বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কোনো রাষ্ট্রই বিচ্ছিন্নভাবে পূর্ণাঙ্গ সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না; বরং পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই এখন টেকসই উন্নয়নের মূল শক্তি। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন চীনের খ্যাতনামা থিংক ট্যাংক 'শাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ' (এসআইআইএস)-এর প্রেসিডেন্ট ছেন তোংসিয়াও।
ছেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে 'ডি-গ্লোবালাইজেশন' বা বিশ্বায়ন বিরোধী প্রবণতা দেখা দিলেও দেশগুলোর মধ্যকার আন্তঃনির্ভরশীলতা এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তা, বাণিজ্য কিংবা অর্থনীতি প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশগুলোর ভাগ্য এখন একে অপরের সুতোয় গাঁথা। তবে এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে যেন কোনো দেশই 'জাতীয় নিরাপত্তার' দোহাই দিয়ে স্বার্থসিদ্ধির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
চীনের শিল্পায়নের অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে থাকা বিশেষ দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরনোকে ভেঙে ফেলার আগে নতুনকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করাই হলো টেকসই আধুনিকায়নের সঠিক পথ। চীন কেবল আধুনিক প্রযুক্তির পেছনেই ছোটেনি, বরং তাদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকেও সমানতালে আধুনিকায়ন করেছে। নতুন কোনো খাত পুরোপুরি পরিপক্ক হওয়ার আগেই পুরনো খাত বন্ধ না করার ফলে চীন বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপত্তা, নদী ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রেসিডেন্ট ছেন বিশ্বাস করেন, এসব ক্ষেত্রে চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা যেমন বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে, তেমনি বাংলাদেশের গত কয়েক দশকের উদ্ভাবনী সাফল্য থেকেও চীনের অনেক কিছু শেখার আছে। এই দ্বি-পাক্ষিক জ্ঞান বিনিময় উভয় দেশের আধুনিকায়ন প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চলতি বছর 'সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ' এমন আরও সৃজনশীল সংলাপের আয়োজন করবে বলে জানান ছেন তোংসিয়াও। ইয়ুননান ও থোংচি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এই আলোচনার পরবর্তী পর্ব চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী শাংহাইতে আয়োজনের আমন্ত্রণ জানান। সবশেষে তিনি বলেন, এই সংলাপ কেবল আলোচনার টেবিল নয়, বরং এটি দুই দেশের আধুনিকায়নের পথে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী সেতু হিসেবে কাজ করবে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা