চীন ও উত্তর কোরিয়ার (ডিপিআরকে) মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে দাঁড়িয়ে। দুই দেশ ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভাবনার মুখোমুখি এবং সময়ের নতুন দায়িত্ব বহন করছে বলে জানিয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।
সোমবার ও মঙ্গলবার ডিপিআরকে সফর করবেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এ সফরের আগে ডিপিআরকের সরকারি সংবাদপত্র রোডং সিনমুনে এক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ নিবন্ধে দু’দেশের সম্পর্ক ও উন্নয়ন বিষয়ে সি চিন পিংয়ের নানা মন্তব্য উঠে এসেছে। এটি সাত বছরের মধ্যে তার প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর।
চীন ও ডিপিআরকে সম্পর্ককে বজায় রাখা, সুসংহত করা এবং বিকাশ করা সবসময়ই চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা সরকারের অবিচল নীতি বলে উল্লেখ করেন সি চিন পিং। তিনি বলেন, ডিপিআরকে‘র সঙ্গে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনা করতে প্রস্তুত আছে চীন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই পক্ষের উচিত কৌশলগত যোগাযোগ আরও গভীর ও সঠিক পথে দৃঢ়ভাবে পরিচালিত করা। পাশাপাশি দুই দল ও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বিনিময়ের চমৎকার ঐতিহ্য বজায় রাখা এবং পারিবারিক সম্পর্কের মতো ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সি চিন পিং আরও বলেন, দুই পক্ষের উচিত চীন–ডিপিআরকে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তার চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকীকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। সব পর্যায়ে দলীয়, সরকারি ও সামরিক বিনিময় জোরদার করা, দুই পক্ষের অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করা প্রয়োজন।
চীন ও ডিপিআরকে তাদের নিজ নিজ জাতীয় বাস্তবতার সাথে উপযোগী সমাজতান্ত্রিক পথ অনুসরণে একে অপরকে সমর্থন, রাজনৈতিক নিরাপত্তা দৃঢ়ভাবে রক্ষা, দুই দলের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা অব্যাহতভাবে সম্প্রসারণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সি চিন পিং বহুপক্ষীয় সমন্বয় ঘনিষ্ঠ করার আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও বিচার দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, দুই পক্ষের উচিত কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করা এবং জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে গঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে গঠিত বিশ্বব্যবস্থা সমুন্নত রাখা।পাশাপাশি আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতির বিরোধিতা করা এবং সামরিকতাবাদ পুনরুজ্জীবিত করার বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করার যেকোনো পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
সূত্র: সিএমজি বাংলা