Sunday, November 1, 2026
Live
খবর
Verified
3 min read

শ্রমিক আন্দোলনে রণক্ষেত্র গাজীপুর: ব্যাংক-কারখানা ভাঙচুর, পুলিশ বক্সে আগুন

সবুজ আহমেদ
সবুজ আহমেদ গাজীপুর প্রতিনিধি
Published: Updated:
শ্রমিক আন্দোলনে রণক্ষেত্র গাজীপুর
শ্রমিক আন্দোলনে রণক্ষেত্র গাজীপুর

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। 

রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও অবরোধের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংক ও বিভিন্ন কারখানার গেটে ভাঙচুর, মৌচাক কাটার পুলিশ বক্স ভাঙচুর, কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সে আগুন এবং আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এখনো অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার পর কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। প্রথমে কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অবরোধ শুরু হলেও পরে রতনপুর, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে এসব এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে হাজার হাজার শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নিলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার বাস এবং মূমুর্ষ রোগীবাহী এম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংক ও বিভিন্ন কারখানার গেটে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। মৌচাক কাটার এলাকায় পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়েছে। কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন জানান, শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। তারা কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিয়েছেন।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন (পিপিএম-সেবা) জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান করছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মহাসড়ক অবরোধ থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নুরুল করিম ভূঁইয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এক সপ্তাহ দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমানে মহাসড়কে অবরোধ থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। এরই মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

তবে এ সিদ্ধান্তের পরও শ্রমিকদের আন্দোলন থামেনি। শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ ও আনসার একাডেমির ৩ নম্বর ফটক এলাকায় শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। ওই দিন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। 

অবরোধের কারণে অন্তত ১৮ থেকে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল বলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। রাতে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলেও রবিবার সকালে আবারও অবরোধ শুরু করেন।

Rate This Article

How would you rate this article?

সবুজ আহমেদ

সবুজ আহমেদ

গাজীপুর প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Featured Products

View All

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.