Sunday, November 8, 2026
Live
বিশ্ব
Verified
৪ মিনিটে পড়া যাবে

চীন-বাংলাদেশসহ ১০ দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাবিতে ট্রান্স-হিমালয় সম্মেলন

সিএমজি
সিএমজি বাংলা বিভাগ
প্রকাশ: আপডেট:
চীন-বাংলাদেশসহ ১০ দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাবিতে ট্রান্স-হিমালয় সম্মেলন

শুভ আনোয়ার

ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে বদলে যাচ্ছে দেশ ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ধরন। এই পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে ট্রান্স-হিমালয় অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সামাজিক উন্নয়ন এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘৪র্থ ট্রান্স-হিমালয়ান কমিউনিকেশন অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’। রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্সের যুগে ট্রান্স-হিমালয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন শাসন’। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সিটি অব ইলেকট্রনিক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নার অধ্যাপক হান হোং। এ সময় বক্তারা জানান, ট্রান্স-হিমালয় অঞ্চলের দেশ ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগে ডিজিটাল প্রযুক্তির ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

সম্মেলনের মূল পর্বের উদ্বোধনী সেশনে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিজম এবং কমিউনিকেশন স্কুলের অধ্যাপক লু তি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের আক্ষরিক অর্থেই নিকটতম প্রতিবেশী। এশিয়া হলো বিশ্বের পাঁচটি বড় অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময়—যেখানে ভৌগোলিক, জাতিগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে। তবে, এই পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এই ব্যবধানকে সংঘাতের বদলে সহযোগিতায় রূপান্তর করতে হবে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নওশিন ফাতিমা বলেন, ‘চতুর্থ ট্রান্স-হিমালয়ান কমিউনিকেশন অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সে আপনাদের সাথে যুক্ত হতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষের তথ্য গ্রহণ ও শেয়ার করার ক্ষমতা যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে।’

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ডিজিটাল পাবলিক ডেমোক্রেসি, নেবারিং কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি কো-অপারেশ, ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড ক্রস-কালচারাল এক্সচেঞ্জ ইন দ্য ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স এরা, ইয়ুথ পার্টিসিপেশন, জেন্ডার অ্যান্ড পাবলিক এক্সপ্রেশন ইন দ্য সোশ্যাল মিডিয়া এরাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬টি সেশন হবে।

এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধনে ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রান্স-হিমালয়ান অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম সংস্কৃতিসমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এখানে রয়েছে বহু ভাষা, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান। যোগাযোগ মানে কেবল বার্তা পাঠানো নয় বরং একে অপরকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করা। আমাদের সম্মিলিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এই সম্মেলন নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘চতুর্থ ট্রান্স-হিমালয়ান কমিউনিকেশন অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সে আপনাদের সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ, নেপাল কিংবা চীনের কোনো জনপদের মানুষ হয়তো বন্যায় পরিবার রক্ষা বা জীবিকা খুঁজে পাওয়ার মতো একই সমস্যার মুখোমুখি হয়। একটি কমিউনিটি বছরের পর বছর কষ্ট করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তা অন্য একটি কমিউনিটির সময় ও অর্থ বাঁচিয়ে দিতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভঙ্গুর অর্থনীতিকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে রূপান্তর করা।’

সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ইউনিভার্সিটি অব ইলেকট্রনিক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না, চীনের কাংবা টিভি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেপালের হিমালয় টেলিভিশন। এতে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়, সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সিছুয়ান রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন, কুয়াংসি রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনসহ চীন, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের ১০০ জনেরও বেশি গবেষক, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এবং তরুণ গবেষক অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং বলেন, ‘চতুর্থ ট্রান্স-হিমালয়ান কনফারেন্স উদযাপনের এই মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চমৎকার পরিবেশ আমাদের সবাইকে একই মঞ্চে একত্রিত করেছে। আজকের এই আয়োজনে চীন, নেপাল ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে যে সব সম্মানিত প্রতিনিধি ও গবেষক অংশ নিয়েছেন, তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও বেশি অর্থবহ করে তুলেছে। মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, চীন ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো হিমালয় অঞ্চল এবং নদীমাতৃক ভূগোলের সুবাদে গভীরভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত। আমাদের পারস্পরিক উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর আরও বেশি জোর দেয়া প্রয়োজন।’

সম্মেলন চলবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত। এ সময় বাংলাদেশে গণমাধ্যম শিল্পবিষয়ক শিক্ষাসফর, “হিমালয়ের আকর্ষণ” শীর্ষক আলোকচিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনী এবং “মানবিক চীন” বিষয়ক বই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

সূত্র: সিএমজি

লেখাটি রেটিং দিন

লেখাটি আপনার কেমন লেগেছে?

সিএমজি

সিএমজি

বাংলা বিভাগ

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG) চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রধান কোম্পানি।

Featured Products

View All

আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

We are committed to accurate, well-researched, and trustworthy journalism.

Fact-Checked

Every claim is verified by our editorial team before publication.

Expert Review

Content reviewed by subject matter experts for accuracy.

Regularly Updated

We update content to reflect the latest developments.

Unbiased Coverage

We present balanced perspectives and multiple viewpoints.