চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আধুনিক পরিষেবা খাত। জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন (এনডিআরসি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৪০ শতাংশেরও বেশি এসেছে এসব নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি থেকে। রোবট প্রযুক্তি, ওষুধশিল্প ও বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে চীনের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
এনডিআরসি জানায়, চীনে তৈরি উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো বিশ্বজুড়ে ১০ বিলিয়নবারেরও বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করা মানবসদৃশ রোবটের ৯০ শতাংশেরও বেশি এসেছে চীনা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে।
ওষুধশিল্পেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে চীনে উদ্ভাবিত ওষুধের বিদেশি লাইসেন্সিং চুক্তিগুলোর সম্ভাব্য সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই পরিমাণ প্রায় পুরো ২০২৫ সালের মোট চুক্তিমূল্যের সমান।
যানবাহনখাতেও নতুন জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে চীনে বিক্রি হওয়া নতুন যানবাহনের ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল নতুন জ্বালানিচালিত যানবাহন। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি রয়েছে।
শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উচ্চপ্রযুক্তিখাত এগিয়ে রয়েছে। প্রধান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক শিল্পমূল্য সংযোজনের তুলনায় উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদনখাতে মূল্য সংযোজনের প্রবৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল। অন্যদিকে, সরঞ্জাম উৎপাদনখাতে এই ব্যবধান ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট।
এদিকে, চীনের পরিষেবাখাতে মূল্য সংযোজন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এনডিআরসির হিসাব অনুযায়ী, দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি ও উপাত্তশিল্পের আকার ৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।
সূত্র: সিএমজি