Friday, April 24, 2026
Live

ভূত বাংলা মুভি এক্সপ্লেইন, চরিত্র ও কাহিনী

ভূত বাংলা মুভি এক্সপ্লেইন, চরিত্র ও কাহিনী
ভূত বাংলা মুভি এক্সপ্লেইন, চরিত্র ও কাহিনী

আন্তর্জাতিক আয়ে এগিয়ে আছে হিন্দি সিনেমা ভূত বাংলা মুভি। আন্তর্জাতিক বক্স অফিস আয়ের তালিকায় ২০ নম্বরে রয়েছে সিনেমাটি। এটি গত মঙ্গলবার ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার আয় করেছে। সব মিলিয়ে সিনেমাটির এ সপ্তাহের আয় ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ৫০০টি হলে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয়। 

ভূত বাংলা মুভি এক্সপ্লেইন

মঙ্গলপুর গ্রামে কোন মেয়ে লাল বেনারসী পড়ে কোনে সাজতে পারে না। বিয়ের সানায় বাজলেই সেখান থেকেই কোনেকে তুলে নিয়ে যায় এক অন্ধকার শক্তির দানব। যার নাম বধুসুর। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই ভয়ের রাজত্বে হঠাৎ করে লন্ডন থেকে ফিরে এসে অর্জুন এবং তার বোন মীরা। এই মঙ্গলপুরে তাদের দাদা তাদের জন্যই রেখে গেছেন 500 কোটি টাকার এক বিশাল রাজপ্রাসাদ। অর্জুন সেই রাজপ্রাসাদেই তার বোনের বিয়ের আয়োজন করতে থাকলে ভয়ঙ্কর এক ইতিহাস সামনে চলে আসে যা কিনা এই রাজপ্রাসাদকে ঘিরে এতক্ষণ নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন কোন মুভির এক্সপ্লেনেশন নিয়ে আমরা চলে এসেছি তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে এই মুভির এক্সপ্লেনেশন শুরু করা যাক তবে শুরু করার আগে একটা কথা মুভিটি এখনো কোন সাইটে এভেলেবল নয় এজন্য ট্রেলার কার্ড দিয়ে আমরা এক্সপ্লেইন করছি এজন্য একই সিন বারবার আসতে পারে আশা করি ব্যাপারটাকে এপ্রিশিয়েট করবেন গল্প শুরু হয় একটা ঝড় বৃষ্টিমুখর রাত দিয়ে। যেখানে চারজন তরুণ দিল্লি থেকে মঙ্গলপুর স্টেশনে যাওয়ার জন্য রাত একটার প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধরতে এসেছিল। কারণ তাদের বন্ধুর বিয়ে ছিল। কিন্তু স্টেশন মাস্টারের কাছে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে বৃষ্টির কারণে ট্রেন লেট। আর তাই তারা স্টেশনে বসে থাকা এক বাবার আগুনের কুন্ডলীর কাছে গিয়ে বসে। বসে তারা শরীর গরম করে নেয়। কারণ সেখানে বেশ শীত ছিল। সেই বাবা এবার তাদের মঙ্গলপুরের একটা গল্প শোনান। সেখানে বিশ্বাস করা হয় যে ওই গ্রামে কোন মেয়ে বিয়ে করতে পারে না। কেননা এমনটা হলেই কোন এক রাক্ষস এসে কোনেকে তুলে নিয়ে যায়। বাবার গল্পটি এবার ফ্ল্যাশব্যাকে যায়। যেখানে আমরা দেখি একটা দম্পতির বিয়ে হয়েছে এবং পুরো পরিবার বাসে করে লখনৌ এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিল। পথে তারা লক্ষ্য করে কিছু লোক তাদের বলছে ঝড় বৃষ্টির কারণে রাস্তা বন্ধ। তাই তাদেরকে মঙ্গলপুর হয়ে যেতে হবে।

বাস ড্রাইভার মঙ্গলপুরেরই বাসিন্দা ছিল। সে সবাইকে সতর্ক করে এবং ভয় পায় কারণ ১২ বছর আগে সেখান থেকে শেষ কোণে নিখোঁজ হয়েছিল সে জানায় ওই রাস্তায় গেলে কোনে সহ সবাই মারা পড়বে কিন্তু তার কথা কেউই কানে তোলে না সেই পথে যাওয়ার সময় জঙ্গলের কাছে বাসের টায়ার পাংচার হয়ে যায় ঠিক তখনই এক অশুভ শক্তি এসে প্রায় সবাইকে মেরে ফেলে এবং কোনেকে তুলে নিয়ে যায় এরপর গল্পের দৃশ্যপট পাল্টে যায় মঙ্গলপুর প্রাসাদের মালিক আচার্য দুশান্তের উপর যার মৃত্যু হয়েছে তার চিতার সামনে শান্তার নামে তার ম্যানেজার শোকাতুর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে। আচার্যর মৃত্যুতে সে অত্যন্ত মর্মাহত ছিল। এরপর দৃশ্য চলে যায় লন্ডনে। যেখানে বাসুদেব নামের এক ব্যক্তির দুই সন্তান মীরা ও অর্জুন থাকে। মীরার বিয়ে রাহুল নামের এক ছেলের সাথে ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু রাহুলের পরিবারের পন্ডিত মীরার কুষ্টিতে কিছু দোষ খুঁজে পান। যার ফলে ভিডিও কলের মাধ্যমেই মীরার বিয়ে প্রথমে একটা গাছের সাথে দিয়ে সেই গাছটি কেটে ফেলা হয়। যাতে তার কুষ্টির দোষ কেটে যায়। এখানে অর্জুনকে তার বোনের জন্য কিছু মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয় যা সে ঠিকমতো করতে পারছিল না। মীরার বিয়ের লগ্ন ঠিক হয়েছিল 13ই নভেম্বর। অর্জুনের বাবা বাসুদেবের বিয়ের লোকেশন নিয়ে কোন মাথা ব্যথা ছিল না। তার কাছে কন্যা দান করাটাই আসল ছিল। আমরা দেখতে পাই বাসুদেব তার ছেলে অর্জুনের প্রতি ও উপর উপর বেশ কঠোর। কারণ তার উপর অনেকের ঋণ রয়েছে। কিন্তু মনে মনে সে অর্জুনকে খুবই ভালোবাসে। যা মীরা অর্জুনকে বুঝিয়ে বলে। এরপর বাসুদেব একটা লেকচার দেওয়ার জন্য সিডনি রওনা হন এবং সন্তানদের মানা করে যান যাতে করে তারা ফোন না করে। বাসুদেব চলে যাওয়ার পর পরই সেখানে একজন আইনজীবী আসেন। তিনি জানান মীরার নামে তার দাদু আচার্য দুশান্ত একটা বিশাল প্রাসাদ রেখে গেছেন। যার ভারতীয় মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

এই কথা শুনে মীরা ও অর্জুন দুজনেই অবাক হয়ে যায়। কারণ তারা জানতো না যে তাদের কোন দাদু আছে। তাদের মায়ের নাম ছিল যশোদা। দুই ভাই-বোন তাদের বাবাকে ফোন করে সব নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেন না। তখন অর্জুন সিদ্ধান্ত নেয় যে সে নিজে আগে সেখানে গিয়ে পুরো ব্যাপারটা দেখে আসবে এবং তারপর মীরাকে জানাবে। এই ভেবে অর্জুন মঙ্গলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ইতিমধ্যেই সিডনিতে বাসুদেবকে আত্মা ফেরেশতা দানব রোগীদের উপর লেকচার দিতে শোনা যায়। যেখানে কালোজাদুর প্রসঙ্গও আসে। ব্যাকগ্রাউন্ড স্লাইডে আমরা একটা বাদুরের মত মানবাকৃতির প্রাণী দেখতে পাই। যা দেখতে হুবহু সেই কোণকে অপহরণ করা প্রাণীটির মতো। বাসুদেবের মতে মানুষের ভেতরে দেবত্ব এবং দানবত্ব দুই আছে কিন্তু অনেক সময় মানুষের আসরিক প্রবৃত্তি বেরিয়ে আসে যা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় অর্জুন ফ্লাইটে করে ইন্ডিয়া পৌঁছায় এবং মঙ্গলপুর যাওয়ার ট্রেন ধরে ট্রেনে তার পরিচয় হয় প্রিয়া নামের এক মেয়ের সাথে সে ট্রেন থেকে পড়ে যাচ্ছিল অর্জুন তাকে বাঁচিয়ে নেয় এরপর অর্জুন মার্স নামের একটা লজে ওঠে সেখানে ছাড়পোকার কামড়ে সারারাত সে ঘুমাতেই পারেনি এবং প্রাসাদের ম্যানেজারও তাকে নিতে আসেনি সেখানে অন্থনি নামের এক রিসেপশনিস্ট ছিল যে অর্জুনকে নিয়ে বেশ মজা করে। অর্জুন যখন অন্থনির কাছে সেখানকার প্রাচীন সৌখের আলোগুলো সম্পর্কে জানতে চায় তখন সে শম্ভু নামের এক ব্যক্তির কথা বলে যে পুরো গ্রামে এসব জিনিস সরবরাহ করে। চা খাওয়ার সময় সেখানে ম্যানেজার শান্তারাম আসে।

যে গত রাতে স্টেশনে আসতে পারেনি। তার যুক্তি ছিল মঙ্গলপুর অভিশপ্ত। সে অর্জুনের কাছে ক্ষমা চায় এবং শিব মন্দির দর্শনের পর অর্জুনকে প্রাসাদে নিয়ে আসে। প্রাসাদের বাইরের অবস্থা খুব একটা ভালো না থাকলেও ভেতর থেকে সেটি ছিল অসাধারণ সুন্দর। প্রাসাদটির সামান্য কিছু সংস্কার বা রেনোভেশনের প্রয়োজন ছিল। আমরা সেখানে অর্জুনের মা যশোদারও একটা ছবি টাঙানো দেখতে পাই। শান্তারাম জানায় এই প্রাসাদের ভেতরে ভূতের বাস রয়েছে এবং সেই ভয়েই তার দাদাজি কেবল মন্দিরের কক্ষে পূজা করতে আসতেন। পূজা শেষ করে চাবি নিয়ে অন্য কোথাও চলে যেতেন। কিন্তু এই প্রাসাদ সহজে খোলা সম্ভব নয় এবং এর চাবিটা কোথায় আছে তা কেউই জানে না। আসলে প্রাসাদের পেছনে যে জঙ্গলটি রয়েছে সেটিকে পিশাচ বন বলা হয়। সেখানে রাতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং গল্পের শুরুতে যে কোনে নিখোঁজ হয়েছিল সেটিও এই পিশাচ বনেই ঘটেছিল। এখন অর্জুন সিদ্ধান্ত নেয় যে সে রাতে এই প্রাসাদে থাকবে এবং এখানেই ঘুমাবে। স্বাভাবিকভাবেই এত বড় একটা প্রাসাদ থাকতে সে কেন লজে থাকতে যাবে? কিন্তু এই কথা শুনে সান্তারাম ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। সে ভাবে এটা কিভাবে সম্ভব? কারণ সূর্যাস্তের পর এখানে একটা পাখি ও ডানামেলার সাহস পায় না। একসময় এখানে তিনজন নিরাপত্তা রক্ষী বা গার্ড অবস্থান করেছিল। যাদের মধ্যে একজন আত্মহত্যা করে এবং বাকি দুইজন পাগল হয়ে যায়। একটি মজার বিষয় হলো অর্জুনের বাবা বাসুদেব সম্ভবত এই রহস্য সম্পর্কে কিছু জানতেন কারণ তিনি যদি মুখ খুলতেন তবে হয়তো অর্জুনকে এখানে আসতেই দিতেন না। যাইহোক রাতে অর্জুন ছাদে গিয়ে মীরাকে ফোন করে সবকিছু জানায়। সে বলে প্রাসাদটি আসল এবং এটি দেখতে অত্যন্ত চমৎকার। সংস্কার কাজ শেষ করে 13ই নভেম্বর এখানেই তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। কিন্তু কথা বলার মাঝপথেই হঠাৎ সিগনাল কেটে যায়।

শান্তারাম তখনও জানতো না যে এখানে বিয়ের আয়োজন হতে যাচ্ছে। এদিকে আমরা লক্ষ্য করি যে প্রাসাদের ভেতরে এমন কেউ একজন আছে যাকে মানুষের মতো দেখাচ্ছে না। অর্থাৎ প্রাসাদের ভেতরে নিশ্চয়ই কোন গোলমাল ছিল। পরদিন সকালে প্রাসাদের সামনে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়ে গেট খটখটাচ্ছিল। অর্জুনকে জীবিত দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়। এতে অর্জুন রেগে গিয়ে শান্তারামকে নির্দেশ দেয় দ্রুত প্রচুর কর্মী নিয়ে আসতে যাতে প্রাসাদটিকে বসবাসীর উপযোগী করে তোলা যায়। অর্জুন যখন শান্তারামের সাথে কথা বলছিল তখনই সেখানে জগদীশ নামের একজন ওয়েল্ডিং প্ল্যানার আসে। যাকে অর্জুন আগেই ডেকেছিল। বিয়ের খবর জানা মাত্রই আশেপাশের কর্মীরা ভয়ে কাজ ফেলে পালিয়ে যায়। তখন শান্তারাম বাধ্য হয়ে বধুসুরের কাহিনী শোনা। সে বলে এখানে যে মেয়ে বিয়ে করতে আসে বধুসুর তাকে তুলে নিয়ে যায়। যা থেকে গল্পের শুরুর ঘটনার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। অনেককাল আগের কথা এক অসুর কন্যা এবং দেব পুত্রের মধ্যে প্রেম হয়। কিন্তু স্বভাবতই তাদের বিয়ে হতে পারেনি। সেই অসুর কন্যা অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সন্তানই হলো বধুসুর। কলিযুগের শুরুতে বধুসুরের জন্ম হয়েছিল। পরবর্তীতে অসুর কন্যা বধুসুরকে অন্ধকারতা নামক এক শয়তানের হাতে তুলে দেয় এবং সেই শয়তানই তাকে লালন-পালন করে। বধুসুর বড় হয়ে অসীম শক্তি অর্জনের জন্য শিবের আরাধনা শুরু করে এবং প্রায়ই অমরত্ব লাভ করে। সে এই বর্দান পায়। সে কেবল নিজের হাতে অথবা নিজের কোন বংশধরের হাতেই মারা পড়বে। অন্য কেউ তাকে ধ্বংস করতে পারবে না। সবথেকে বড় বিষয় হলো বধুসুর কেবল অন্ধকারেই আসে এবং সেখান থেকেই শক্তি সংগ্রহ করে। শক্তির দম ভেসে দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। দেবতারা নিরুপায় হয়ে ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। তখন বিষুদেব এক লীলা রচনা করেন এবং বৃক্ষিণী নামক এক রূপবতী নারীকে সেখানে পাঠান। বধুসুর তার প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার সময় বৃক্ষিণী তার মালা বা সাধসজ্জার ভেতরে একটা খঞ্জর লুকিয়ে রেখেছিল। যা সে বধুসুসুরের বুকে বসিয়ে দেয়। এতে বধুসুরের বিশাল দেহটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। তবে যেহেতু তাকে সহজে মারা সম্ভব নয় এবং তার আত্মা অবিনশ্বর ছিল তাই বৃক্ষে মধুসুসুরের সমাধি বা মন্দিরের উপর হাত রেখে নিজের ঐশ্বরিক শক্তিতে একটা বৃক্ষে বা গাছে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এর ফলে বধুসু সেখানে বন্দী হয়ে পড়ে। বধুসুর এখন সেই অপেক্ষাতেই আছে যে কবে কেউ তাকে এখান থেকে মুক্ত করবে এবং সে তার বাদুড় বাহিনী নিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে আক্রমণ চালাবে। এরপর শান্তারাম যখন সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল তখন গ্রামের এক লোক তাকে শম্ভু বলে ডাক দেয়। এতে অর্জুন বুঝতে পারে যে প্রাসাদের ম্যানেজারি আসলে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে অন্থনিও গ্রামবাসীদের কাছে বিক্রি করছিল। এই চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে বা বদনাম থেকে বাঁচতে শান্তারাম শেষ পর্যন্ত বিয়ে এবং প্রাসাদ পরিষ্কারের কাজে রাজি হয়। ঠিক তখনই আমরা প্রিয়াকে দেখি। যে এসএই ও অমিত কুমারীর কাছে এসেছিল। আসলে শুরুতে যে কোনেটি নিখোঁজ হয়েছিল সে ছিল প্রিয়ার বোন। প্রিয়া তার চাচা বা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও কোন খোঁজ পাচ্ছিল না। ছবি দেখে পুলিশের মনে হচ্ছিল এটি কোন বন্য পশুর কাজ। কিন্তু আমরা জানি যে এই সবকিছুর পেছনে বধুসুর এবং তার অশুভ বাহিনীর হাত ছিল। তো সেই রাতে প্রাসাদের ভেতরে জগদীশ ঘুমাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ সে কাউকে দেখতে পায়। অর্জুন সেই সোরগোল শুনে জেগে ওঠে। পরে দেখা যায় সে আসলে কোন বধু সুর নয়।

বরং জগদীশের ভাগ্নে সুন্দর ওরফে বাল্লি যে একজন ইলেকট্রিশিয়ান প্রাসাদের ভেতরে বিদ্যুতের সমস্যা ছিল তাই তাকে ডাকা হয়েছিল তার সাথে আরো কয়েকজন লোক এসেছিল বালি অনেকক্ষণ ধরে দরজা ধাক্কা ছিল কিন্তু কোন সাড়া না পেয়ে সে একটা খোলা জানালা দিয়ে ভেতরে ঢোকার কথা ভাবে এবং ঢুকেও পড়ে বালির সাথে তার টিমের অন্য সদস্যরাও এসেছিল যাদের মধ্যে রাগিনী নামের একজন রাধনীও ছিল স্টেশনে নামার পর সবাই তাকে বধুসুরির গল্প শুনিয়ে ভয় দেখিয়েছিল এতে অর্জুন ভীষণ রেগে যায় সেই সবকিছুর জন্য শান্তারামকে দায়ী করে। কারণ তার কারণেই সবাই ভয় পাচ্ছিল এবং এতে করে বিয়েতে সমস্যা হতে পারত। এদিকে প্রাসাদের সংস্কার কাজ পুরো দমে চলছিল। তখনই বিদ্যুতের গোলমালের কারণে বাথরুমের গিজার পানি অতিরিক্ত গরম করে ফেলে। যার ফলে জগদীশের পশ্চাৎ দেশ পুড়ে যায়। অর্জন যখন গিজার বন্ধ করতে যায় তখন খোলা তার এবং মেঝেতে জল থাকার কারণে সে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়। এতে করে তার হার্টবিট বন্ধ হয়ে যায় এবং সে কারিগরিভাবে মারা যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রিয়া কোন এক কারণে প্রাসাদে আসে এবং সিপিআর দিয়ে অর্জুনকে বাঁচিয়ে তোলে। অর্থাৎ এখন তাদের দুজনের একে অপরের জীবন বাঁচানোর হিসাব বরাবর হয়ে গেল। প্রিয়া জানায় সে একজন লেখক যে প্রাচীন মন্দিরের উপরে বই লিখছে। তার বইতে বধুসুরের মন্দিরেরও উল্লেখ থাকবে। যদিও সেই মন্দির কখনো কেউ দেখেনি। তবে লোকথা অনুযায়ী তার অস্তিত্ব আছে। প্রিয়াকে সেদিন সন্ধ্যা 7তটায় বাসে করে সীতাপুর যেতে হতো। তাই অর্জুন নিজে তাকে বাস স্টপে ছেড়ে দিয়ে আসে এবং 13 তারিখে এই প্রাসাদেই তার বোন মীরার বিয়ের নিমন্ত্রণ জানায় যাতে প্রিয়া রাজি হয় রাতে বাল্লি প্রাসাদের একটা ঘরে ঘুমাচ্ছিল তখন দুবার কেউ তার পা টেনে তাকে জাগিয়ে দেয় বাল্লি এতটাই ভয় পেয়ে যায় যে সে একটা ভৌতিক গান শুনতে শুরু করে যা ভুল ভুলাইয়া সিনেমার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল এতে বিরক্ত হয়ে এবং ভয় পেয়ে জগদীশ ও অর্জুন এসে তাকে মারধর শুরু করে সে কেন এত রাতে গান শুনছে কিন্তু বালির দাবি ছিল যে এই প্রাসাদে কোন সমস্যা নিশ্চয়ই আছে। আর সে কিছুতেই ঘুমাতে পারছে না। তারা চলে যাওয়ার পর দেখা যায় বাদুরের মত কোন এক ছায়া এসে বালির উপর ভর করে। অর্থাৎ তাকে পজেস করে নেয়। আমরা একটা বিশেষ জিনিস লক্ষ্য করি যে অর্জুন মরে গিয়ে বেঁচে ফেরার পর থেকে সে প্রাসাদের ভেতরে ও বাইরের মৃত মানুষদের আত্মা দেখতে পাচ্ছিল। যা অন্য কেউ দেখতে পেত না। এই আত্মা দেখার চক্করে বার্লি এবং শান্তারাম মাঝেমধ্যে মার খাচ্ছিল।

এই কারণেই শান্তারাম সেখান থেকে চলে যায়। এই পর্যায়ে কমেডি এবং জোকসগুলো খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। যদিও কিছু পুরনো জোকস ছিল তবুও সেগুলো দর্শকদের হাসাতে সফল হয়। জোকসগুলো ঠিক আগের মতো করে সাজানো হয়েছিল। একদিন রাগিনী কৃষ্ণ ঠাকুরের মূর্তি পরিষ্কার করছিল। বালি সেই মূর্তি দেখা মাত্রই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। এর কারণ ছিল বধুসুর ভগবান কৃষ্ণকে ভয় পেত এবং বৃক্ষিণীর যে লীলা তা শ্রীকৃষ্ণই রচনা করেছিলেন। বালি সেখান থেকে সবাইকে সরে যেতে বলছিল। কিন্তু অর্জুনের মনে হয় সে রাগিনীকে অশালীন ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই সে তাকে আবারও মারধর করে। জগদীশ এই বিষয় নিয়ে বেশ বিরক্ত ছিল। কিন্তু বালিকে কাছ থেকে দূর করা সম্ভব ছিল না। কারণ সে প্রাসাদের সমস্ত ওয়ারিং এর বিষয়ে জানতো। এখান থেকে বোঝা যায় যে বধুসুর ঈশ্বরকে কতটা ভয় পায়। অর্জুন বাজারের দিকে প্রিয়াকে দেখতে পায়। যে হঠাৎ করে শাড়ি পড়ে এসেছিল। প্রিয়া অবাক হয়ে যায় যে এত ভিড়ের মধ্যে অর্জুন তাকে কিভাবে চিনল? তবে সে খুশিও হয়। প্রিয়া বলে, বধুসুরের মন্দিরের গল্প হয়তো ভুল। কারণ সে কোন মন্দির খুঁজে পায়নি। তবে তারা দুজন খুব শীঘ্রই আবারো দেখা করার পরিকল্পনা করে। এদিকে রাতে বাল্লি পজেস্ট অবস্থায় হঠাৎ রাগিনীর ঘরের দিকে উঁকি দিতে শুরু করে। আসলে সে বধুসুরের সামনে মাথা নত করছিল এবং বলছিল সে তার জন্য যা কিছু করতে পারে। এই শব্দ শুনে অর্জুন জগদীশকে ডেকে আনে এবং দেখায় যে বাল্লি রাগিনীর সাথে কেমন খারাপ আচরণ করছে। কিন্তু বালি আসলে বধুসুরের নির্দেশেই চলছিল। অর্জুন জঙ্গলের রাস্তায় একজন মৃত মানুষকে দেখতে পায়। যে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। যা দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। বাল্লি পজেস্ট অবস্থায় জঙ্গলের এক গোপন জায়গায় যায়। সেখানে সে অর্জুন আর জগদীশকে বৃক্ষিণী গাছ এবং বধুসুর মন্দিরের কলস দেখায়। অর্থাৎ শীর্ষ স্থান যেইটা এইটা দেখে অর্জুন আর জগদীশ স্তব্ধ হয়ে যায়। কারণ এই গল্পটি সত্য ছিল। যদি গল্প মিথ্যে হতো তবে এই গাছ বা কলসের অস্তিত্ব থাকতো না। বৃক্ষিণী যে গাছে রূপান্তরিত হয়েছিল তার অবয়ব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল যে সেটি কোন এক নারীর ছিল। জঙ্গলটি অনেক গভীর হওয়ায় এর আগে কেউই হয়তো সেখানে যায়নি বা ভয়ে কেউ যেতে চায়নি। বার্লি বলে বধুসুর আসবে এবং সবার উপর রাজত্ব করবে। কিন্তু হঠাৎ একটা থাপ্পড় খেয়ে বার্লির হুশ ফিরে আসে। ঠিক তখনই একদল বাদুর তাদের উপর হামলা করে। বার্লি আর অর্জুন কোন মতে দৌড়ে প্রাসাদে পৌঁছালেও জগদীশ পেছনে রয়ে যায়। এই সমস্ত ঘটনা দেখে অর্জুন নিজেও চরম বিশিত হয়ে পড়ে। পরের দিন সকালে পুলিশ জগদীশকে উদ্ধার করে প্রাসাদে নিয়ে আসে। যাকে ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল ফিরে এসে সে বালি কে মারতে দৌড়ায় কারণ বালি তাকে একা ফিরে রেখে পালিয়ে এসেছিল অন্যদিকে অর্জুন শান্তারামকে মারতে যায় কারণ সে বধুসুরের গল্প শুনিয়ে সবাইকে ভয় দেখাচ্ছিল সেখানে বেশ হাস্যকর এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং আমরা জানতে পারি যে জগদীশ আসলে পরচুলা বা উইক পরে তার মাথায় আসলে চুল নেই চুল ছাড়া জগদীশকে দেখে অর্জুন তাকে চিনতেই পারছিল না অবশেষে অর্জুন প্রিয়ার দেখা পায় যার পোশাক হুট করে বদলে গিয়েছিল ছিল। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং অর্জুন এইসব মুহূর্ত তার ওয়েবক্যাম রেকর্ড করে রাখছিল। এরপর অর্জুন প্রিয়াকে সেই রহস্যময় বৃক্ষিণী গাছ এবং বধুসুর মন্দিরের কলস দেখাতে নিয়ে যায়। গাছের রাস্তার সামনে পৌঁছাতেই তারা অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করে। হঠাৎ এক ঝাঁক বাদুর তাদের উপর আক্রমণ করতে তেড়ে আসে। অর্জুন অবাক হয়ে বলে বাদুররা দিনের বেলা অন্তত এমন আচরণ করে না দেখা যায় আকাশ অন্ধকার হয়ে গেছে এবং বাদুরগুলো গোল হয়ে আকাশে উঠছে যেন তারা সূর্যকে ঢেকে দিতে চাইছে প্রিয়া অর্জুনকে সেখান থেকে পালানোর জন্য তাগাদা দেয় কারণ বধুসুর আসছে তাকে বাঁচতে হলে আলোতে যেতে হবে কারণ বধুসুর আলো সহ্য করতে পারে না ঠিক তখনই আমরা ভয়ানক বধুসুরকে দেখতে পাই তবে তাকে দেখে মনে হচ্ছিল এটি কোন মানুষ যার শরীরে বধুসুর ভর করেছে। কারণ লোকথা অনুযায়ী আসল অসুরের শরীর ছিল বিশালা আকার। আর একে দেখতে বেশ ছোটখাট লাগছিল। অর্থাৎ গল্পটি বেশ জটিল দিকে মর্নিচ্ছিল। এরই মধ্যে আমরা জানতে পারি যে জগদীশ আসলে অর্জুনকে ঠকাচ্ছিল। সে সস্তায় কাজ করি অর্জুনের কাছে 10 গুণ বেশি বিল পাঠাতো। কারণ অর্জুন ছিল বিশাল বড় প্রাসাদের মালিক। ঠিক সেই সময় অর্জুনের বাবা বাসুদেব তাকে ফোন করে প্রচন্ড বকা ঝকা শুরু করেন। তিনি জানতে চান অর্জুন কেন ওই প্রাসাদে গেল? কারণ মঙ্গলপুর গ্রামটি অভিশপ্ত। অর্থাৎ বাবা সবকিছুই জানতেন কিন্তু সময়মতো ফোন করলে হয়তো সব সমস্যায় আড়ানো যেত। যাইহোক সেখানে বিয়ে হতে চলেছে শুনে তিনি খুবই রেগে যান এবং সাফ জানিয়ে দেন এই বিয়েটা সেখানে হবে না এবং মীরা সেখানে যাবে না। কিন্তু মীরা ততক্ষণে রাহুল ও তার পরিবারের সাথে মঙ্গলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গিয়েছিল। নিজের সন্তানদের বিশেষ করে মীরাকে বাঁচাতে বাসুদেব নিজেও সেখানে যাওয়ার জন্য বের হন। কারণ আমরা জানি বিয়ের পর কনিদের সাথে সেখানে কি ভয়ানক ঘটনা ঘটে। বাসুদেব অর্জুনকে নির্দেশ দেন এখনই গঙ্গা পার হয়ে গঙ্গাপুর যেতে এবং সেখানে গুরু গোপালদাস আশ্রমের প্রধান পুরোহিতের সাথে দেখা করতে। পুরোহিত অনুমতি দিলেই কেবল এই বিয়ে হতে পারে। অর্জুন পুরোহিতের সাথে দেখা করলে তিনি জানান যে বধুসুর কোন কাল্পনিক গল্প নয় এবং এক ভয়াবহ সত্য। তিনি বলেন একটা শয়তানি গোষ্ঠী বধুসুরকে ফিরিয়ে আনতে চায়। 13 জন কুমারী কোনেকে বলি দিয়ে বধুসুর পুনরায় জীবন ফিরে পাবে। অর্থাৎ এমন কোনে যাদের বিয়ে হয়েছে কিন্তু সংসার শুরুই হয়নি। বধুসুর বিয়ের পরেই তাদের তুলে নিয়ে যেত। এখন বোঝা গেল যে সেই নিখোঁজ কোনেদের ভাগ্যে আসলে কি করত? তারা কেউই বেঁচে থাকতো না। বৃক্ষিণীর সাথে প্রেমে যে আঘাত বধুসুর পেয়েছিল সেই শক্তিকে ব্যবহার করেই সে পুনর্জীবিত হতে চায়। সে অমর ঠিকই কিন্তু তার শরীর ফিরে পেতে এই বলি প্রয়োজন। অর্জুনের পরিবার অর্থাৎ রাজা পৃথিরাজের বংশের উপর দায়িত্ব ছিল মন্ত্রের শক্তিতে এই অসুরকে আটকে রাখা। অর্জুনের ঠাকুর দা দুঃসন্ত দীর্ঘকাল ধরে এটাই করে আসছিলেন। পুরোহিত জানান, দুশান্তের মতানুসারে বিয়ে হওয়া সম্ভব ছিল। কারণ পুনর্জীবিত হওয়ার বিষয়টি হয়তো শুধুই গল্প। কিন্তু যদি তা গল্পই হবে তবে কোনেরা কেন উধাও হচ্ছে? এই রহস্যভেদ করতে পুরোহিত তার সহকারী পন্ডিত রামমোহনকে প্রাসাদে পাঠান। তিনি দেখতে চান প্রাসাদের ভেতরে কোন অশুভ শক্তি আছে কিনা। পন্ডিত যখন পবিত্র মাটি নিয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করেন এবং অশুভ শক্তি খুঁজছিলেন তখন পূজার ঘরের দরজার ফুটো দিয়ে তাকাতেই এক অদৃশ্য অশুভ শক্তি তাকে ছিটকে দূরে ফেলে দেয়। বোঝা যায় সেখানে এমন কিছু আছে যার ভয়ে এই ঘর কখনো খোলা হয়নি। পন্ডিত খুবই ঘাবড়ে যান এবং সন্ধ্যা হওয়ার আগেই সেখান থেকে ফিরতে চান যাতে পুরোহিতকে নিয়ে আসা যায়। তিনি নির্দেশ দেন পূজার ঘরসহ পুরো প্রাসাদে যেন প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হয়। কারণ বধুসুর আলো বা পবিত্র আগুনের কাছে আসতে পারে না।

সবাই সেইটাই করতে শুরু করে। পুরো পরিস্থিতি দেখে অর্জুন নিজেও খুবই ভয় পেয়ে যায় এবং সে নিজে পন্ডিতকে পৌঁছে দিতে রওনা হয়। কিন্তু তখনই আমরা দেখি এক ব্যক্তি নিজের শক্তি দিয়ে সূর্যকে ঢেকে দিচ্ছে। যা নিশ্চিতভাবে বধুসুরের শক্তি ছিল। অন্ধকার হয়ে যাওয়ার ফলে বধুসুরের মায়াবী ক্ষমতায় অর্জুনের গাড়ির সামনে একটা গাছ ভেঙে পড়ে। কারণ এই অশুভ শক্তি চাইছিল না যে এই খবর পুরোহিত মশাই পর্যন্ত পৌঁছাক। এখন তাদের বাঁচার একটাই রাস্তা ছিল। আর তা হলো সেই মন্দির। শিবের সেই মন্দির যেখানে অর্জুন প্রথমবার মাথা ঠুকিয়ে প্রণাম করেছিল। তারা দুজনেই এখন সেদিকে দৌড়ে পালায়। কিন্তু তখনই একটা লোহার ত্রিপল এসে সজোরে পন্ডিতের গলায় লাগে এবং তার গলা কেটে যায়। অর্জুন মন্দিরের কাছে বাবার মূর্তির কাছে থাকায় বেঁচে যায় কিন্তু পন্ডিতজি নিজেকে বাঁচাতে পারেননি। এরপর অর্জুন পুলিশের সাথে রাজপ্রাসাদে পৌঁছায়। যেখানে আশ্রমে পন্ডিতজির মৃত্যুর খবর আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। অর্জুন ভীষণ আতঙ্কিত ছিল। তবে পুলিশ মনে করছিল যে খারাপ আবহাওয়ার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। যা এলাকায় খুব সাধারণ ব্যাপার। প্রাসাদের ভেতর ঢোকার সাথে সাথেই সব প্রদীপ নিভে যায় এবং অর্জুন একটা হাতুড়ি নিয়ে পূজার ঘরটি ভাঙ্গার চেষ্টা করে। কিন্তু তখনই সেখানে বধুসুর আবির্ভূত হয় এবং অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অর্জুনের উপর বারবার আক্রমণ করতে থাকে। অর্জুন কখনো নোকিয়া ফোনের আলো দিয়ে আবার কখনো ফ্রিজের আলো ব্যবহার করে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে প্রাসাদের বাইরে বধুসুর তাকে প্রায় মেরেই ফেলত। কিন্তু জিমের ভেতরে গাড়ির চাবি থাকায় সে রিমোট দিয়ে গাড়ির লাইট জ্বালিয়ে দেয় এবং সেই আলোতে বেঁচে ফেলে। অর্জুন সারারাত গাড়ির ভেতরেই ঘুমিয়ে কাটায়। পরের দিন সকালে জগতই শেষে তাকে জাগিয়ে তোলে। অর্জুনের পিঠে আঁচরের গভীর দাগ দেখে সে নিশ্চিত হয় বধুসুর এবং শান্তারামের বলা গল্পগুলো পুরোপুরি সত্যি ছিল। অর্জুন তখন তার বাবাকে ফোন করে যিনি তখন ট্রেনেই ছিলেন। অর্জুন বলে বাবা তুমি ঠিকই বলেছ। এই বিয়েটা বাতিল করতে হবে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই মীরা এবং রাহুল তাদের পরিবারসহ পৌঁছে যায় সেখানে। স্বাভাবিক ভাবেই তখন বিয়ে বাতিল করা অসম্ভব ছিল। তাই বিয়ের তর্জোর আবারও শুরু হয়। মনে হচ্ছিল যেন সবকিছু একটা সুপরিকল্পিত চাল। যাতে মীরা এখানেই এসেই বিয়ে করে। অর্জুনের বাবা ভাবেন যে যদি বিয়ে করতেই হয় তবে গঙ্গা পার হয়ে ওপারে করা যেতে পারে। কারণ সেখানে বধুসুরের শক্তি কাজ করে না। কিন্তু এই পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়। কারণ মীরা ও রাহুলের পরিবারকে এটা বোঝানো অসম্ভব ছিল যে কেন প্রাসাদের ভেতরে বিয়ে করা যাবে না। এরপর অর্জুনের বাবা গঙ্গাপুরে পুরোহিত মশাইয়ের সাথে দেখা করতে যান। এবং অর্জুনও তার সাথে যায়। পুরোহিত মশাই বলেন যে বিয়েতে তো কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ দুঃসন্ত বাবুর উপস্থিতিতে কখনো এমনটা ঘটেনি। তাহলে হঠাৎ করে এসব কেন হচ্ছে? তার সন্দেহ ছিল যে কেউ জেনে শুনে বধুসুরকে জাগিয়ে তুলেছে। কিন্তু মীরার জীবন নিয়ে কেউই ঝুঁকি নিতে চায় না। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে মীরার বিয়ে দিনের বেলাতেই সম্পূর্ণ করা হবে।

আর সন্ধ্যা হওয়ার আগেই গঙ্গা পার করে তাকে ওপারে নিয়ে যাওয়া হবে। এতে বধুসুর আর ক্ষতি করতে পারবে না। পুরোহিত মশাই নিজেই সেখানে যজ্ঞ ও মন্ত্র উচ্চারণ করে তাদেরকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করবেন। তবে তার জন্য সেই বন্ধ পূজা কক্ষটি খোলা প্রয়োজন ছিল। যার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব পড়ে বাসুদেব এবং অর্জুনের উপর। অর্জুন ও বাসুদেব চলে যাওয়ার পর পুরোহিত মশাই তার জাদুকরী কুঁড় করি দিয়ে জানতে পারেন যে ইতিমধ্যে 12 জন বধু বলি হয়েছে। এবং 13 নাম্বার বলি হবে মীরা। এইটা জেনে তিনি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েন। এদিকে অর্জুন সেই ব্যক্তির কাছে চাবি চাইতে যায় যার কাছে দুশান্ত বাবু পূজা শেষ করে সবসময় চাবি রেখে আসতেন। কিন্তু সেই লোকটি আসলে ছিল দুশান্ত বাবুর কেয়ারটেকার এবং সে চাবি দিতে অস্বীকার করে। তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং অর্জুন লোকটির পা ভেঙে দেয়। তখনই সেখানে বাসুদেব এসে পৌঁছায় এবং ওপর থেকে কেউ একজন তাদের উপর গুলি চালায়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে দেখা যায় সেই ব্যক্তিটি স্বয়ং দুঃসন্ত। অর্থাৎ তিনি মারা যাননি বেঁচেই ছিলেন তিনি নিজের মৃত্যুর নাটক করেছিলেন মাত্র বাসুদীব তাকে গুরুজি বলে সম্বোধন করে কেন একজন ছেলে তার বাবাকে গুরুজি বলবে দুশান্ত শুধু একটি কথাই বলেন তারা যেন এখান থেকে চলে যায় কারণ তিনি শুধু তার ছেলেকে বাঁচাতে চান এটি শুনে অর্জুনও স্তম্ভিত হয়ে যায় এখন অর্জুন পুরোহিত মশাই ও বাসুদেবের সামনে জানতে চায় আসলে রহস্যটা কি এবং এখানে কি ঘটছে তখনই কাহিনীর আসল জট খুলতে শুরু করে আসল ঘটনা হলো দুশান্ত বাবু এই প্রাসাদে একটা আশ্রম চালাতেন যেখানে অনেক শিক্ষা দেওয়া হতো। সেখানেই তার দুজন শিষ্য ছিল। একজন বাসুদেব এবং অন্যজন তার নিজের ছেলে মাধব। লক্ষ্য করার বিষয় হলো অর্জুন দেখতে হুবহু মাধবের মতোই ছিল। একদিন তাদের আশ্রমে নাচ শেখানোর জন্য যশোদা নামের এক তরুণী আসে। এখান থেকেই একটা ত্রিকোণ প্রেমের সৃষ্টি হয়। বাসুদেব এবং যশোদা একে অপরকে ভালোবাসতো। কিন্তু মাধব ও যশোদার প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। এখানে আসলে কোন সাধারণ ত্রিকোণ প্রেমের গল্প নেই। বলা ভালো যে মাধব যশোদার প্রেমে পাগল ছিল। তখন দুঃসন্ত মাধব এবং বাসুদেবকে কিছু মন্ত্র উচ্চারণ করতে শেখাচ্ছিলেন। কিন্তু যশোদার দিকে তাকিয়ে মাধব এতটাই বিচলিত হয়ে পড়ে যে সে ভুল মন্ত্র উচ্চারণ করতে শুরু করে। ঠিক একই ভুল শুরুতে অর্জুনও করেছিল। এই ভুলের কারণে দুঃশন্ত তাকে প্রচন্ড বকাঝকা করেন এবং পূজা কক্ষে নিয়ে গিয়ে একটা আধুনিক যন্ত্র দেখান। দুশান্ত জানান, আগে তার পূর্বপুরুষরা এখানে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নিরবিচ্ছন্নভাবে মন্ত্র পাঠ করতেন। কারণ এখানকার ধ্বনি সরাসরি বধুসুরের মন্দিরে পৌঁছায় যা তার শক্তিকে অবদমিত রাখে এবং তাকে শান্ত রাখে। কিন্তু কিছু মানুষ এই মন্ত্রগুলোই উল্টোভাবে উচ্চারণ করে বধুসুরকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। এই কারণেই মাধব যখন ভুল উচ্চারণ করছিল তখন তিনি অতটা রেগে গিয়েছিলেন। পন্ডিতদের পক্ষে সারারাত ধরে মন্ত্রপাঠ করা প্রায় অসম্ভব ছিল। কারণ যুগের পর যুগ এভাবে জেগে থাকা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই তারা এই বিশেষ যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন। যার ফলে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে মন্ত্র উচ্চারিত হতে থাকে। এতে বধুসুর আর ফিরে আসতে পারে না। এবং এইটাই তাদের বংশের প্রধান দায়িত্ব। মাধব যখন জিজ্ঞেস করে যে এই কাজ কি অনন্তকাল ধরে করতে হবে? তখন দুষ্টান্ত বলেন, না যদি টানা ৩৬ হাজার পূর্ণিমা পর্যন্ত এই মন্ত্রপাঠ চলতে থাকে তবে বধুসুর চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আর কখনো ফিরে আসবে না। অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার বছর এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। আরো একটা বিষয় হলো যদি কেউ বধুসুরকে জাগিয়ে তোলে তবে সে সেই ব্যক্তির সব ইচ্ছা পূরণ করবে ঠিকই। কিন্তু বিনিময়ে ওই মানুষটি চিরদিনের জন্য বধুসুরের দাসে পরিণত হবে। তাই এই প্রথা ভাঙ্গা বা ভুল মন্ত্র উচ্চারণ করা অত্যন্ত বিপদজনক। প্রতিবছর রাজপ্রাসাদে একটা নাটকের আয়োজন করা হতো। যেখানে বৃক্ষিণী ও বধুসুরের কাহিনী দেখানো হতো। যশোদা সেজে ছিলেন বৃক্ষিকিনিী আর মাধব হয়েছিলেন বধুসুর। অনুষ্ঠানে নাচ গান চলাকালীন যশোদা হঠাৎ পড়ে যাচ্ছিলেন।

ঠিক তখনই গায়ক বাসুদেব তাকে ধরে বাঁচিয়ে নেয়। এরপর দুঃসন্ত যশোদার পরিবারের সম্মতিতেই সবার সামনে বাসুদেবের সাথে যশোদার বিয়ে ঠিক করে দেন। এই দৃশ্য দেখে মাধবের মাথা খারাপ হয়ে যায়। সে আগের মাথায় পূজো কক্ষে গিয়ে যন্ত্রটিকে উল্টো চালিয়ে দেয়। এর ফলে মাধব এক প্রকার অশুভ শক্তির দ্বারা আবিষ্ট হয়ে পড়ে। দুঃশান্ত যখন এটি লক্ষ্য করেন তিনি প্রচন্ড ভয় পেয়ে যান। কারণ নিজের ছেলের মধ্যেই তিনি বধুসুরের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছিলেন। তিনি মাধবকে অনুরোধ করেন যেন বধুসুরকে না জাগায়। বিনিময়ে যশোদাকে তার হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরের দিনই দুঃসন্ত বাসুদেবের কাছে গুরুদক্ষিণা হিসেবে দাবি করেন যে তাকে যশোদার মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে। কারণ মাধব তাকে ভালোবাসে। তিনি আরো শর্ত দেন যে এই ত্যাগের কথা যেন কেউই কখনো জানতে না পারে। গুরুকে দেওয়া কথা রাখতে বাসুদেবের বুক ফেটে কান্না এলেও ওই রাতেই মঙ্গলপুর ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যাওয়ার আগে যশোদার চোখে নিজেকে অপরাধী প্রমাণ করতে তিনি বলেন যে তিনি আসলে তাকে কেবল ব্যবহার করেছিলেন এবং এই বিয়েতে তার কোন বিশ্বাস নেই। যশোদাইতে ভীষণ ভেঙে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মাধবীর সাথেই তার বিয়ে হয়ে যায়। মাধবের ইচ্ছা পূরণ হলেও বিয়ের পর বাসর রাতে যশোদার ঘুম ভেঙে যায় এবং তিনি দেখেন মাধব ঘরে নেই। পূজা কক্ষে গিয়ে তিনি দেখেন মাধবকে বধুসুর পুরোপুরি গ্রাস করে নিয়েছে। মাধব এখন তার দাসে পরিণত হয়েছে এবং তার চেহারাও বিভৎস হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে দুঃসন্ত পুত্রস্নেহে অন্ধ হয়ে বধুসুরকে বলতে থাকেন যে তিনি যে কোন কিছুর করতে রাজি। শুধু যেন তার ছেলেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই নরকীয় দৃশ্য দেখে যশোদা ভয়ে পালিয়ে গিয়ে বাসুদেবের কাছে আশ্রয় নেন। যিনি তখন গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন। এরপর যশোদা ও বাসুদেব মঙ্গলপুর ছেড়ে পালিয়ে লন্ডনে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। যেখানে গিয়ে যশোদা জানতে পারেন যে তিনি গর্ভবতী এবং অর্জুন আসলে মাধব ও যশোদারই সন্তান। সে আসলে বাসুদেবের সন্তান নয়। অন্যদিকে বাসুদেব দুষন্তের নিজের সন্তান নন। বরং মাধবী ছিল আসল উত্তরাধিকারী। অর্থাৎ এই প্রাসাদের প্রকৃত দাবিদার অর্জুন নিজে। মীরা নয়। দুঃসন্ত জানতেন যে তার ছেলে বধুসুরের কবলে বন্দী। তাকে মুক্ত করার জন্যই তিনি এই দীর্ঘ পরিকল্পনা করেছিলেন। বর্তমান সময়ে অর্জুন বলে শুধু জন্ম দিলে কেউ বাবা হয়ে যায় না এবং সে বাসুদেবকেই নিজের বাবার মর্যাদা দেয়।

 

অবশেষে পুরোহিত বলেন, এসবই আসলেই দুঃসন্দের সাজানো নাটক। তিনি নিজের মৃত্যুর ভান করেছিলেন এবং মীরার নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে সবাইকে এখানে ডেকে এনেছিলেন। মূলত মীরাকে 13 তম কোণ হিসেবে বলি দেওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য। যাতে বধুসুর চিরতরে মুক্ত হয় এবং মাধব তার দাসত্ব থেকে মুক্তি পায়। এতদিন ধরে পজেস্ট হয়ে মাধব মহলের ভেতরে ঘুরছিল এবং সে পুরো কক্ষের ভেতরে ছিল। তাই সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। কারণ সেখানে অশুভ শক্তির প্রভাব এবং নেতিবাচক মন্ত্র উচ্চারিত হচ্ছিল। প্রকৃতপক্ষে বৃক্ষিণীর গাছের ভেতর থেকে যে বেরিয়ে এসেছিল সেও ছিল বিভ্রান্ত মাধব। যে অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন আমরা জানি যে এখানে আসলে কি ঘটেছিল। তো পুরোহিত মশাই মীরার বিয়ের সময় দিনে ধার্য করেছিলেন। কিন্তু রাহুলের বাড়ির মহারাজ বিয়ের লগ্ন ঠিক করেছিলেন রাত 8:20 মিনিটে। এখন বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কারণে তাদের রাতেই বিয়ে সম্পূর্ণ করতে হয়। কারণ মীরা কিছুতেই মানছিল না। এরপর পজেস্ট হওয়া বাল্লি জেনারেটর বন্ধ করে দেয়। যার ফলে পুরো মহলে অন্ধকার নেমে আসে। বিয়ে ততক্ষণেই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে কেন দুশান্ত এই মহলের ভেতরে কখনো বিদ্যুতের তারের কাজ করাননি। কারণ তার পজেস্ট হয়ে থাকা ছেলের সমস্যা হতো। এখন আর কি করার ছিল? বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বধুসুর মীরাকে বন্ধ ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। যদিও তার ভাই তার সুরক্ষার জন্যই তাকে সেখানে আটকে রেখেছিল, কিন্তু অর্জুন এখন তার বোনকে বাঁচাতে যায়। 12 জন মৃত কোনের আত্মা ইশারায় অর্জুনকে পথ দেখিয়ে দেয় যে মীরা কোথায় আছে। মহলে থেকে অর্জুন এবং পুরোহিত মশাই পুজো কক্ষের দরজা ভেঙে ফেলেন। সেখানে অর্জুন শেষ কোনেকে দেখতে পায়। যে আশ্চর্যজনকভাবে দেখতে একদম প্রিয়ার মতো ছিল। সে ইশারায় জানায় যে বধুসুরের মন্দিরের ভিতরেই মীরা আছে। অর্থাৎ সেই মেয়েটি কখনো প্রিয়া ছিলই না। বরং সে ছিল তার জমজ বোন। সেই কারণেই সে হঠাৎ করে আবির্ভূত হয়েছিল। তবে অনেকেই হয়তো এই জায়গাটা আগেই বুঝে ফেলেছিলেন। তো অর্জুন ভেতরে যায় যেখানে একটা বৃত্তের মধ্যে 12 জন কোনেকে বসিয়ে বলি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাদের কঙ্কালগুলো লাল শাড়ি পড়া অবস্থায় পড়েছিল এবং মীরা হতে চলেছিল 13 নম্বর কোণে। যাকে হ্যালুসিনেট করে সেখানে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তারও বলি দেওয়া হবে। ঠিক তখনই অর্জুন তার নিজের পিতা মাধবের উপর আক্রমণ করে। তাদের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়। কিন্তু অর্জুন তার পিতার শক্তির কাছে হেরে যায় এবং বৃক্ষিণী গাছের হাতের কাছে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। যখন বলে দেওয়ার চূড়ান্ত সময় আসে তখন বাসুদেব এবং পুরোহিত মশাই যন্ত্রটি চালু করে মন্ত্র উচ্চারণ শুরু করেন। এতে মাধব এবং দুঃসন্তের অসুবিধা হচ্ছিল এবং তারা বলে দিতে পারছিল না। ঠিক তখনই অর্জুন বৃক্ষিণী গাছের আঙ্গুল ধরে উঠে দাঁড়ায় এবং চিৎকার করতে থাকে। এখানে অর্জুন আর তার সারথী হয়ে শ্রীকৃষ্ণ বা বিষ্ণু আসবেন না তা তো হতে পারে না। তাই ভগবান বিষ্ণু তাকে শক্তি দেন এবং বৃক্ষিণী গাছ থেকে একটি বিদ্যুৎ তরঙ্গ অর্জুনের শরীরে প্রবেশ করে। এরপর সে বৃক্ষিণী গাছের আঙ্গুলটি ভেঙে সরাসরি মাধবের শরীরে ঢুকিয়ে দেয়। যাতে মাধব মারা যায় এবং বধুসুরের আছরও শেষ হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় কথা হলো নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে যে বধুসুরের বর্দান ছিল যে কেবল সে নিজে অথবা তার নিজের অংশই তাকে ধ্বংস করতে পারবে। তাই পরোক্ষভাবে অর্জুন ছিল বধুসুরেরই সন্তান। 36 হাজার পূর্ণিমার মধ্যে মাত্র দুটি বাকি ছিল এবং তার আগেই বদ সম্পন্ন হল। কিন্তু বধুসুরকে জাগানোর জন্য যে যজ্ঞ করা হচ্ছিল তার ফলে তাকে বাইরে আসতে দেখা যায়। সে দেখতে অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল এবং সেই ছিল আসল বধুসুর যে এখন শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল। কারণ বলি পূর্ণ হয়নি। তবুও দুঃসন্ত বলি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু অর্জুন তার মাথায় কুঠার দিয়ে আঘাত করে। ফলে সে নিজেই যজ্ঞের আগুনে পড়ে ভস হয়ে যায়। এর ফলে অর্জুন ও মীরা বেঁচে যায় এবং পুরো মন্দিরটি ধসে পড়তে শুরু করে। মূলত এটি ছিল বধুসুরের সমাধি যা ভেঙে পড়ছিল। এরপর তারা দুজনেই সেই জায়গায় চলে আসে যেখানে পূজাকক্ষ ছিল।

 

কারণ রাস্তাগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত ছিল। সেখানে অর্জুনের বাবা মীরাকে অনুরোধ করেন, সে যেন এই ঘটনা কাউকে না জানায় এবং এটাকে একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যায়। এই ভাবে বধুসুরের বিনাশ ঘটে এবং অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয় আবারও প্রমাণিত হয় পরদিন মীরার বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় কারণ বিয়ে তো আগেই হয়ে গিয়েছিল কিন্তু অর্জুন রাহুলের পাশে সেই মহারাজকে একাকি একটা জায়গায় নিয়ে গিয়ে উত্তম মধ্যম দিয়ে বোঝায় সবকিছু কষ্টি বা ভাগ্য দিয়ে হয় না পরিশ্রমও করতে হয় তবে রাহুল এবং তার বাড়ির লোকজন অনেক বেশি টক্সিক ছিল এরপরে চমকপ্রদভাবে রাহুল জানতে পারে যে প্রিয়ার তো সেই প্রপোজ এবং গান গাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছুই মনে নেই আর সবচাইতে বড় কথা হলো প্রিয়া বিবাহিত। তবে সে রাহুলকে পছন্দ করে। যদি বিয়ে না হতো তবে সে নিশ্চিতভাবে রাহুলকেই বিয়ে করতো। এখানে প্রিয়া তার আসল সত্য প্রকাশ করে। সে বলে এখানে মূলত তার জমজ বোনকে সে খুঁজতে এসেছিল এবং সে কোন লেখকও নয়। লেখক ছিল তার বোন না। যাকে কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মৃতদেহ মেলেনি। এখন তো আমরা জানি আসলে তার সাথে কি হয়েছিল। এদিকে অর্জুন অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে দুলতে দৌড়ে গিয়ে নিজের ভিডিও রেকর্ডিং চেক করে। যেখানে দেখা যায় সে একাই নাচছিল। অর্থাৎ সে আসলে একটা ভূতের প্রেমে পড়েছিল এবং সম্ভবত চিত্রাও তাকে ভালোবাসতো। কারণ চিত্রা বেঁচে থাকতে সেই ভালোবাসার সুখ পায়নি। যা সে মারা যাওয়ার পর পেয়েছিল। এরপরই সিন একদম মুভির শুরুর দিকে অর্থাৎ বর্তমান সময়ে নিয়ে আসা হয়। যেখানে সেই বাবা বা সাধু ওই চার যুবককে গল্পটি শোনাচ্ছিলেন। তিনি জানান, অর্জুন কখনো ফিরে আসেনি। সে গত 24 বছর ধরেই এখানে অবস্থান করছে এবং নিজের বাবা মাধবের আত্মার মুক্তির জন্য পূজা করে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে ট্রেন চলে আসে এবং ওই চার যুবক সেখানে যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। তখনই আমাদের সামনে এক চমকপ্রদ সত্য উন্মোচিত হয়। এই সাধু আসলে অন্য কেউ নন স্বয়ং অর্জুন। অর্থাৎ সে এখান থেকে কোথাও যায়নি। সে কেবল এটাই বলে যে পৃথিবীতে অনেক ধরনের ভূত থাকে। তাহলে কি সে নিজেও একজন ভূত? নাকি ওই চারজন যুবকই ভূত ছিল। হয়তো কখনো ভূত বাংলা টু আসবে। আর তখনই সবকিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তবে অর্জুন শেষ সময় পর্যন্ত তার বাবার আত্মার শান্তির জন্য পূজা চালিয়ে যায়। আর এর মাধ্যমেই শেষ হয় ভূত বাংলা মুভিটি। তাহলে কি ভূত বাংলার মধ্য দিয়ে পুরনো অক্ষয়কে খুঁজে পেলেন? অক্ষয় কুমারের অভিনয় কিন্তু বেশ ভালো ছিল। রাজপাল যায়াদবের সাথে তার কেমিস্ট্রি ছিল খুবই উপভোগ্য। যা সবসময় করে আসতো। কমেডি হরর সিনেমা হিসেবে গল্পটা উপভোগ্য। আপনার কেমন লেগেছে তা জানিয়ে দিন কমেন্ট বক্সে।

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.