সেপ্টেম্বর ১২: ‘সৌদি আরামকোর জন্য চীনে আমাদের বিকাশ কেবল ব্যবসা বা বিনিয়োগের বহরে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদী গভীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আস্থা স্থাপন এবং যৌথ মূল্যবোধ সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত।’ ৮ই সেপ্টেম্বর থেকে ১১ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২৬তম 'চীন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য মেলায়' সৌদি আরামকোর ডাউনস্ট্রিম প্রধান মোহাম্মদ কাথানি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, চীনে আরামকোর মোট বিনিয়োগ ইতোমধ্যে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে—চীন কেবল আরামকোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারই নয়, বরং এক নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদার।
বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে আয়োজিত চীনের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ এই মেলাটি চীনের 'পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা' মেয়াদের সূচনা বছরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অঙ্গনে বিশেষ সাড়া ফেলেছে। মেলায় বেশ কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ড অর্জিত হয়েছে।
বিশ্বের ১২৯টি দেশ ও অঞ্চল এবং ৩০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার ১,২০০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ও প্রতিনিধি দলের বহর অনুযায়ী এটি মেলার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সংস্করণ।
বর্তমান অস্থির বিশ্ব অর্থনীতিতে উপযুক্ত ও বিশাল বাজার হলো সবচেয়ে দুর্লভ সম্পদ। চীন বর্তমানে দ্রুত গতিতে তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঐতিহ্যবাহী চালিকাশক্তিকে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধির শক্তিতে রূপান্তর করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও বৈশ্বিক বাজারের সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত চীনের উচ্চ-প্রযুক্তি শিল্পখাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সারা দেশে আসা মোট বৈদেশিক বিনিয়োগের ৪১.৬%।
দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা জোরদার করা, চীনের বিশাল বাজারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা এবং চীনকে ভিত্তি করে বিশ্ববাজারে নিজেদের আরও বিস্তার ঘটানো—আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের এই স্বয়ংক্রিয় পছন্দই প্রমাণ করে: "চীনের সাথে চলাই হলো সুযোগের সাথে চলা; চীনে আস্থা রাখা মানেই ভবিষ্যতের ওপর আস্থা রাখা, আর চীনে বিনিয়োগ করা মানেই নিজের ভবিষ্যতের সমৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা।"
সূত্র: সিএমজি