Thursday, June 4, 2026
Live

চীনের যুগান্তকারী আবিষ্কার: হাড় জোড়া দেবে ‘বোন গ্লু’

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
Published: Updated:
চীনের যুগান্তকারী আবিষ্কার: হাড় জোড়া দেবে ‘বোন গ্লু’

জুন ৩, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: হাড় ভাঙার চিকিৎসায় এখন আর ধাতব প্লেট বা স্ক্রু-র প্রয়োজন না-ও হতে পারে। ভাঙা চিনামাটির বাসন জোড়া দেওয়ার মতোই সাধারণ ‘আঠা’ বা গ্লুর ইনজেকশন দিয়ে এখন দৃঢ়ভাবে জুড়ে দেওয়া যাবে ভাঙা হাড়। চীনের চিকিৎসা প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতিতেই এটি এখন বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।

সম্প্রতি চেচিয়াং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন অনুমোদিত ‘স্যার রান রান শ হসপিটাল’ ঘোষণা করেছে, বিশ্বের প্রথম অস্থি-আঠা ‘বোন ০২’ চীনের জাতীয় মেডিকেল পণ্য প্রশাসনের উদ্ভাবনী চিকিৎসা সরঞ্জাম বিশেষ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অধীনে অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে এটি মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকেও ‘ব্রেকথ্রু ডিভাইস’ বা যুগান্তকারী সরঞ্জামের স্বীকৃতি লাভ করেছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই প্রথম চীনের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি কোনো অর্থোপেডিক সরঞ্জাম একইসঙ্গে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এমন উদ্ভাবনী স্বীকৃতি পেল, যা বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।

অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারে রক্ত ও তরলপূর্ণ ভেজা পরিবেশে হাড়কে শক্ত ও নিরাপদে জুড়ে দেওয়া দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ ছিল। এর আগে তৈরি হওয়া হাড়ের আঠাগুলোর কার্যক্ষমতা ছিল দুর্বল এবং সেগুলো শরীরের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। ঝিনুক বা অয়েস্টারের আঠাল বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে অনুপ্রাণিত হয়ে হাসপাতালের গবেষক দলটি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। ৫০ বারেরও বেশি ফর্মুলা পরিবর্তনের পর তারা এই বিশেষ ‘বোন গ্লু’ বা হাড়ের আঠা তৈরিতে সফল হন।

আঠাটি মাত্র একটি ইনজেকশনের মাধ্যমেই ভাঙা হাড়ের চিকিৎসা করতে পারে এবং রক্তে ভেজা অস্ত্রোপচারের জায়গাতেও মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে হাড়ের টুকরোগুলোকে শক্তভাবে জুড়ে দিতে পারে। এর সর্বোচ্চ বন্ধন ক্ষমতা ২০০ কেজিরও বেশি।

গবেষকরা জানালেন, পরীক্ষায় দেখা গেছে অস্ত্রোপচারের ছয় মাস পরই আঠাটি প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের সাথে মিশে যায় এবং শরীর তা শোষণ করে নেয়।

চীন এবং মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে, চীনের তৈরি উচ্চ প্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো এখন বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় পৌঁছে গেছে। চীন এখন শরীরে মিশে যাওয়ার মতো হার্টের রিং (বায়ো-ডিগ্রেডেবল স্টেন্ট) এবং থ্রিডি-প্রিন্টেড পারসোনালাইজড ইমপ্লান্টসহ নানা ধরনের মৌলিক চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করেছে, যার অনেকগুলোই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া নিউরাল রিহ্যাবিলিটেশন এবং মোটর ফাংশন পুনরুদ্ধারের জন্য ইনভেসিভ ও নন-ইনভেসিভ 'ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস' প্রযুক্তিতেও বড় ধরনের সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে চীন।

শুভ/ফয়সল

তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া।

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.