পৃথিবীর বুক চিরে রাতের আকাশ আলো করে মহাকাশের উদ্দেশে ডানা মেললো চীনের ‘শেনচৌ-২৩’ মানবাবাহী মহাকাশযান। তিন নভোচারীকে সঙ্গে নিয়ে মহাকাশযানটির সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করলো চীন। উত্তর-পশ্চিম চীনের চিউছুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে রকেটের গর্জন ও আলোর রোশনাই ছড়িয়ে মহাকাশে পাড়ি জমানোর এই চোখ ধাঁধানো দৃশ্যটি বিভিন্ন কোণ থেকে ক্যামেরাবন্দী করেছে চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)।
রোববার বেইজিং সময় রাত ১১টা ৮ মিনিটে চিউছুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে একটি শক্তিশালী ‘লং মার্চ-২এফ’ ক্যারিয়ার রকেটের পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু করে শেনচৌ-২৩।
এবারের মিশনটি চীনের মহাকাশ ইতিহাসের বেশ কিছু নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হয়ে থাকবে। মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ কমান্ডার চু ইয়াংচু। তার সঙ্গে ক্রু হিসেবে যোগ দিয়েছেন নভোচারী চাং চিইউয়ান এবং লাই খ্য-ইং। এই মিশনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লাই খ্য-ইং। তিনি চীনের হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল থেকে মনোনীত হওয়া ইতিহাসের সর্বপ্রথম নভোচারী। তার এই অন্তর্ভুক্তি হংকংয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
এবারই প্রথম চীনের কোনো নভোচারী থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনে একটানা এক বছর অবস্থান করতে যাচ্ছেন। সাধারণত মিশনগুলোর নভোচারীরা ছয় মাস মহাকাশে থাকেন। এবার সেই সময়সীমা দ্বিগুণ করে এক বছর করার মাধ্যমে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ বসবাসের সক্ষমতা ও শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি পরীক্ষা করবে চীন।
মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রবেশের পর শেনচৌ-২৩ মহাকাশযানটি থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনের মূল মডিউল ‘তিয়ানহ্য’র রেডিয়াল পোর্টের সাথে সফলভাবে ডক করে। এর ফলে মহাকাশ স্টেশনটিতে বর্তমানে তিনটি মডিউল এবং তিনটি মহাকাশযানের বিশাল ও জটিল ত্রিমাত্রিক সমন্বয় তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন।
চীনের মানববাহী মহাকাশ কর্মসূচির ইতিহাসে এটি ৪০তম উড্ডয়ন মিশন। একই সাথে ২০২২ সালের শেষের দিকে থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনটি তার পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নমূলক ধাপে প্রবেশ করার পর থেকে এটি সপ্তম মনুষ্যবাহী মহাকাশ অভিযান।
চাঁদে মানুষ পাঠানো এবং মঙ্গল গ্রহের পর দূর মহাকাশে নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা গড়ার যে স্বপ্ন চীন দেখছে, শেনচৌ-২৩-এর সফল উৎক্ষেপণ ও দীর্ঘমেয়াদী মিশন সেই স্বপ্নের পথকে আরও মসৃণ ও সুগম করে তুললো। সূত্র: সিএমজি বাংলা।