গতকাল (মঙ্গলবার) চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও-এর সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
ওয়াং ই এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বিশেষভাবে যোগদানের জন্য সিহাসাককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চীন ও থাইল্যান্ড উভয়ই বহুপাক্ষিকতার একনিষ্ঠ সমর্থক ও চর্চাকারী এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার ও সুবিধাভোগী। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে আরও কৌশলগত, দূরদর্শী ও টেকসই "থাই কূটনীতি ২.০" গড়ে তোলার যে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে, তাকে চীন স্বাগত জানায়। চীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে থাইল্যান্ডের আরও বড় ভূমিকা পালন দেখতে চায়; যাতে যৌথভাবে জাতিসংঘকে পুনরুজ্জীবিত ও সক্রিয় করা যায়, বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নতি সাধন করা যায় এবং মানবজাতির শান্তি ও উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব হয়।
চীন এক-চীন নীতির প্রতি থাইল্যান্ডের অবিচল অঙ্গীকারের উচ্চ প্রশংসা করে। ওয়াং ই থাইল্যান্ডের সাথে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বিনিময় আরও বাড়াতে এবং "চীন-থাইল্যান্ড এক পরিবার" -এর এই ঐতিহ্যবাহী আত্মিক সম্পর্ককে আরও প্রগাঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দেন যে, দুই পক্ষকে দ্রুত চীন-থাইল্যান্ড কৌশলগত সহযোগিতার যৌথ কর্মপরিকল্পনার নতুন সংস্করণ তৈরি করতে হবে, প্রতিটি খাতের সহযোগিতাকে সুবিন্যস্তভাবে পরিকল্পনা করতে হবে এবং চীন-থাইল্যান্ড অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনে আরও নতুন ও বাস্তবসম্মত সাফল্য নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি সুসংহত করা, ধাপে ধাপে পারস্পরিক আস্থা পুনর্নির্মাণ করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টাকে চীন দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে এবং এই বিষয়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক।
থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক তাঁর বক্তব্যে বলেন, থাইল্যান্ড বরাবরই এক-চীন নীতির প্রতি অনুগত এবং চীনের সাথে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ নিবিড় করতে, বিভিন্ন খাতের সহযোগিতা জোরদার করতে এবং থাইল্যান্ড-চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গঠন প্রক্রিয়াকে আরও বাস্তব ও গভীর করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত বিরোধ নিরসনে ও মধ্যস্থতায় চীনের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান। থাইল্যান্ড সীমান্ত অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কম্বোডিয়ার সাথে নিয়মিত সংলাপ ও যোগাযোগ বজায় রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
(শুয়েই/তৌহিদ/জিনিয়া)