মঙ্গলবার চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক পরিচালনার সময় কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজা বিয়াভিসেনসিও’র সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
ওয়াং ই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশেষভাবে যোগদানের জন্য বিয়াভিসেনসিওকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, চীন কলম্বিয়াকে নিরাপত্তা পরিষদের জুন মাসের পালাক্রমিক সভাপতি রাষ্ট্রের দায়িত্বে সমর্থন করবে। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কৌশলগত নেতৃত্বে চীন-কলম্বিয়া সম্পর্ক যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে কলম্বিয়া যৌথভাবে 'বেল্ট এন্ড রোড' উদ্যোগের বৃহত্ পরিবারে যোগ দেওয়ার এক বছর পরে, বাস্তব সহযোগিতায় সমৃদ্ধ ফল অর্জিত হয়েছে, যা দুই দেশের জনগণের জন্য প্রকৃত কল্যাণ বয়ে এনেছে। চীন সর্বদা কৌশলগত উচ্চতা থেকে চীন-কলম্বিয়া সম্পর্ক দেখে এবং বিকাশ ঘটায়, কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এবং দীর্ঘদিন ধরে কলম্বিয়ার এক-চীন নীতি মেনের প্রশংসা করে। কলম্বিয়াসহ লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা সর্বদা চীনা কূটনীতির ঐতিহ্য। চীন-লাতিন আমেরিকা সম্পর্কের বিকাশ তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। চীন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে কলম্বিয়ার সঙ্গে সব খাতে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চায়, যা চীন-কলম্বিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সহায়তা করবে।
বিয়াভিসেনসিও জানান, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি খুবই আনন্দিত। কলম্বিয়া শীঘ্রই নিরাপত্তা পরিষদের পালাক্রমিক সভাপতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং চীনের সমর্থন প্রত্যাশা করে। জাতিসংঘ সব দেশ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, যার লক্ষ্য শান্তি রক্ষা ও যুদ্ধ প্রতিরোধ করা। বর্তমানে এটির প্রয়োজন সময়ের সাথে সাথে সংস্কার ও উন্নতি। চীন শান্তিপ্রিয় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি দেশ। চীনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সব দেশের সাধারণ পছন্দ। প্রেসিডেন্ট পেট্রো চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তাঁর দুইবার চীন সফরই ইতিবাচক ফল অর্জন করেছে। কলম্বিয়া এক-চীন নীতি মেনে চলে এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো খাতে বাস্তব সহযোগিতা জোরদার করতে, সভ্যতার সংলাপের সূচনা করতে এবং দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিতে চায়। পাশাপাশি, লাতিন আমেরিকা-চীন সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায়।
জিনিয়া/তৌহিদ/তুহিনা