বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন চিয়া কুইত্য। মঙ্গলবার ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে চিয়া কুইত্য জেনেভাভিত্তিক “গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অব গ্লোবাল গভর্ন্যান্স” (জিএফজিজি)-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয় ও সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা কোনো বিকল্প নয়, বরং সব দেশের যৌথ দায়িত্ব।
এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি তিনটি মূল নীতির কথা তুলে ধরেন।
প্রথমত, সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। চিয়া বলেন, বিভিন্ন দেশের জাতীয় পরিস্থিতি, উন্নয়নের ধাপ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভিন্ন হলেও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অংশ নেওয়ার অধিকার সবার সমান। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়কারী ভূমিকার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পারস্পরিক সম্মান ও বাস্তবভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘প্যান্ডেমিক এগ্রিমেন্ট’-সংক্রান্ত আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মানুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে আরও শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বনির্ভর রোগ নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন চিয়া।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তিগুলো যেন নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
চীনের সহায়তায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জিএফজিজি। বর্তমানে ৪৭টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত এ প্ল্যাটফর্ম বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
নাহার/হাশিম
তথ্য ও ছবি-সিনহুয়া।