চীনে রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে ডেনিসভ, রাশিয়া-চীন শীর্ষনেতাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সাক্ষী। তাকে "চীনা জনগণের ভালো বন্ধু, পুরনো বন্ধু ও প্রকৃত বন্ধু" বলে অভিহিত করা হয়। প্রায় এক দশক সময় ধরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে, তিনি দুই দেশের সম্পর্ক "নতুন যুগের সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব" পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার সাক্ষী হয়েছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের নেতাদের প্রতিটি আলাপ-আলোচনা ও বৈঠক অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের আসন্ন চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে তিনি চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ আশাবাদ প্রকাশ করেন।
চীনের সাথে গভীরভাবে জড়িত আন্দ্রে ডেনিসভ চীনের সংস্কার ও উন্মুক্ততার সাক্ষী। ইতিমধ্যেই চীনের সাথে তার সম্পর্কের বয়স পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে। তিনি সবসময় মনে করেন, "চীনের ইতিহাস একটি অফুরন্ত ভাণ্ডার।"
২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে, আন্দ্রে ডেনিসভ দু’পক্ষের প্রায় প্রতিটি শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি শুধু চীন-রাশিয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও আস্থা বাড়াতে কাজ করেননি, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মানোন্নয়নেরও সাক্ষী হয়েছেন। চলতি বছর চীন-রাশিয়া কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ৩০তম বার্ষিকী এবং চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসূলভ বন্ধুত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী। এ প্রসঙ্গে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডেনিসভ বলেন, "রাশিয়া ও চীন দুটি বড় দেশ। আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত আছে, খুব শীঘ্রই এর ফলাফল দেখা যাবে।"
প্রেসিডেন্ট পুতিনের আসন্ন চীন সফর নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি বলেন, "আমি আশা করি, রুশ প্রেসিডেন্টের আসন্ন সফর, দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক মানসিকতা প্রদর্শন করবে। আমরা এই সফর নিয়ে অনেক আশাবাদী। সাবেক রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার পূর্ণ বিশ্বাস এই যে, এই সফরের সব কর্মসূচি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।"
(শিশির/আলিম/আকাশ)