ। দুই দেশের উন্নয়ন ও জীবনধারার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সংলাপের মাধ্যমে বোঝাপড়া ও আস্থা জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। শুক্রবার ক্রোয়েশিয়া সফররত চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন মিলানোভিচ।
বৈঠকে মিলানোভিচ আরও বলেন, ‘গেল কয়েক দশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে চীন। দেশটির শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন কোন দেশের জন্য হুমকি নয়। আর, এ বিষয়টিকে সবার বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিসংগত দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত। প্রতিটি দেশের নিজস্ব উন্নয়নপথ ও জীবনধারা রয়েছে। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও যোগাযোগের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে আস্থা বাড়ানো প্রয়োজন।’
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানিয়ে মিলানোভিচ পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়া এক-চীন নীতিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
জবাবে ওয়াং ই বলেন, চীনের পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতা শান্তির প্রতি দেশটির গভীর অঙ্গীকারের ভিত্তি। চীন অন্য দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা ও লাভের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। দেশটি একটি সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থারও সমর্থক, যেখানে বড়-ছোট সব দেশের সমান মর্যাদা থাকবে।
ওয়াং ই আরও বলেন, কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে চায় চীন। দুই দেশের সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বৈঠকে চীন-ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্পর্ক ও বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়। তখন ওয়াং ই বলেন, চীন ও ইইউ প্রতিপক্ষ নয় বরং অংশীদার। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক মতপার্থক্য মোকাবিলায় সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।
মিলানোভিচও সংলাপের মাধ্যমে চীন-ইইউ বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ক্রোয়েশিয়া সফরকালে দেশটির পররাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বিষয়ক মন্ত্রী গোরদান গ্রলিচ রাদমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
সূত্র: সিএমজি