জুন ১৮, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চিলিন প্রদেশের ছাংছুন শহরে হয়ে গেল আন্তর্জাতিক অপটোইলেকট্রনিক্স এক্সপো। প্রদর্শিত হয়েছে শতাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সাফল্য, যা অপটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ও ভবিষ্যৎ কমিউনিকেশন প্রযুক্তিতে চীনের দ্রুত অগ্রগতিকে তুলে ধরছে।
ছাংছুনকে বলা হয় চীনের অপটোইলেকট্রনিক্স শিল্পের ‘জন্মভূমি’, এবারের আয়োজন ২৩টি দেশ ও অঞ্চলের ৮৯০টিরও বেশি কোম্পানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে এনেছিল এক ছাতার নিচে। ১২ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে ১০টিরও বেশি উচ্চপ্রযুক্তি খাত—যেমন সেমিকন্ডাক্টর, আল্ট্রা-প্রিসিশন অপটিক্স এবং কমার্শিয়াল অ্যারোস্পেস—উপস্থাপিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে সবচেয়ে নজর কাড়ছে স্পেকট্রাল ইমেজিং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নতুন প্রজন্মের ইমেজিং স্পেকট্রোমিটার চিপ। এগুলো শীর্ষ চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের ক্যামেরায় ব্যবহার হচ্ছে, যা ছবিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে।
চিলিন ছিউশি স্পেকট্রাম ডাটা টেকনোলজির কারিগারি পরিচালক রেন ইয়ু জানালেন, ‘এই বছর আমরা উন্নত ২ মেগাপিক্সেল চিপের পাশাপাশি নতুন ৫ মেগাপিক্সেল ও ১২ মেগাপিক্সেল সংস্করণ এনেছি। গত বছরের তুলনায় আমাদের পণ্যের পারফরম্যান্স অনেক উন্নত হয়েছে। স্পেকট্রাল অ্যানালাইসিস ও ইমেজ রিকনস্ট্রাকশনে বড় অগ্রগতি হয়েছে।’
ছাংছুনের এই আয়োজনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম, যেখানে আট শতাধিক বিশেষজ্ঞ অপটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ডাচ অপটিক্স সেন্টার-এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক পল আরবাক জানালেন, ‘চীন অনেক ক্ষেত্রেই খুব সক্রিয়। ফোরামে প্রদর্শিত উচ্চ-নির্ভুল আয়না প্রযুক্তি সত্যিই অসাধারণ, বিশেষ করে মহাকাশ ব্যবহারের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্যদিকে, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের ‘অপটিক্স ভ্যালি’ এখন বৈশ্বিক অপটোইলেকট্রনিক্স শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র। ফাইবার অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এখানে ইলেকট্রনিক্স খাতের মুনাফা এক বছরে ১২ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
এই অঞ্চলে অবস্থিত চীনের সবচেয়ে বড় অপটিক্যাল ডিভাইস উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র এখন মূলত উচ্চগতির ডেটা ট্রান্সমিশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা এআই ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুয়াকং টেকের গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা সিলিকন ফোটোনিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের অপটিক্যাল মডিউল তৈরি করছেন, যা এখন সেকেন্ডে হাজার গিগাবিট পর্যন্ত ডেটা ট্রান্সফার সুবিধা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানালেন, প্রযুক্তি উন্নয়নের এই যাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ফল। এই যুগে প্রযুক্তির পরিবর্তন এখন এক দশক নয়, বরং এক বছরের মধ্যেই নতুন প্রজন্মে পৌঁছে যাচ্ছে।
ফয়সল/নাহার
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি।