গিনির এক ব্যক্তি মামাদৌ লামরানা বাহ। দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক অসুস্থ তিনি। নিজের দেশে চার বছর ধরে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু কোনো উপকার মেলেনি। অবশেষে সিয়েরা লিওন-চীন মৈত্রী হাসপাতালে গিয়ে আশার আলো দেখলেন তিনি। সেখানে মারাত্মক হৃদরোগ ধরা পড়ে তার। আর সেখানেই চিকিৎসার পর মামাদৌর শারীরিক অবস্থা এখন উন্নতীর পথে।
তিনি বলেন, ‘খুব খারাপ অবস্থায় আমি এখানে পৌঁছাই। আমার বুকের ভেতরটা অনেক শক্ত মনে হতো, পেটটাও বেশ স্ফীত হয়ে গেছিল। এক সপ্তাহেরও কম সময় ধরে এখানে এসেছি। আসার পরই তারা আমাকে ওষুধপত্র দিয়েছেন। এখন আমি অনেক ভালো। সব ধরনের ব্যথা চলে গেছে। আমি ঘুমাতে পারতাম না, কিন্তু এখন আমি ঘুমাই। খেতে পারতাম না, এখন আমি তা করতে পারছি। তাদের চিকিৎসা খুবই ভালো।‘
২৭তম চীনা মেডিক্যাল মিশনের একজন অধ্যাপক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শেং চিয়ে বলেন, ‘যখন তিনি আমার কাছে এলেন, আমি পরীক্ষা করে তার অবস্থা বিস্তারিত বললাম। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তার অবস্থা গুরুতর। তাকে চিকিৎসায় সুস্থ করে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে। চিকিৎসার পর তিনি এখন আমাদের কাজে খুব সন্তুষ্ট।‘
বাহের ছেলে আবুবাকার বাহ সিয়েরা লিওনেই থাকেন। তিনি জানান, তার বাবার এই অসুস্থতা গোটা পরিবারকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছে। গিনিতে চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর এক বন্ধুর পরামর্শে তারা তাকে সিয়েরা লিওনে নিয়ে আসেন।
তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে আসার পরই আমরা কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আমরা সব পরীক্ষা করে ফেলি। রিপোর্ট আসার পর বাবাকে ওষুধপত্র দেওয়া হয়। এসব ওষুধ তিনি নিয়মিত সেবন করছেন। হাসপাতালেই কয়েক দিনের মধ্যে ওষুধের ফলাফল দেখতে পাচ্ছি।‘
চীন ও সিয়েরা লিওনের মাঝে চিকিৎসা সংক্রান্ত বন্ধুত্বের নিশানা হিসেবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই সিয়েরা লিওন-চীন মৈত্রী হাসপাতাল। চীনা মেডিক্যাল মিশন ১০ হাজারেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং জরুরি সরবরাহও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাকিব/নাহার
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি।