সেপ্টেম্বর ১১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: উত্তর আফ্রিকার মিশরে এখন শুধু তপ্ত বালুকারাশি নয়, জ্বলজ্বল করছে হাজার হাজার সৌর প্যানেল। চীনের আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে আজ আশার আলো দেখছে দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ।
মিসরের নগা হামাদি অঞ্চলে রোদের তীব্রতা বেশি। অতিবেগুনী রশ্মির দাপটে এখানে টেকাই দায়। এমন চরম আবহাওয়াকেই শক্তিতে রূপান্তর করছে 'ওবেলিস্ক সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট'। প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এক হাজার মেগাওয়াটের এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে চীনা সোলার প্যানেল।
আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ এই প্রকল্পে যুক্ত আছে ২০০ মেগাওয়াট ঘণ্টার শক্তিশালী ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা।
হাইড্রোজেন ইন্টেলিজেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাওসামা ফৌজি জর্জিন হেনেইন জানান, ‘চীনা প্রযুক্তির দ্রুত সরবরাহ, সাশ্রয়ী মূল্য এবং গুণগত নিশ্চয়তা এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। সেই সাথে তারা মিসরেই যন্ত্রাংশ তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা বড় বড় প্রকল্পের খরচ অনেক কমিয়ে আনছে।’
উন্নয়নের এই ছোঁয়া শুধু মেগা প্রজেক্টেই সীমাবদ্ধ নেই, পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। শরকিয়া গভর্নরেটের আল বাসাইসা গ্রামটি তার বড় প্রমাণ। দীর্ঘদিনের ঘন ঘন লোডশেডিং থেকে এই গ্রামকে মুক্তি দিয়েছে সৌরশক্তি। যেখানে সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবহারে ১০ ডলার খরচ হতো, সেখানে চীনের সাশ্রয়ী প্যানেল বসিয়ে মাত্র ১ ডলারে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন স্থানীয়রা।
আল বাসাইসা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সোলাইমান হুসাইনি বলেন, ‘আগে সোলার প্যানেলের উচ্চ মূল্য ছিল প্রধান বাধা। কিন্তু, বর্তমানে চীনের প্যানেলগুলোর দাম কমেছে এবং মানও বেড়েছে। এখন আমাদের গ্রাহকদের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।’
অফিস থেকে শুরু করে বসতবাড়ি, চীনের প্রযুক্তি আজ বদলে দিচ্ছে মিসরের জ্বালানি খাত। সূর্যের প্রখর উত্তাপে যেখানে জনজীবন স্থবির হওয়ার কথা, চীনের হাত ধরে মিসরীয়রা সেখানে দেখছে আলোর দিশা।
লুৎফর/ফয়সল
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি