জুলাই ২৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: বোমা নিষ্ক্রিয় করার মতো প্রাণঘাতী অভিযানে মানুষের ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সেই সক্ষমতা আরও শাণিত করতে চীনের উরুমছিতে হয়ে গেল বোমা নিষ্ক্রিয়করণ রোবট পরিচালনা প্রতিযোগিতা। বাস্তব পরিস্থিতির আদলে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিশেষ পুলিশ সদস্যরা রোবটের মাধ্যমে বিস্ফোরক শনাক্ত, উদ্ধার ও নিরাপদে অপসারণের দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
পড়ে আছে একটি সন্দেহজনক বোম সদৃশ্য বস্তু। এ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে নিরাপত্তা বাহিনী। সেটি উদ্ধারে এবারে মানুষ নয়, চলে এলো একটি রোবট। ঝুঁকিপূর্ণ বস্তুটি নিখুঁতভাবে উদ্ধার করে রাখা হয়েছে নিরাপদ জায়গায়। বাস্তবে এমনই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির অনুশীলন দেখা গেল চীনের বিশেষ পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে।
ঘটনাটি উত্তর-পশ্চিম চীনের শিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের উরুমছি শহরে। সম্প্রতি হয়ে গেল বোমা নিষ্ক্রিয়করণ রোবট পরিচালনা প্রতিযোগিতা। জাতীয় বিশেষ পুলিশ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় চীনের বিভিন্ন জায়গার বিশেষ পুলিশ সদস্যরা এতে অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা চাকা কিংবা ট্র্যাকযুক্ত রোবট ব্যবহার করে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেন এবং নিরাপদে বিস্ফোরক অপসারণের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। বাস্তব অভিযানে ব্যবহৃত কৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অনেক সময় বোমা উদ্ধার করতে গিয়ে আহত বা মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে হয় বোমা উদ্ধারকারী দলকে। সেই ভাবনা থেকেই এমন চিন্তা বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা।
শিনচিয়াং বিশেষ পুলিশ দলের প্রতিযোগী চাং হাইচুন বলেন, ‘বাস্তব পরিস্থিতিতে ভূখণ্ডের ধরন অনুযায়ী রোবট নির্বাচন করা হয়। বড় রোবট সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় ভারসাম্য হারিয়ে সামনে বা পাশে উল্টে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। অন্যদিকে, ছোট রোবট সিঁড়িতে বেশি কার্যকর এবং সহজে চলাচল করতে পারলেও ভারী বস্তু ধরার ক্ষমতা তুলনামূলক কম।’
তবে, প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে রোবটের যান্ত্রিক বাহু দিয়ে বিস্ফোরক নিখুঁতভাবে তুলে নেওয়াই ছিল প্রতিযোগিতার সবচেয়ে কঠিন ধাপ। কারণ, বাস্তব অভিযানে সামান্য ভুলও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
লুৎফর/জেনিফার
তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি