অক্টোবর ১১: চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের অধীন জাতীয় তথ্যকেন্দ্র একাধিক অগ্রিম অর্থনৈতিক সূচক প্রকাশ করেছে। গতকাল (শনিবার) প্রকাশিত এসব সূচকে দেখা গেছে, চীনের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও উন্নতির ধারা আরও সুসংহত হচ্ছে।
আরও দেখা গেছে, বিনিয়োগের অর্থায়ন নিশ্চিত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের কাঠামো আরও আধুনিক ও উন্নত খাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কম্পিউটিং সক্ষমতা ও তথ্যসম্পদের মতো নতুন অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত কাজের মোট মূল্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও হিউম্যানয়েড রোবটের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি খাতে মূলধনী বিনিয়োগও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এতে নতুন অবকাঠামো ও নতুন শিল্পে বিনিয়োগের দ্রুত সম্প্রসারণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সূচকে দেখা গেছে, তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে রপ্তানিতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাহিদার সমন্বিত উন্নতির ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তিও ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে।
অফলাইন ভোগব্যয়ের বড় তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তৃতীয় প্রান্তিকে বিভিন্ন ধরনের ভোগব্যয়ের লেনদেনের মোট পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির হার দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
সেপ্টেম্বরে সরাসরি ভোগব্যয়ের লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টের তুলনায় বৃদ্ধির হার বেড়েছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। এ নিয়ে টানা তিন মাস ভোগব্যয়ের বৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ভোক্তা বাজারে পুনরুদ্ধারের ধারা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি সরাসরি পণ্য ও সেবার কেনাবেচার বাজারও ক্রমে স্থিতিশীল হচ্ছে।
সূচকে বৈদেশিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা আরও স্পষ্ট হতে দেখা গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের প্রধান বন্দরগুলো থেকে ছেড়ে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজগুলোর মোট বহনক্ষমতা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির হার দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সূত্র: সিএমজি