Wednesday, May 27, 2026
Live

নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, সভাপতিত্ব করলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সিএমজি
বাংলা বিভাগ
4 min read Updated:
নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চলতি মাসের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর্যায়ক্রমিক সভাপতিরাষ্ট্র হিসেবে চীনের উদ্যোগে, নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল (মঙ্গলবার) "জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিসমূহ সমুন্নত রাখা এবং জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ" শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করে। সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য এবং দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈঠকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ব্রিফিং দেন। বৈঠকে ২০টিরও বেশি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ এবং উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ওয়াং ই তাঁর ভাষণে বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে জটিল এবং গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মানবসভ্যতার জাহাজ বিপজ্জনক জলে প্রবেশ করেছে এবং বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নের পথ এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রতিকূলতাগুলো শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক সমাজের বিশ্বাস, ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখার সংকল্প, এবং সংস্কার ও উদ্ভাবনের সাহসকে পরীক্ষা করছে। জাতিসংঘকে সমুন্নত, পুনরুজ্জীবিত ও শক্তিশালী করার জন্য আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রথমত, আমাদেরকে অবশ্যই জাতিসংঘ সনদকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং এর শক্তিশালী পথনির্দেশক ভূমিকা প্রদর্শন করতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলার মূল কারণ এই নয় যে, সনদের চেতনা সেকেলে হয়ে গেছে, বরং সনদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বজায় রাখা হয়নি এবং সনদে অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিগুলো আন্তরিকভাবে পালন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত সনদের মূল উদ্দেশ্যে ফিরে আসা, এর চেতনাকে উত্সাহিত করা, এবং সনদের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করা। এর মধ্যে রয়েছে, সার্বভৌম সমতা সমুন্নত রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করা; শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির নীতি মেনে চলা এবং বলপ্রয়োগের বিরোধিতা করা; এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের অর্জনকে সমুন্নত রাখা ও আগ্রাসনের ইতিহাসের মহিমান্বিতকরণের বিরোধিতা করা;

দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্বকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রদর্শন করতে হবে। বিশ্ব যত বেশি অশান্ত হবে, নিরাপত্তা পরিষদকে তত বেশি নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে হবে এবং সংঘাত ও তার বিস্তারজনিত প্রভাব কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং একটি দায়িত্ব; একে অবশ্যই জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে, আন্তর্জাতিক দলিলপত্র দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করতে হবে;

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং এর জন্য শক্তিশালী সংহতি শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে গুরুতর বিলম্বের সম্মুখীন হয়ে জাতিসংঘকে অবশ্যই বিশ্বব্যাপী কর্মকাণ্ড জোরালোভাবে সমন্বয় করতে হবে এবং বৈশ্বিক সম্পদ সম্পূর্ণরূপে সংহত করতে হবে;

চতুর্থত, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার প্ল্যাটফর্মকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং এর জন্য শক্তিশালী বাস্তবায়ন ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। ক্রমাগত নতুন হুমকি ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে কোনো দেশই এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না; ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়াই এর একমাত্র সমাধান। আমাদের অবশ্যই মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজের ধারণা দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে;

পঞ্চমত, আমাদের অবশ্যই জাতিসংঘ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং এর শক্তিশালী প্রাণশক্তি গড়ে তুলতে হবে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই আন্তরিকভাবে জাতিসংঘের প্রতি তাদের আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে; তার দায়িত্ব পালনে সমর্থন করতে হবে; এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্য সাধনে ক্রমাগত অবদান রাখতে হবে।

ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, চলতি বছর জাতিসংঘে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের বৈধ আসন পুনরুদ্ধারের ৫৫তম বার্ষিকী। ৫৫ বছর ধরে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে, চীন জাতিসংঘের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে এবং এর প্রসারে ভূমিকা রেখেছে। এক নতুন ঐতিহাসিক সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে, চীন তার দায়িত্ব পালন করে যাবে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করবে; বহুপাক্ষিকতার ব্যানারে সকল দেশের সাথে বৃহত্তর ঐক্য অর্জন করবে; আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতাপূর্ণ একটি বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা নির্মাণে সহায়তা করবে; এবং মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ার লক্ষ্যের দিকে যৌথভাবে এগিয়ে যাবে। (রুবি/আলিম/সুবর্ণা)

王毅主持联合国安理会“维护联合国宪章宗旨和原则,加强以联合国为核心的国际体系”高级别会议

当地时间5月26日,经中国作为联合国安理会本月轮值主席倡议,安理会围绕“维护联合国宪章宗旨和原则,加强以联合国为核心的国际体系”举行高级别会议。中共中央政治局委员、外交部长王毅主持会议,联合国秘书长古特雷斯作形势通报,100多国代表包括20多国外长和高级别代表专程出席。

王毅在讲话中表示,当前国际形势正经历二战以来最复杂深刻变化。人类文明航船驶入危险水域,世界和平发展事业处于十字路口。眼下的挑战,考验国际社会守护和平的信念,秉持公道的决心,革故鼎新的勇气。我们要团结起来,行动起来,维护联合国,激活联合国,壮大联合国。

一是重振联合国宪章,彰显更强引领力。当今世界乱象的根源,不是宪章精神过时了,而是宪章确立的国际秩序未得到有效维护,宪章所体现的国际关系基本准则未得到切实遵守。国际社会应回归宪章初心,弘扬宪章精神,履行宪章义务。坚持主权平等,反对干涉内政。坚持和平解决争端,反对使用武力。坚持维护二战胜利成果,反对美化侵略历史。

二是重振安理会权威,展现更强行动力。世界越是动荡,安理会越要展现领导力,有效管控冲突及其外溢效应。安理会成员身份不是特权,而是责任,要超越国别私利,负责任运用国际公器。

三是重振国际发展合作,汇聚更强动员力。面对可持续发展目标执行严重滞后,联合国要大力协调全球行动,充分动员全球资源。

四是重振全球治理平台,塑造更强执行力。面对层出不穷的新威胁、新挑战,任何国家都无法独善其身,团结应对才是唯一出路。要牢固树立人类命运共同体意识,以协商代替胁迫,以共赢代替零和,以大团结破除小圈子。中方支持联合国在政治解决热点问题上发挥更大作用。

五是重振联合国系统效能,培育更强生命力。会员国要切实履行对联合国的财政义务,支持联合国履职尽责,不断为联合国事业添砖加瓦,不能动辄“毁约退群”,更不能另搞一套。联合国也需要自我革新,更好适应时代发展、提升交付能力,为各国人民带来更多可感、可及的成果。

王毅强调,今年是新中国恢复联合国合法席位55周年。55年来,中国作为安理会常任理事国,积极参与推动了联合国事业。站在新的历史起点,中国将继续担大义、行大道,同各国在多边主义旗帜下实现更大团结,推动建设更加公正合理的全球治理体系,共同朝着构建人类命运共同体的目标迈步前进。

Rate This Article

How would you rate this article?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Our Editorial Standards

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.