জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে চীন। দেশটির খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্মার্ট ব্যবস্থার ব্যাপক প্রয়োগের ফলে বর্তমানে দেশটির মানসম্মত শস্য গুদামের ধারণক্ষমতা ৭৩ কোটি মেট্রিক টন অতিক্রম করেছে।
চীনের 'জাতীয় খাদ্য ও কৌশলগত মজুত প্রশাসন'-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক আধুনিক ও স্মার্ট শস্য গুদাম চালু করা হয়েছে। মোট ধারণক্ষমতার মধ্যে ২৫ কোটি টনেরও বেশি শস্য 'কম তাপমাত্রা' প্রযুক্তিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া আধুনিক পরিবেশ-নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তিতে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে ৬ কোটি ৭০ লাখ টন খাদ্যশস্য।
উত্তর চীনের হ্যপেই প্রদেশের ছিনহুয়াংতাও ডিপোর হাইকাং শাখায় গিয়ে দেখা যায় খাদ্য গুদামের ডিজিটাল রূপান্তরের এক অভাবনীয় চিত্র। সেখানে শস্যের মান পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত অটোমেটিক বা স্মার্ট স্যাম্পলিং মেশিন। আগে যেখানে প্রতি ট্রাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে ২০ মিনিট সময় লাগত এবং দিনে সর্বোচ্চ ২০টির মতো ট্রাক পরীক্ষা করা সম্ভব হতো, সেখানে এখন প্রতি ট্রাকে মাত্র ২ মিনিট সময় লাগছে।
চীন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শস্য উৎপাদনকারী দেশ। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছর দেশটি রেকর্ড ৭১ কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার টন শস্য উৎপাদন করেছে। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চীনের বার্ষিক খাদ্যশস্য উৎপাদন ৭০ কোটি টনের মাইলফলক স্পর্শ করল। প্রযুক্তিভিত্তিক এই উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা চিনের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও বেশি সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য করে তুলছে।
সূত্র: সিএমজি