দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেল ২০২৬ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে সম্প্রতি একটি সম্ভাব্য বেতন কাঠামোর ছক ভাইরাল হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এই সম্ভাব্য ছকে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির একটি বড় রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এটি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়নি। এটি মূলত পে-কমিশনের সম্ভাব্য সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি একটি অনুমানভিত্তিক খসড়া।
৯ম পে স্কেলের সর্বশেষ খবর : কার বেতন কত বাড়তে পারে?
প্রকাশিত সম্ভাব্য কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি দুটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।
১ম থেকে ১০ম গ্রেডে ৫০% বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব
উচ্চ ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মূল বেতন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে:
-
১ম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে সম্ভাব্য ১,১৭,০০০ টাকা হতে পারে।
-
২য় থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের বেতনও একই অনুপাতে বাড়তে পারে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১০০% বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত শতভাগ বেতন বৃদ্ধি।
সম্ভাব্য ছক অনুযায়ী:
-
১১তম গ্রেডের বর্তমান বেতন ১২,৫০০ – ৩০,২৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫,০০০ – ৬০,৪৬০ টাকা হতে পারে।
-
২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬,৫০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
-
একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বেতনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য এ ধরনের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে।
9th Pay Scale Salary Chart 2026 (Propossed)

অর্থনীতিবিদদের মতামত: সুফল ও চ্যালেঞ্জ দুটোই আছে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১০০% বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে অনেকটা স্বস্তি পাবে।
তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তাঁদের মতে:
-
একসঙ্গে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে।
-
জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হবে।
-
সরকারকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে কঠোর হতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ
সম্ভাব্য ৯ম পে-স্কেলের এই খবর প্রকাশের পর সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নতুন পে-স্কেলের সম্ভাবনা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
অনেক কর্মচারী মনে করছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে থাকা সম্ভব হবে।
এখনো চূড়ান্ত হয়নি ৯ম পে-স্কেল
নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখানোর সুযোগ নেই। কারণ এটি এখনো কোনো সরকারি গেজেট বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি রয়েছে:
-
পে-কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন পর্যায়ে
-
অর্থ মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইয়ে
-
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায়
দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।