আফরিন মিম
বাংলাদেশের পোশাক, টেক্সটাইল, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতের সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হলো ‘গার্মেন্ট টেক বিডি এএসসিএম ডিকশনারি কন্টেস্ট ২০২৬’। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই জমকালো প্রতিযোগিতায় সেরা হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন লিডা টেক্সটাইল ও ডাইং কোম্পানি লিমিটেডের আসাদুজ্জামান খান।
বিজয়ী হিসেবে তিনি চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের হংকং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্কে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ‘ডেটা ডেভলপ প্রাইজ হংকং ২০২৬ কেস কম্পিটিশন’-এ সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ অর্জন করেছেন।
শুক্রবার গাজীপুরের পান্ডা গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এই মেধা লড়াইয়ের প্রথম ধাপের অনলাইন কুইজ হয় গত ৪ জুলাই এবং উন্নত কুইজের দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৮ জুলাই। দেশসেরা পেশাজীবীদের কঠোর লড়াই ও সরাসরি মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে চূড়ান্তভাবে শীর্ষ সাত প্রতিযোগী নির্বাচিত হন।
আজাদসহ সেরা সাতের তালিকায় আরও আছেন লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের মিজানুর রহমান সিফাত, স্নোটেক্স গ্রুপের ইমরানুল ইসলাম হৃদয়, আগামী ওয়াশিং লিমিটেডের মাহমুদুল হাসান, লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের সাজ্জাদুল করিম, লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের মীর মো আকতার উল আলম, এনআরএন নিটিং এন্ড গার্মেন্টস লিমিটেডের মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
এই প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী মেধাবীদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় দায়িত্ব। দ্বিতীয় থেকে সপ্তম স্থান অর্জনকারী ছয় প্রতিভাবানকে মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলাদেশ কেস কম্পিটিশন’-এর মেন্টর হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি, অষ্টম থেকে ৫৫তম স্থান অধিকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচিতরা সাব-মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
একাডেমি অব গার্মেন্টস টেকনোলজি বাংলাদেশ (বাংলাদেশে এএসসিএম এপিকসের অফিসিয়াল ট্রেনিং পার্টনার) এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ’র সুপারিশকৃত বাংলাদেশের শীর্ষ ৩৫০টি গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও নিটিং শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এই প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিক ধাপে এসব প্রতিষ্ঠানের ৫,৫০০-এর বেশি পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন। পরে কয়েক ধাপের বাছাই শেষে গতকালের অনুষ্ঠানের জন্য সেরা ৫৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়।
প্রথম স্থান অর্জনকারী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এই অর্জন তার পেশাগত জীবনে নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইন খাতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য একটি বড় দায়িত্ব। তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নতুন অনেক বিষয় শেখার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিযোগিতাটি শুধু দক্ষতা যাচাইয়ের ক্ষেত্র ছিল না, বরং জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
একাডেমি অব গার্মেন্টস টেকনোলজি বাংলাদেশের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার এবং মাস্টার ট্রেইনার ড. হেনরি সু বলেন, এই প্রতিযোগিতা শুধু দক্ষতা যাচাইয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং বাংলাদেশের শিল্প খাতে সাপ্লাই চেইন পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান অর্জনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
পেশাগত উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতেও উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বেচ্ছায় সামাজিক ও কমিউনিটি উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং প্রতিযোগিতার ফলাফল বা মূল্যায়নের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
এছাড়া একই অনুষ্ঠানে এএসসিএম সার্টিফিকেট এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
আয়োজকদের আশা, ‘গার্মেন্ট টেক বিডি এএসসিএম ডিকশনারি কন্টেস্ট ২০২৬’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে দক্ষ মানবসম্পদের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সূত্র: সিএমজি