মে ১২, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যুব কবিতা উৎসবের চীন-আরব রাষ্ট্র পর্বের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার দক্ষিণ চীনের কুয়াংতোং প্রদেশের কুয়াংচৌ শহরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চীন ও ১৩টি আরব দেশের শতাধিক কবি, লেখক ও গবেষক অংশ নেন। তারা সাহিত্য বিনিময় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন। উৎসবটি ইতোমধ্যে তরুণ আন্তর্জাতিক লেখকদের মধ্যে সংলাপ ও বিভিন্ন সভ্যতা বিনিময়ে এক প্রভাবশালী মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
মে ৮ থেকে ১৭ পর্যন্ত চলা ৯ দিনের এই উৎসবে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মসূচি রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনা ও আরব কবিরা যৌথভাবে বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে ছিল লোকসংগীত 'সুসময়ের বন্দনা', 'অ্যাডোনিস ইজ অ্যান ওসমানথাস ট্রি' শিরোনামের চিত্রভিত্তিক কবিতা পরিবেশনা এবং বিখ্যাত চীনা কবিতা 'টু দ্য ওক ট্রি'র আবৃত্তি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বাইরে অংশগ্রহণকারীরা কুয়াংতোং সাহিত্য জাদুঘরসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও লিংনান সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেন।
বেইজিং ফরেন স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুয়ে ছিংকুও বলেন, 'প্রাচীনকাল থেকেই কুয়াংচৌ চীন ও আরব দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জন্য নয়, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও বহু সাফল্যের জন্য সুপরিচিত। বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শিক্ষার প্রসারে এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে শহরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।'
আগামী দিনগুলোতে কবিরা চীনের তিনটি শহর সফর করবেন। তারা কুয়াংচৌ, শেনচেন ও বেইজিংয়ে কবিতা পাঠ, একাডেমিক সংলাপ এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এই সফরসূচির লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের সামনে চীনা আধুনিকায়নের প্রাণবন্ত বাস্তবতা ও গতিশীল অগ্রযাত্রা তুলে ধরা।
চীনা লেখক অ্যাসোসিয়েশন ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক যুব কবিতা উৎসব চালু করে। এটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এর আগের সফল আয়োজনগুলোর মধ্যে ব্রিকস ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে কেন্দ্র করে বিশেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সাকিব/হাশিম
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি।