বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলে চীন-বাংলাদেশের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও উচ্চতর স্তরে উন্নীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন যুগে দুই দেশ একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের সমাজ গড়ে তুলতে একমত হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানসহ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১০০ জনেরও বেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, চীন বরাবরই বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। তিনি বলেন, ‘চীন সবসময় একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। উন্নয়নের পথে চীনের প্রতিরক্ষা নীতিও শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ কিংবা প্রভাব বলয় বিস্তারের কোনো স্থান চীনের অভিধানে নেই।‘
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের চারটি প্রধান উদ্যোগ—গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ এবং গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি সমতা-ভিত্তিক বহু মেরুবিশিষ্ট বিশ্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত কর্মকর্তাদের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। সেখানে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, চীন-ভারত সম্পর্ক, ব্রিকস এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
সূত্র: সিএমজি