তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় রচনা করবে বলে মন্তব্য করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউটের চীনা পরিচালক মা সিয়াওআন।
রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘নি হাও চায়না রাইটিং কম্পিটিশন ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মা সিয়াওআন বলেন, ‘নি হাও চায়না’—এই তিনটি সহজ শব্দ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের চীনের সঙ্গে পরিচয়ের একটি সুন্দর সূচনা তৈরি করে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চীন ভ্রমণ, চীনা ভাষা শেখা, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবনযাপন সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি দুই দেশের তরুণদের মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের গল্পও উঠে এসেছে তাদের লেখায়।
তিনি বলেন, একটি ভালো রচনা শুধু আকর্ষণীয় বা জাঁকজমকপূর্ণ ভাষার ওপর নির্ভর করে না। সত্যতা, আন্তরিকতা ও ব্যক্তিগত অনুভূতিই একটি লেখাকে অর্থবহ করে তোলে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী তরুণদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা লেখার মাধ্যমে তুলে ধরার প্রশংসা করেন তিনি।
আয়োজনটির প্রশংসা করে মা সিয়াওআন বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের নিজেদের কথা প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বের গল্প আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাহাড় ও সমুদ্র দুই দেশকে ভৌগোলিকভাবে আলাদা করলেও একই চাঁদ দুই দেশের মানুষের হৃদয়কে এক করে। দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে, তরুণ প্রজন্ম সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের অনুষ্ঠান কোনো সমাপ্তি নয়, বরং নতুন শুরুর প্রতীক। তরুণদের চীনা সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা, চীনে অর্জিত অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় রচনায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার সব বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন মা সিয়াওআন।
সূত্র: সিএমজি