চীনে সফররত জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। গতকাল (সোমবার) বিকেলে বেইজিংয়ের মহাগণভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সি চিন পিং বলেন, চীন ও জর্ডান কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবসময় পরস্পরকে সম্মান করে এসেছে এবং পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতা করে আসছে। ভিন্ন সামাজিক ব্যবস্থা ও ভিন্ন আকারের দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিন্ন স্বার্থ অর্জনের এটি একটি প্রাণবন্ত দৃষ্টান্ত। ২০১৫ সালে দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান জটিল ও অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত চীন-জর্ডান সম্পর্ক গড়ে তোলা দুই দেশের জনগণের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা এবং গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সি চিন পিং বলেন, দুই দেশের উচিত ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব বজায় রাখা, কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা জোরদার করা, পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা ঘনিষ্ঠ করা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জর্ডানের বিশেষ আঞ্চলিক ভূমিকার ওপর চীন গুরুত্ব দেয় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ রক্ষায় সমর্থন করে। চীন জর্ডানের সঙ্গে সরকার, রাজনৈতিক দল ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিনিময় জোরদার করতে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
সি বলেন, দুই দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য, অবকাঠামো, পরিবহন ও খনিজ সম্পদের মতো ঐতিহ্যবাহী সহযোগিতা আরও উন্নত করার পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সবুজ জ্বালানির মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় জোরদার করে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করা উচিত বলে জানান প্রেসিডেন্ট সি।
রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীন ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। জর্ডান চীনের সঙ্গে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জর্ডান দৃঢ়ভাবে একচীন নীতি অনুসরণ করে এবং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
জর্ডান চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং অর্থনীতি ও বাণিজ্য, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও ওষুধ, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। সেই সঙ্গে চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জর্ডানে বিনিয়োগ করতে স্বাগত জানান রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ।
মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে চীনের ন্যায়বিচারভিত্তিক অবস্থানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জর্ডান চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে চলমান পরিস্থিতি প্রশমনে ইতিবাচক প্রচেষ্টা চালাবে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জনগণ শান্তি ও সমৃদ্ধ জীবন উপভোগ করতে পারে।
সূত্র: সিএমজি