মে ১২, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের তাইওয়ান প্রণালির উভয় পাড়ের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে তৃতীয় আন্তঃপ্রণালি চীনা সংস্কৃতি সম্মেলন শুরু হয়েছে। সোমবার বেইজিংয়ে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে চীনা সংস্কৃতির সংরক্ষণ, প্রসার ও উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুই পাড়ের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ বারের সম্মেলনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র নিয়ে একাধিক উপ-ফোরামের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রদর্শনী ও পরিদর্শনসহ নানা কার্যক্রম তো আছেই। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মা, যা প্রণালীর উভয় পাড়ের স্বদেশিদের রক্তের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত এবং দুই পাড়ের জনগণকে সংযুক্ত রাখা সবচেয়ে দৃঢ় আত্মিক বন্ধন।
চীনা সংস্কৃতির টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লিউ ছাও-শিউয়ান বলেন, 'এই সম্মেলনের মাধ্যমে সংস্কৃতির আরও বৈচিত্র্যময় ও বহুমাত্রিক চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।'
আর, চীনা লেখক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চ্যাং হংসেন বলেন, 'প্রণালি উভয় পাড়ের তরুণরা, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, যেকোনো সময় মোবাইলের বদৌলতে একই বই পড়তে, একই নাটক দেখতে বা একই গান শুনতে পারেন। তারা তাৎক্ষণিক মন্তব্য বিনিময় করতে, পর্যালোচনা লিখতে এবং নিজেদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলতে পারেন। এর মাধ্যমে চিন্তা ও আবেগের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ গড়ে উঠছে।'
সাংস্কৃতিক বিনিময় এখন দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এবং আন্তঃপ্রণালী সহযোগিতা আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর ঘোষিত ১০ দফা নীতিমালার প্রসঙ্গ তুলে চীনের কুওমিনতাং-কেএমটি’র ভাইস চেয়ারম্যান ছ্যাং চুং-খুং বলেন, ‘এই নীতিমালায় উভয় পাড়ের পারিবারিক বন্ধন ও সুন্দর জীবনচিত্র তুলে ধরা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনকর্ম প্রদর্শন ও সম্প্রচারকে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, তাইওয়ানের সমাজ এটিই দেখতে চায়। প্রকৃত তাইওয়ানের বাসিন্দা হিসেবে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে গর্বের সঙ্গে এবং স্পষ্টভাবে নিজেদের চীনা পরিচয়ও স্বীকার করা উচিত।’
সাকিব/লুৎফর
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি