এ বছরের নবম টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাবে উত্তর-পূর্ব চীনের চিলিন ও লিয়াওনিং প্রদেশে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এতে বন্যা ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, আটকে পড়েছেন বহু বাসিন্দা। তাদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা।
শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশের উপকূলে প্রথমবার এবং মধ্যরাতের দিকে দ্বিতীয়বার আঘাত হেনে স্থলভাগে প্রবেশ করে টাইফুন বাভি। চলতি মাসে টাইফুন মেসাকের পর এটি দ্বিতীয় টাইফুন। মেসাক দক্ষিণ চীনে ব্যাপক বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছিল।
টাইফুন বাভির প্রভাবে সোমবার ভোর থেকে চিলিন প্রদেশের মেইহ্যখৌ শহরে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে নদীর পানি বেড়ে যায় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। একই দিন সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে শহর কর্তৃপক্ষ বন্যা মোকাবিলার জরুরি সতর্কতার মাত্রা লেভেল-২ থেকে সর্বোচ্চ লেভেল-১-এ উন্নীত করে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং প্লাবিত এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।
বন্যাপ্রবণ নিচু এলাকাগুলোতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ ২৪ ঘণ্টা পানি নিষ্কাশনের জন্য ভ্রাম্যমাণ পাম্প মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ স্থাপনা সুরক্ষায় বন্যা প্রতিরোধক বাঁধ ও বালুর বস্তা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়।
ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে মেইহ্যখৌ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হুইফা নদীর পানি বিপৎসীমার চেয়ে বর্তমানে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে। এর ফলে হুইফা নদীর তীরবর্তী প্রায় ৭ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মেইহ্যখৌ শহরের একটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রের প্রধান শান লিলি বলেন, ‘এখানে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকদল রয়েছে। প্রতিটি তলায় আলাদা দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীরা দায়িত্বে রয়েছেন, যাতে কেউ সাহায্যের প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেওয়া যায়।‘
এদিকে, লিয়াওনিং প্রদেশের রাজধানী শেনইয়াং শহরে ভারি বৃষ্টিতে আবাসিক এলাকাগুলো প্লাবিত হলে অগ্নিনির্বাপক বাহিনী জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
মঙ্গলবার ভোরে হুনান জেলায় একটি আবাসিক এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর উদ্ধারকর্মীরা পুরো আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত প্রায় ২টার মধ্যে আটকে পড়া সব বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন।
সূত্র: সিএমজি