সেপ্টেম্বর ১১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: স্ক্রিনে ভেসে উঠছে রক্তচাপের ডিজিটাল রেখা। পাশেই জরুরি টিম, নেওয়া হচ্ছে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি। তবে, এটি কোন হাসপাতাল বা বাস্তবের আইসিইউ নয়, সবই ঘটছে নিখুঁতভাবে তৈরি যান্ত্রিক কিংবা ভার্চুয়াল শরীরে।
চীনজুড়ে সম্প্রতি শেষ হলো চিকিৎসাভিত্তিক সিমুলেটর ও হেলথ সেন্সর প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্ব। হুনান প্রদেশের ছাংশা শহরে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রায় আড়াইশ টিম। লক্ষ্য একটাই—চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন উদ্ভাবনকে বাস্তবক্ষেত্রে চিকিৎসায় রূপান্তর করা।
প্রতিযোগী হুয়াং লি বলেন, ১উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর মতো চিকিৎসাজনিত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এই অনুশীলনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করতে পারি। এই সিমুলেটরগুলো প্রকৃত চিকিৎসা সরঞ্জামের সাথেও সংযুক্ত হয়ে কাজ করতে সক্ষম।’
আরেক প্রতিযোগী তে সুসু জানান, ‘মহড়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। এখানে শুধু ব্যক্তিগত জরুরি সাড়াদান দক্ষতা নয়, দলগত ক্লিনিক্যাল চিন্তাভাবনাকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দলের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়েরও অনুশীলন করা হয়। এর মাধ্যমে পুরো দলের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ে।’
মেডিকেল সিমুলেটর হল এমন বিশেষ প্রযুক্তি যা মানবদেহের অঙ্গসংস্থান ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া হুবহু অনুকরণ করতে পারে। আগে এগুলো কেবল প্লাস্টিকের স্থির পুতুল হলেও এখন রূপ নিয়েছে ডাইনামিক সিমুলেটেড পেশেন্টে। কোন রোগীর ওপর কোন ওষুধের কী প্রভাব পড়ছে বা দুর্ঘটনায় আহত রোগীর শারীরিক অবস্থা মুহূর্তের মধ্যে কীভাবে বদলাচ্ছে—সবই এতে দেখা যায়।
গবেষকরা জানান, আহত বা বিষক্রীয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দলগতভাবে কাজ করতে হয়, ঝুঁকিহীন পরিবেশে সেই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এসব ডিভাইস। এটি শুধু একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত দক্ষতাই বাড়াচ্ছে না, টিমের সমন্বয়ও গতিশীল হচ্ছে।
প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে সার্জারিতেও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নতুন ল্যাপারোস্কোপিক সিস্টেমে চিকিৎসকরা এখন জটিল অস্ত্রোপচারের অনুশীলন করছেন। এই সিস্টেমে রক্তপাত, ধোঁয়া এবং লেজার স্ক্যালপেলের ব্যবহার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এই সিমুলেটর প্রযুক্তি তরুণ চিকিৎসকদের নির্ভুল প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে ঝুঁকির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
লুৎফর/ফয়সল
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি