সম্প্রতি নোবেলজয়ী রসায়নবিদ মাইকেল লেভিট সিএমজিকে (চায়না মিডিয়া গ্রুপ) একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। অধ্যাপক মাইকেল লেভিট দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে ব্রিটেনে বসবাস করেন। তিনি প্রথমে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা শুরু করলেও, পরবর্তীতে বায়োকেমিস্ট্রি বা জৈবরসায়নে গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। জৈবরসায়নে কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রাথমিক প্রয়োগকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। গণনামূলক জীববিদ্যার ধারণাগত ও তাত্ত্বিক কাঠামো প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০১৩ সালে 'জটিল রাসায়নিক ব্যবস্থার জন্য বহুমাত্রিক মডেল তৈরি'র স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক লেভিট এবং তাঁর দুজন সহকর্মী নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটির সদস্য। তা ছাড়া তিনি চীনের ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের 'কমপ্লেক্স সিস্টেম মাল্টিস্কেল রিসার্চ ইনস্টিটিউট'-এর সম্মানসূচক পরিচালক।
২০১৮ সালে প্রোটিন কাঠামো পূর্বাভাস গবেষণায় শীর্ষস্থানীয় গবেষক হিসেবে তিনি চীনের সাংহাইয়ের ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে একটি আন্তঃবিষয়ক দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি পরিমাণগত জীববিদ্যা গবেষণা পরিচালনা করছেন। বর্তমানে তিনি চীনে আট বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। প্রতি বছর তিনি সংশ্লিষ্ট কোর্স পরিচালনার পাশাপাশি চীনা তরুণ-তরুণীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
অধ্যাপক লেভিট মনে করেন, চীন সরকার কর্তৃক গৃহীত ‘এআই+’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্লাস) কার্যক্রম অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। চীনে বহু সুশিক্ষিত তরুণ রয়েছেন, যারা শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত। তাঁর মতে, নবীন বিজ্ঞানীদের যথেষ্ট স্বাধীনতা ও দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তাদের ভুল করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি চীনের তরুণ প্রজন্মকে খুব পছন্দ করেন। তারা অত্যন্ত আগ্রহী, জ্ঞান অন্বেষণে অগ্রগামী, পড়াশোনায় নিবেদিত এবং সবসময় প্রস্তুত থাকে।
তিনি মনে করেন, চীনের একটি চমৎকার দিক হলো এর সুপ্রাচীন ইতিহাস। চীনের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে আগ্রহ থাকলে এর বিভিন্ন সময়পর্ব অন্বেষণ করা যায়; কারণ প্রতিটি পর্বের আলাদা বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই চীনাদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ছিল, যে কারণে তাদের প্রাচীন ও সুবিখ্যাত সব আবিষ্কার রয়েছে।
তিনি সবাইকে নিজেদের 'কমফোর্ট জোন' বা আরামদায়ক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে উৎসাহ দেন। যেমন, তিনি নিজেই চীনে আসার পর থাইচি শিখতে শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন সকালে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী একসাথে থাইচি চর্চা করেন।
সূত্র: সিএমজি বাংলা